Indian volleyball team, Upasana Gill, Indian Embassy rescue | নেপাল অশান্তির মাঝে ভারতীয় ভলিবল দলকে উদ্ধার করল ভারতীয় দূতাবাস

SHARE:

নেপালে চলমান অশান্তির মধ্যে আটকে পড়া ভারতীয় ভলিবল দলকে উদ্ধার করল কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস। উপাসনা গিলের ভাইরাল ভিডিওর পরই সক্রিয় হয় দূতাবাস। পড়ুন বিস্তারিত।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নেপালে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আটকে পড়া ভারতের ভলিবল দলকে শেষমেশ উদ্ধার করল কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস। সমাজমাধ্যমে টেলিভিশন উপস্থাপিকা উপাসনা গিল (Upasana Gill)-এর একটি ভিডিও বার্তা ভাইরাল হওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় দূতাবাস। দূতাবাসের কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরাপদে কাঠমান্ডুতে সরিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার, যখন নেপালের পোখারা শহরে ভলিবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে অবস্থানরত ভারতের দল যে হোটেলে ছিল, সেখানে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। হোটেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ হাতে করে পালিয়ে যেতে হয় খেলোয়াড় এবং আয়োজকদের। সেই সময় উপাসনা গিলও সেখানে ছিলেন। তিনি ভিডিও বার্তায় জানান, “আমি উপাসনা গিল। ভারতীয় দূতাবাসের কাছে আমরা সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছি। অন্য কেউ যদি আমাদের সাহায্য করতে পারেন, তাঁদেরও অনুরোধ করছি। এখন নেপালের পোখারায় আটকে রয়েছি। যে হোটেলে ছিলাম, সেটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের ব্যাগ এবং ব্যক্তিগত জিনিস সবই হোটেলে রয়ে গেছে। হামলার সময় আমি স্পা নিচ্ছিলাম। কিছু লোক লাঠি নিয়ে আমাকে তাড়া করে। পালানো ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।” উপাসনার ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয় ভারতীয় দূতাবাস। সঙ্গে সঙ্গে উপাসনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে নিরাপদে তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসা হয়। দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, “সমস্ত খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। ভারত ফেরার ব্যবস্থা করা হবে খুব শিগগিরই।” কাঠমান্ডুতে পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত দূতাবাস নিয়মিত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল।

উল্লেখ্য, উপাসনা গিল ছিলেন ভলিবল প্রতিযোগিতার আয়োজক দলের অন্যতম প্রতিনিধি। তাঁর সঙ্গে আটকে পড়েন ভারতের খেলোয়াড়রাও। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছিলেন পোখারার এক অস্থায়ী হোটেলে। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকায় দূতাবাসের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ। নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা গত সপ্তাহ থেকেই তীব্র আকার নেয়। সরকার সমাজমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকেই ছাত্র-যুবদের আন্দোলন শুরু হয়। সোমবার রাতেই যদিও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, তবু আন্দোলন থামেনি। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (K.P. Sharma Oli) -এর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরালো হতে থাকে। একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও সরে দাঁড়াতে হয় ওলিকে। তবু রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ দমেনি। সংবাদ সূত্রে উল্লেখ, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এই অশান্তিতে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই পোখারায় ভারতীয় খেলোয়াড়দের উপর হামলা হয়। উপাসনা গিলের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সাহায্যের আবেদনই শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ বাঁচাল। ভারতীয় দূতাবাসও দ্রুততা ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম হয়। বর্তমানে দল নিরাপদে কাঠমান্ডুতে রয়েছে এবং তাঁদের ভারত ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভারত সরকারও দূতাবাসের তৎপরতার প্রশংসা করেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হলো বিদেশে বিপদের সময় ভারতীয় দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nepal Gen Z protests, social media ban Nepal | আগুনে ফেটে পড়ল Gen Z: নেপালের রাস্তায় কেন জ্বলে উঠল তরুণ প্রজন্ম?

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন