সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : পাঁচ দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ ত্রিদেশীয় সফরে রবিবার সকালে দেশ ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সফরের সূচনা সাইপ্রাস (Cyprus) দিয়ে। তারপর কানাডা (Canada), এবং শেষে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়া (Croatia)। এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করাই নয়, পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ (G7) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বাড়তি কূটনৈতিক তাৎপর্য সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ। বিদেশ সফর শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর কর্মসূচির কথা জানিয়ে বলেন, “সাইপ্রাস, কানাডা ও ক্রোয়েশিয়া সফরে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেব। এতে ভারতের সঙ্গে এই দেশগুলির সম্পর্ক আরও গভীর হবে। বিশেষত বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রগুলিতে।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য সাইপ্রাস। সেখানে পৌঁছে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস (Nikos Christodoulides)-এর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। সাইপ্রাস ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। মোদীর কথায়, “ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে সাইপ্রাস ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সঙ্গী। এই সফর পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।” এরপরই কানাডা সফর। বুধবার পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা রয়েছে মোদীর। মূল লক্ষ্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান। যদিও ভারত জি-৭ সদস্য নয়, তবুও আয়োজক দেশের আমন্ত্রণে অতীতে যেমন অংশ নিয়েছে, এ বারও তেমনই যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, “জি-৭ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। বিশ্বব্যাপী যে সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। সেই সঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর অগ্রাধিকার, স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়গুলিও তুলে ধরার সুযোগ থাকবে।” এই পোস্টে তিনি কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্ন (Mark Kern)-কেও ট্যাগ করেন। কার্নের আমন্ত্রণেই মোদীর এই কানাডা সফর। অথচ এই আমন্ত্রণ ঘিরেই গত ক’য়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কারণ, জাস্টিন ট্রুডো (Justin Trudeau)-র সময়কালে ভারত ও কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতি ঘটেছিল। এমনকী উভয় দেশের কনসুলেট স্তরেও নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল।কিন্তু কার্ন ক্ষমতায় আসার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে বলেই মনে করা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কানাডার পক্ষ থেকেও বেশ ক’য়েকবার ইতিবাচক বার্তা এসেছে বলে উল্লেখ। মোদীর এই সফর সেই নতুন সম্পর্কের পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।
জি-৭ জোট মূলত বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির দেশ: আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও জাপানকে নিয়ে গঠিত। ভারত নিয়মিত সদস্য না হলেও গত ক’য়েক বছর ধরেই আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে উপস্থিত থেকেছে এই বৈঠকে। ২০২০ সালের করোনা অতিমারির বছর বাদ দিলে, বিগত পাঁচ বছরেই ভারত এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। তবে এ বারে বৈঠকের ভেন্যু কানাডা হওয়ায়, কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল ভারতের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় কূটনৈতিক বার্তাও পরিষ্কার, বিশ্বসভায় ভারত এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষ গন্তব্য ক্রোয়েশিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সদস্যদের মধ্যে অন্যতম এই দেশটির সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। পরিকাঠামো, পর্যটন ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। মোদীর ক্রোয়েশিয়া সফর সেই সম্ভাবনাগুলিকেও সামনে নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল সূত্রের মতে, সমগ্র সফরজুড়েই মোদীর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বন্ধন দৃঢ় করা বৈশ্বিক সমস্যাগুলিতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা। এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থ তুলে ধরা। সাইপ্রাস থেকে শুরু করে কানাডা হয়ে ক্রোয়েশিয়া পর্যন্ত এই সফর ভারতের কূটনীতির পরবর্তী অধ্যায়ের সূচনা করে দেবে এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhijit Ganguly Health Update : আইসিইউ-তে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আশঙ্কা কাটেনি




