সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সংযোগ স্থাপন এই স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে কি না, তা নিয়েই নতুন করে আশাবাদী রাজ্য প্রশাসন। বহুপ্রতীক্ষিত গঙ্গাসাগর সেতু (Gangasagar Bridge) প্রকল্পে ফের গতি আনতে তৎপর হয়ে উঠেছে নবান্ন (Nabanna)। মুড়িগঙ্গা নদীর (Muriganga River) উপর প্রস্তাবিত এই সেতুর জন্য ফের একবার টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্যের পূর্ত দফতর (PWD)।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগেরবার শর্তাবলীর জটিলতায় কোনও সংস্থাই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে পুরো উদ্যোগ থমকে যায়। এবার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে পরিকল্পনায়। রাজ্য সরকার আশা করছে, সংশোধিত শর্তের ভিত্তিতে এবার নির্মাণকারী সংস্থাগুলি প্রকল্পে আগ্রহ দেখাবে। একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তা জানিয়েছেন, “এই সেতু শুধু গঙ্গাসাগর মেলার সময়ে নয়, সারা বছরই দ্বীপের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের পথ খুলে দেবে। তাই প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির সময় লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী কলকাতা থেকে কাকদ্বীপ হয়ে লট-৮ পর্যন্ত পৌঁছে মুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে নৌপথে সাগরদ্বীপে যান। সেখান থেকে কচুবেড়িয়া ঘাট (Kachuberia Ghat) হয়ে বাসে করে যেতে হয় গঙ্গাসাগরের সাগরসঙ্গমে (Sagar Sangam)। এই যাত্রাপথে একাধিক গাড়ি, জলযান বদল করে পৌঁছাতে হয়, যা প্রবল পরিশ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। শুধু তা-ই নয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারা বছরই যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি সেতু নির্মিত হলে কাকদ্বীপ থেকে সরাসরি সড়কপথে সাগরদ্বীপে পৌঁছানো যাবে, যা শুধু তীর্থযাত্রীদের নয়, দ্বীপবাসীদের জন্যও হবে আশীর্বাদ স্বরূপ।
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর (3-km long bridge) মাধ্যমে দ্বীপের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে উঠবে। এতে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত হবে না, একই সঙ্গে বাড়বে পর্যটন (Tourism) ও স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও। রাজ্যের অর্থ দফতরও ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট পর্যালোচনা করেছে বলে জানা গিয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পূর্ত দফতরের একজন ইঞ্জিনিয়ার জানান, ‘এ ধরনের সমুদ্রোপকূলবর্তী অঞ্চলে সেতু নির্মাণ প্রযুক্তিগতভাবে বেশ জটিল। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়া সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “নতুন টেন্ডার ড্রাফ্টে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা রাখা হবে, যাতে তারা অংশগ্রহণে উৎসাহ পায়।” উল্লেখ্য, এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও একাধিক স্তরে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। বিশেষ করে, ‘ভারতমালা প্রকল্প’-এর (Bharatmala Project) আওতায় অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, শর্ত শিথিলের পরেও কি এবার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত আগ্রহ দেখা যাবে? গত অভিজ্ঞতায় প্রশাসনের দুশ্চিন্তা থাকলেও এবার অনেকটাই আশাবাদী নবান্ন। কারণ, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে, “এই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয় নয়, এটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা।” সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্প এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সেতু নির্মাণের এই প্রয়াস বাস্তবায়িত হলে গঙ্গাসাগর হয়ে উঠবে আরও সহজগম্য, সারা বছরের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jaiswal’s Lack of Consistency, Sunil Gavaskar Highlights Technical Flaws | যশস্বীর ধারাবাহিকতার অভাব! সুনীল গাওস্করের চোখে ধরা পড়ল টেকনিক্যাল ভুল




