সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : পূর্ব ভারতের পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় সেনার উপস্থিতি নতুন মাত্রা পেল সিকিমে (Sikkim) আয়োজিত মহড়ায়। ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ত্রিশক্তি কোরের জওয়ানরা যুদ্ধসামগ্রীসহ রুট মার্চ করেন, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত প্রস্তুতির এক বিরল প্রদর্শন দেখা যায়। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সেনার মনোবল শক্ত রাখার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের কঠিন বাস্তব পরিস্থিতির জন্য তাদের প্রস্তুত করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য বলে সেনা সূত্রে খবর।
সেনা সূত্রে আরও খবর, কঠোর প্রাকৃতিক পরিস্থিতি, হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকা আর বিপজ্জনক রাস্তাগুলি পেরিয়েই এই মহড়া সম্পূর্ণ করা হয়েছে। জওয়ানদের সাহায্যে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক ড্রোন ও স্মার্ট লজিস্টিক সিস্টেম, যা পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত সরবরাহ ও নজরদারিতে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি আগামী দিনে সীমান্তে সেনার টহল এবং যুদ্ধকৌশলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সিকিমের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন মালভূমি উপ-সেক্টরে ভারতীয় সেনা তাদের যুদ্ধক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল। এএনআই (ANI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্ব হিমালয়ের সবচেয়ে শীতল ও দুর্গম যুদ্ধক্ষেত্রগুলির একটিতে সেনা মোতায়েন করে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেই মহড়ায় অত্যাধুনিক কামান, সাঁজোয়া যান এবং বিশেষভাবে অভিযোজিত যুদ্ধ সরঞ্জাম সামনে আনা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতাতেই এবারের মহড়া আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
Read : SRK | Love Story of Shah Rukh Khan and Gouri Khan : শাহরুখ-গৌরীর প্রেম এক আশ্চর্য রূপকথা
শুধু সিকিমেই নয়, সম্প্রতি উত্তরবঙ্গেও ভারতীয় সেনার অনুশীলন জোরদার হয়েছে। গত মে মাসে শিলিগুড়ির চিকেন নেক অঞ্চলের কাছে তিন দিনব্যাপী ‘তিস্তা প্রহার’ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। আর্টিলারি, বিমানবাহিনী এবং স্থলসেনা একসঙ্গে অংশ নেয় এই অনুশীলনে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের কিছু কট্টরপন্থী নেতা সম্প্রতি যে “চিকেন নেক” দখলের হুমকি দিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটেই এই মহড়ার তাৎপর্য বহুগুণ বেড়েছে। কারণ, এই চিকেন নেকই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সমতলের সংযোগরেখা। উল্লেখ্য, ভারতের সীমান্তে নজরদারি জোরদার হলেও প্রতিবেশী দেশগুলির ভূমিকা নিয়েও জল্পনা তীব্র। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, চিনের (China) সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের জেরে সম্পর্ক কিছুটা মসৃণ হলেও সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা এখনো পুরোপুরি মেটেনি। এক বিশেষজ্ঞের ভাষায়, “চিনের সঙ্গে ভারত ব্যবসায়িকভাবে সহযোগিতার বার্তা দিলেও সীমান্তে সেনার প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করছে প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই।”
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সামরিক অভিসন্ধি নিয়েও ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহল উদ্বিগ্ন। পাকিস্তানের সেনার আইএসপিআর (ISPR) -এর ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী (Lt Gen Ahmed Sharif Chaudhry) এবং পাক সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Field Marshal Asim Munir) সাম্প্রতিক সময়ে দাবি করেন, ভারত যদি ‘অপারেশন সিঁদুর’ -এর মতো অভিযান চালায়, তবে পাকিস্তান পূর্ব ভারতে হামলার পথে নামবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য একদিকে যেমন কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়, অন্যদিকে ভারতীয় সেনাকে পূর্বাঞ্চলে আরও সজাগ থাকতে বাধ্য করে। বস্তুত, এই আবহেই সম্প্রতি কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে (Fort William) সেনা কমান্ডারদের সম্মেলনের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ওই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দেশে তিনটি যৌথ সামরিক স্টেশন তৈরি করা হবে, যার মধ্যে একটি হবে পূর্ব ভারতে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, পূর্বাঞ্চলীয় স্টেশনের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং এটি উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের সীমান্ত নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) বিকাশ সেন (Col. (Retd.) Bikash Sen) জানিয়েছেন, “১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় সামরিক মহড়া শুধুমাত্র একটি প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন নয়, এটি প্রমাণ করছে ভারতীয় সেনা যে-কোনও পরিস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য তৈরি। পাহাড়ি অঞ্চলের কঠিন ভৌগোলিক পরিস্থিতিকে নিজেদের কৌশলে রূপান্তরিত করাই সেনার আসল বার্তা।” প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে পূর্ব হিমালয়ে সেনার নিয়মিত রুট মার্চ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং যৌথ মহড়া প্রমাণ করছে ভারত সীমান্তে কোনও ঢিলেমি রাখতে রাজি নয়। ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সেনার বার্তা স্পষ্ট, সীমান্ত রক্ষা, যুদ্ধ প্রস্তুতি ও মনোবল অটুট রাখাই সর্বাগ্রে।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Kartik Aaryan Sreeleela dating | কার্তিক আরিয়ান ও শ্রীলীলার সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে




