Indian nurse jailed Singapore | সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে যৌন নির্যাতনের দায়ে ভারতীয় নার্সের কারাদণ্ড, ‘জীবাণুমুক্ত’ করার নামে দর্শনার্থীর শ্লীলতাহানি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ সিঙ্গাপুর, ২১ অক্টোবর: সিঙ্গাপুরের একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে ভয়ঙ্কর এক যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ভারতীয় নাগরিক এক নার্সের (Indian Nurse) কারাদণ্ড হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে এক পুরুষ দর্শনার্থীকে “জীবাণুমুক্ত” করার অজুহাতে শ্লীলতাহানির অভিযোগ স্বীকার করায় আদালত অভিযুক্ত নার্স এলিপে শিভা নাগুকে (Elippe Shiva Nagu) এক বছর দু’ মাসের জেল এবং দু’টি বেত্রাঘাতের সাজা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জুন মাসে র‍্যাফেলস হাসপাতাল-এ (Raffles Hospital)। ওটি সিঙ্গাপুরের একটি প্রিমিয়াম হেলথকেয়ার ইনস্টিটিউশন।

আদালতের শুনানিতে উঠে আসে, ১৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নর্থ ব্রিজ রোডের র‍্যাফেলস হাসপাতালে তাঁর দাদুকে দেখতে গিয়েছিলেন এক দর্শনার্থী। হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢোকার কিছুক্ষণ পর তিনি রোগীদের ব্যবহারের টয়লেটে যান। ওই সময় হাসপাতালের স্টাফ নার্স এলিপে শিভা নাগু আচমকাই সেখানে প্রবেশ করে এবং ‘জীবাণুমুক্ত’ করার অজুহাতে ভুক্তভোগীর দিকে এগিয়ে আসে।আদালতের নথি অনুযায়ী, এলিপে সাবান হাতে নিয়ে দর্শনার্থীর শরীরে হাত দেয়, যা সরাসরি শ্লীলতাহানির অন্তর্ভুক্ত। হতভম্ব হয়ে পড়া ভুক্তভোগী তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। আদালতে ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর ইউজিন ফুয়া (Eugene Fua) বলেন, “অভিযুক্ত ভুক্তভোগীকে ‘জীবাণুমুক্ত’ করার নামে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে। এই আচরণ শুধুমাত্র নৈতিকভাবে নিন্দনীয় নয়, তা ফৌজদারি অপরাধ।”

ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী তাঁর দাদুর বিছানার পাশে ফিরে যান, তবে কিছু সময়ের মধ্যে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তিন দিন পর, ২১ জুন, ঘটনার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২৩ জুন পুলিশ অভিযুক্ত এলিপে শিভা নাগুকে গ্রেফতার করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের (Hospital Authorities) পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং এলিপেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। র‍্যাফেলস হাসপাতালের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে রোগী এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনাটি জানার পরপরই অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ তদন্তে সম্পূর্ণ সহায়তা করা হয়েছে।”

আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে এলিপে দাবি করেন যে, তিনি ‘নিরাপত্তার স্বার্থে জীবাণুমুক্ত করার কাজ’ করছিলেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য অপরাধমূলক ছিল না। তবে আদালত এই যুক্তিকে একেবারেই গ্রহণ করেনি। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, “একজন প্রশিক্ষিত নার্স হিসেবে অভিযুক্তের কাছে রোগী ও দর্শনার্থীদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও সংবেদনশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, যা সমাজে আতঙ্ক এবং অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।” ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর ফুয়া বলেন, “এই ঘটনা কেবল একজন দর্শনার্থীর শারীরিক ক্ষতি নয়, মানসিক আঘাতও সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর মনে সেই ঘটনার ভয় এখনও স্পষ্ট।” আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, হাসপাতাল সংক্রান্ত যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।

সিঙ্গাপুরে (Singapore) যৌন অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, যৌন হয়রানি বা শ্লীলতাহানির প্রমাণ মিললে অভিযুক্তের কারাদণ্ডের পাশাপাশি বেত্রাঘাতেরও বিধান রয়েছে। সেই নিয়মেই এলিপেকে এক বছর দুই মাসের কারাদণ্ড ও দু’টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর পরিচয় আদালতের নির্দেশে গোপন রাখা হয়েছে। তবে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং এখনও কর্মক্ষেত্রে ফেরা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন। উল্লেখ্য যে, সামাজিকভাবে এই ঘটনা সিঙ্গাপুরে নার্সিং পেশার নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে। হাসপাতালগুলিতে দর্শনার্থী ও রোগীদের জন্য নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার দাবিও উঠেছে। সিঙ্গাপুরের হেলথ অথরিটি (Health Authority) এই ঘটনার পর নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে আরও উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক আচরণবিধি প্রশিক্ষণ চালু করা হয়। প্রসঙ্গত, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে, সিঙ্গাপুর সরকার যৌন অপরাধে কোনও ছাড় দিতে রাজি নয়। আদালতের রায় অনুযায়ী, “স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে বিশ্বাসের ভাঙন কখনও মেনে নেওয়া যায় না।”

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

আরও পড়ুন :

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন