বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্পকে বিশ্বমানের উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে বড় বার্তা উঠে এল ইন্ডিয়া স্পোর্টিং গুডস ফেয়ার ২০২৬ (India Sporting Goods Fair বা ISGF 2026) -এর মঞ্চ থেকে। কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রকের (Ministry of Youth Affairs and Sports) সচিব হরি রঞ্জন রাও (Hari Ranjan Rao) শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এখনই সময় বড় করে ভাবার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার।’ উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত নতুন দিল্লির যশোভূমি (Yashobhoomi), দ্বারকায় আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের নির্মাতা, ক্রেতা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। চতুর্থ সংস্করণের এই মেলায় প্রায় ৭৫টি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করেছে, যেখানে অ্যাথলেটিক সরঞ্জাম, ব্যাডমিন্টন ও টেনিস কিট, বক্সিং গিয়ার, ক্রিকেট সরঞ্জাম, ফিটনেস ইকুইপমেন্ট, স্পোর্টস পোশাক এবং ইনডোর গেমস সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরি রঞ্জন রাও (Hari Ranjan Rao) বলেন, ‘ভারতের ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্পের জন্য এটি একটি সোনালি সময়। যদি আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় জায়গা করে নিতে চাই, তাহলে আমাদের উৎপাদন এবং রপ্তানি, দু’টি ক্ষেত্রেই বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে।’ তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার ক্রীড়া সরঞ্জাম রপ্তানি থেকে আগামী দিনে ৮০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে শিল্পক্ষেত্রে বিপুল প্রসার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এই পরিমাণ বৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে প্রতিটি নির্মাতাকে প্রায় ২৫ গুণ উৎপাদন বাড়াতে হবে। বড় লক্ষ্য না থাকলে বড় সাফল্য আসে না।’ তিনি শিল্পপতিদের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যৌথ উদ্যোগ এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের ওপর জোর দিতে বলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে এই খাতে সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন রাও। তিনি জানান, ‘ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে এই শিল্প আরও শক্তিশালী হতে পারে।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘নীতিগত সহায়তা সরকার দেবে, তবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব শিল্পক্ষেত্রের উপরই থাকবে।’ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া বিভাগের যুগ্ম সচিব ভিনীল কৃষ্ণ (Vineel Krishna), তিনি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সরকার ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন খাতকে আরও প্রসারিত করতে আগ্রহী, যাতে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারত বড় ভূমিকা নিতে পারে।’ তিনি আরও জানান, ‘আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদন সংক্রান্ত একটি নতুন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা এই শিল্পের সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।’ পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এই খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের আগ্রহ বাড়ছে তিনি বলে উল্লেখ করেন। আইএসজিএফ ২০২৬ শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং এটি ভারতের ক্রীড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উপস্থিতি এবং দেশীয় নির্মাতাদের অংশগ্রহণ এই শিল্পের বৈশ্বিক সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
রাও আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রদর্শনী ভারতেই আয়োজন করা, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণ হবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও, বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকায়। নতুন প্রজন্মের উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর চিন্তাভাবনাই এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ এই খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামো যেমন দ্রুত উন্নত হচ্ছে, তেমনই ক্রীড়া সরঞ্জাম শিল্পও সেই গতিতে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং দক্ষ শ্রমশক্তি, এই তিনটি বিষয় ভারতকে বিশ্ববাজারে এগিয়ে রাখছে। এই মেলার মাধ্যমে দেশীয় নির্মাতারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় এবং নতুন বাজারের সন্ধানও মিলছে। উল্লেখ্য, ভারতকে বিশ্ব ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, আইএসজিএফ ২০২৬ সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Chhattisgarh road network, rural road development | ২৫ বছরে সড়ক উন্নয়নে ব্যাপক উন্নতি ছত্তিশগড়ে: ৪৮ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা থেকে অর্থনৈতিক করিডর, উন্নয়নের নতুন মানচিত্র




