সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, তিরুবন্তপুরম : তিরুবন্তপুরমে শুক্রবারের রাতটা ছিল একতরফা আধিপত্যের সাক্ষী। প্রথম দু’টি ম্যাচের ছবি যে কেবল কাকতালীয় নয়, তা আরও এক বার প্রমাণ হয়ে গেল তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও। আবারও আগে ব্যাট করে ধুঁকল শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka), আবারও রান তাড়া করতে নেমে অনায়াস জয় তুলে নিল ভারত (India)। আট উইকেটে জিতে দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ় নিজেদের করে নিল ভারতীয় মহিলা দল।
এই ম্যাচে এক দিকে যেমন ব্যাট হাতে স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) ব্যর্থ হলেন, তেমনই অন্য দিকে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করলেন রেণুকা সিংহ ঠাকুর (Renuka Singh Thakur)। প্রায় এক বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে চার উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে তিনি ভেঙে দিলেন। সঙ্গে ইতিহাস গড়লেন দীপ্তি শর্মা (Deepti Sharma)। তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ভারতকে শুধু ম্যাচই জেতাল না, এনে দিল এক অনন্য ব্যক্তিগত রেকর্ডও। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলতে পারল মাত্র ১১২ রান, সাত উইকেট হারিয়ে। এই রান যে ভারতের কাছে কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, তা শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। মাত্র ১৪.২ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত, হাতে থাকে আটটি উইকেট এবং ৪০ বল। ব্যাট হাতে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন শেফালি বর্মা (Shafali Verma), তিনি অপরাজিত থাকেন ৭৯ রানে।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না। ওপেনার হাসিনি পেরেরা (Hasini Perera) কিছুটা আগ্রাসী মেজাজেই ব্যাটিং শুরু করেন। রেণুকার প্রথম ওভারেই ১২ রান তুলে নিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লড়াইয়ের চেষ্টা করবেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। দীপ্তি শর্মা প্রথম আঘাতটি করেন অধিনায়ক চামারি আটাপাট্টুকে (Chamari Athapaththu) ফিরিয়ে দিয়ে। মাত্র তিন রানে সাজঘরে ফেরেন শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটার। এর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে আসে। রেণুকা তাঁর দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারেই পরপর দু’টি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারকে বিপর্যস্ত করে দেন। দশম ওভারেও তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং যে আরও আগে গুটিয়ে যেতে পারত, তা অনেকেই মনে করছেন। কাবিশা দিলহারি (Kavisha Dilhari) ও ইমেশা দুলানি (Imaesha Dulani) ৪০ রানের একটি জুটি গড়ে কিছুটা সম্মান বাঁচান। কাবিশা ২০ এবং ইমেশা ২৭ রান করেন। এই ম্যাচের অন্যতম বড় প্রাপ্তি দীপ্তি শর্মার রেকর্ড। কাবিশাকে আউট করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি টি-টোয়েন্টিতে নিজের ১৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা, উভয় দলের মধ্যে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার, তিনি এই কীর্তি গড়লেন। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার মেগান শুটের (Megan Schutt) সঙ্গে যুগ্ম ভাবে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেলেন দীপ্তি। আর একটি উইকেট পেলেই তিনি একক ভাবে এই তালিকার শীর্ষে উঠে যাবেন।
১১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা যদিও খানিকটা অস্বস্তির ছিল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই স্মৃতি মন্ধানাকে এলবিডব্লিউ করে দেন কাবিশা। মাত্র এক রানে সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় সহ-অধিনায়ক। তবে সেই ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ অন্য প্রান্তে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর শেফালি বর্মা। মালশা শেহানির (Malsha Shehani) প্রথম ওভার থেকেই ১৪ রান তুলে নিয়ে শেফালি বুঝিয়ে দেন, ম্যাচ কত দ্রুত শেষ হতে চলেছে। সময় যত গড়িয়েছে, তাঁর ব্যাটিং ততই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বোলারদের কোনও রকম সমীহ না করে তিনি একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান। দ্বিতীয় ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও তিনি একার হাতে দলকে জিতিয়ে দেন। এই ইনিংসের সুবাদে শেফালি আরও একটি রেকর্ড নিজের নামে লেখেন। ২২ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক অর্ধশতরান করার তালিকায় তিনি সবার উপরে উঠে এলেন। তাঁর ঝুলিতে এখন ১৩টি টি-টোয়েন্টি হাফ-সেঞ্চুরি, যা এই বয়সে বিশ্ব ক্রিকেটে অনন্য।
সামগ্রিকভাবে এই সিরিজে ভারতীয় দলের শক্তি ও গভীরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বোলিং বিভাগে দীপ্তি ও রেণুকার নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ, ব্যাটিংয়ে শেফালির আগ্রাসন, সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত যে এক ধাপ এগিয়ে, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ রইল না। সামনে আরও দুটি ম্যাচ থাকলেও সিরিজ় ইতিমধ্যেই ভারতের পকেটে। আত্মবিশ্বাসের এই ধারা বজায় রাখতে পারলে আগামী বড় টুর্নামেন্টগুলিতে ভারতীয় মহিলা দল যে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jemimah Rodrigues half century, Smriti Mandhana news | টি-টোয়েন্টিতে দাপট! মন্ধানার ছন্দহীন দিনে জেমাইমার ঝকঝকে অর্ধশতরান




