পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ★এজবাস্টন :এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে যেন রানের বন্যা বইয়ে দিলেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক শুভমন গিল (Shubman Gill)। তাঁর ২৬৯ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস ভারতকে পৌঁছে দিল ৫৮৭ -এর মতো বিরাট স্কোরে। সেই রানের পাহাড় ডিঙোনোর চাপে পড়েই ভেঙে পড়ল ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার। মাত্র ২৫ রানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় দিনের শেষে কার্যত কোণঠাসা ব্রিটিশ ব্যাটার বাহিনী।
প্রথম দিন শেষ হয়েছিল ৫ উইকেটে ৩১০ রানে। অধিনায়ক শুভমন গিল তখন ছিলেন ১১৪ রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় দিনেও একই আগ্রাসী ছন্দে তিনি ব্যাট করে চলেন। তবে এই আগ্রাসন কোনও হঠকারী ঝুঁকিভরা ইনিংস নয়। বরং বলের ‘মেরিট’ অনুযায়ী খেলে গিল দেখিয়ে দিলেন কীভাবে পরিণত টেস্ট ইনিংস গড়তে হয়। প্রতিটি শট ছিল পরিকল্পিত ও আত্মবিশ্বাসে ভরা। একের পর এক সীমানা ছুঁয়ে এগিয়ে গিয়েছেন দ্বিশতরানের দিকে। তারপর তার গিয়ে দাঁড়ায় ২৬৯-এ। শুভমনের ইনিংসটি শুধুই বড় রান নয়, একাধিক রেকর্ডও তার সঙ্গে জুড়ে গেল। ৩১১ বলে করা এই ইনিংসে তরুণ টেস্ট অধিনায়ক ছুঁয়ে গেলেন কিংবদন্তী সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar), শচীন তেণ্ডুলকর (Sachin Tendulkar) ও বিরাট কোহলি (Virat Kohli)-র সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরকে। শুধু তা-ই নয়, এজবাস্টনে কোনও ভারতীয় ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ার দিক থেকেও এগিয়ে গেলেন কোহলির ১৪৯-রানকে। আরও বড় কথা, এশিয়ার বাইরে টেস্ট ক্রিকেটে কোনও ভারতীয় অধিনায়কের সর্বোচ্চ ইনিংস এখন গিলের এই ২৬৯। যা এদিন থেকে একটি ইতিহাস হয়ে রইল ভারতীয় ক্রিকেটে।
শুভমনকে সঙ্গী হিসেবে দারুণ সাপোর্ট দিয়ে গিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja)। একদিকে যখন তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার গুঞ্জন, তখন তিনি ব্যাট হাতে ঝড় তুলে করলেন ৮৯ রান। এটা কী সমালোচনা বড় জবাব? প্রশ্ন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ মহলেই! জাদেজা দশটি বাউন্ডারি ও একটি ছয় মারলেন এই ইনিংসে। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) এলেন ও দলকে শুধু এগিয়েই নিয়ে গেলেন না, দলকে উপহার দিলেন ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।
ভারতের দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ৫৮৭। ভারতীয় ইনিংস শেষ হয় তৃতীয় সেশনের শুরুর দিকে। এরপর ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নামতেই শুরু হল আসল নাটক। মাত্র ১৩ রানে তারা হারাল দু’টি উইকেট। বাংলার তরুণ আকাশদীপ (Akashdeep)-এর আগুন ঝরানো বলে বেন ডাকেট (Ben Duckett) ও ওলি পোপ (Ollie Pope) ফিরে গেলেন শূন্য রানে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিরাজের (Mohammed Siraj) অসাধারণ ডেলিভারিতে ১৯ রানে আউট হয়ে যান জ্যাক ক্রলি (Zak Crawley)। ওই ওই মুহূর্তে স্কোর দাঁড়ায় ২৫/৩। তবে এখান থেকেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জো রুট (Joe Root) এবং হ্যারি ব্রুক (Harry Brook)। রুট ১৮ এবং ব্রুক ৩০ রান করে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন। তবে শেষ ওভারে ব্রুককে আউট করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যেটা কাজে লাগাতে পারলে আরও বড় ধাক্কা দিতে পারত ভারত।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের পেস আক্রমণ এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে এক ঝটকায় ম্যাচের রাশ পুরো ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। বিশেষ করে আকাশদীপের অভিষেক টেস্টেই এই ছন্দ নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে। তার সঙ্গে সিরাজের ধারালো বল ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারকে আগামী দিনে আরও চাপে ফেলতে পারে। তবে আত্মতুষ্টির জন্ম নিয়ে দলের জন্য সুখের হবে না বলেই মনে করছেন ক্রীড়াবিদরা।
তাঁদের আরও মত, তৃতীয় দিনের শুরুতে ভারত যদি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারে, তাহলে ম্যাচ কার্যত একতরফা হয়ে যাবে। তবে ইংল্যান্ডের হাতে এখনও রয়েছেন জো রুট, বেয়ারস্টো (Jonny Bairstow), স্টোকস (Ben Stokes)-এর মতো ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটার। ফলে বলাই যায়, ম্যাচ এখন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে।
তবে শুভমান গিলের ইনিংস শুধুই ব্যাটিং মহিমা নয়, এটি তাঁর অধিনায়ক হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার মঞ্চও বটে। যে ক’জন সমালোচক তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাঁদের মুখে এদিন কার্যত কালি পড়ল বলা যায়। এবার অপেক্ষা, ব্রিটিশ সিংহদের আরও কোণঠাসা করে ম্যাচে একতরফা নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs England 2nd Test, Yashasvi Jaiswal | এজবাস্টনে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস যশস্বীর তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নজির গড়ার হাতছানি



