Jackfruit : শরীরে বিপদ ডেকে আনতে পারে অতিরিক্ত কাঁঠাল, সতর্ক করছেন পুষ্টিবিদরা

SHARE:

লিলি চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ : রসালো, সুগন্ধি, সোনালি কাঁঠাল (Jackfruit) গ্রীষ্মকালের অন্যতম আকর্ষণ এই ফলটি নিয়ে বাঙালির আবেগের শেষ নেই। কাঁচা অবস্থায় তরকারি, আর পাকা হলে ফল দুই রূপেই সমান জনপ্রিয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা সতর্ক করছেন অতিরিক্ত কাঁঠাল খাওয়ার বিপদ নিয়ে। তাঁদের মতে, এই ফল যতই উপকারী হোক না কেন, পরিমাণে বেশি খাওয়া শরীরে বেশ কিছু মারাত্মক প্রভাবও ফেলতে পারে। পাকা কাঁঠালে থাকে প্রাকৃতিক চিনি ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজের মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ। পুষ্টিবিদ ডা. শোভনা রায় (Dr. Shobhana Roy) -এর কথায়, “পাকা কাঁঠাল খেলে শরীরে সুগারের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে যাঁরা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।” বিশেষ করে খালি পেটে বা দিনে একাধিকবার এই ফল খাওয়া হলে ব্লাড সুগারের লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। অতিরিক্ত ফাইবারের ফলে হজমের গোলযোগের সম্ভাবনাও বাড়ে। কাঁঠালে প্রাকৃতিক ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় পরিমিত না খেলে হতে পারে গ্যাস, অম্লতা, এমনকী ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. অরিন্দম গুহ (Dr. Arindam Guha) বলেন, “অনেক সময় কাঁঠাল খাওয়ার পরে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ে রোগীরা আসেন। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”

ছবি : সংগৃহীত

এই ফলের আরেকটি সমস্যা হল তার উচ্চ ক্যালোরি। এক কাপ পাকা কাঁঠালে প্রায় ১৫৫ ক্যালোরি থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। “ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পাকা কাঁঠাল ফ্যাট জমার কারণ হয়ে উঠতে পারে,” মন্তব্য নিউট্রিশন এক্সপার্ট মৌসুমী সেনগুপ্ত-এর। (Mousumi Sengupta)। তিনি জানান, “যাঁরা রোজকার ডায়েটে ফ্রুট ইনটেক রাখেন, তাঁদের উচিত কাঁঠাল নির্দিষ্ট মাত্রায় খাওয়া, এবং দুপুরের মধ্যেই খেয়ে ফেলা।”

আয়ুর্বেদের মতে কাঁঠাল উষ্ণ প্রকৃতির ফল। যার ফলে অতিরিক্ত খেলে শরীরে গরম ভাব, র‍্যাশ, এমনকী নাক দিয়ে রক্ত পড়া পর্যন্ত হতে পারে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. ঈশিতা মুখোপাধ্যায় (Dr. Ishita Mukhopadhyay) বলেন, “শরীরের প্রাকৃতিক শীতলতা নষ্ট করে দেয় কাঁঠাল, বিশেষ করে যাঁদের পিত্তদোষ বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হয়।” এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে কাঁঠাল অ্যালার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই খাওয়ার পরে মুখ বা গলায় চুলকোনি, র‍্যাশ, বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন। এই কারণে শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও যাঁরা নতুন করে এই ফল খাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জরুরি।

কাঁঠাল পাকা। ছবি : সংগৃহীত

তবে কাঁঠাল যে উপকারী নয়, এমনটা বলছেন না কেউ। কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকে কাঁঠাল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আয়রন, ও প্রচুর ফাইবার। কিন্তু সেই উপকারিতা পেতে হলে খেতে হবে পরিমিতভাবে ও সঠিক সময়ে। পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, দিনে ১–২ কাপ পরিমাণ কাঁঠাল খাওয়া যেতে পারে। দুপুরের আগে খাওয়া শ্রেয়। কারণ পরে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। কাঁচা কাঁঠাল সেদ্ধ করে রান্না করলে উপকারিতা আরও বেশি। কিন্তু তাও অবশ্যই মাত্রার মধ্যে। পাকা কাঁঠাল খাওয়ার আগে ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে রাখলে তার উষ্ণ প্রকৃতি কিছুটা কমানো যায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কাঁঠাল এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। অথবা ডাক্তারের পরামর্শে পরিমাণ নির্ধারণ করে নেওয়া ভাল। এবং কোনও অবস্থাতেই খালি পেটে কাঁঠাল খাওয়া উচিত নয়। পুষ্টিবিদ মৌসুমী সেনগুপ্ত বলেন, “কাঁঠাল যেমন সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, তেমনি মাত্রার অতিরিক্ত হলেই শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।” অর্থাৎ ফলটির প্রতি আবেগ থাকতেই পারে, কিন্তু তাতে শরীরের সুস্থতা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই দিকে নজর দেওয়া জরুরি। যাঁরা নিয়মিত ডায়েটে কাঁঠাল রাখতে চান, তাঁদের জন্য সাপ্তাহিক স্বাস্থ্যসম্মত ডায়েট প্ল্যান প্রস্তুত করা যেতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। তাই ভালর মধ্যে ভাল খুঁজে নিতে হলে প্রয়োজন মেপে খাওয়া, এটাই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Recipe : বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু ডাব চিংড়ি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন