সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ● নতুন দিল্লি: দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ভারতের অনুরোধে ফের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রফতানি শুরু করার ইঙ্গিত দিল চিন। দুই দিনের সফরে সোমবার নয়াদিল্লিতে এসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)-এর সঙ্গে বৈঠক করেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)। বৈঠক শেষে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত সার, দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থ ও সুড়ঙ্গ খননে ব্যবহৃত টানেল বোরিং মেশিন (Tunnel Boring Machine/TBM) ফের ভারতকে সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে বেজিঙ।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও এএনআই (ANI)-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শি জিনপিঙ (Xi Jinping)-এর প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই রফতানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই তিনটি পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভারতের কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে জোগান টান পড়েছিল। ফলে দাম বেড়েছিল সার ও খনিজের। নির্মাণ প্রকল্পও আটকে গিয়েছিল টিবিএমের অভাবে। ফলে চিনের এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতের কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়া এবং ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (DAP)-এর মতো সারের গুরুত্ব অপরিসীম। চিন থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত ক’য়েক মাসে দেশে সারের জোগানে সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। দামও চড়ছিল লাগামছাড়া। অন্যদিকে, টানেল বোরিং মেশিনের জোগান না থাকায় একাধিক অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ থমকে যায়। আর ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরিতে দরকারি দুষ্প্রাপ্য খনিজ না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছিলেন গাড়িনির্মাতারা। চিন নিরাপত্তাগত কারণ দেখিয়ে এই রফতানি আটকে রেখেছিল।
বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানায়, গত মাসে চিন সফরে গিয়ে জয়শঙ্কর সরাসরি এই সমস্যার কথা ওয়াং ই-কে জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, ভারতের কৃষি ও শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই এই তিনটি পণ্যের ঘাটতি দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। জয়শঙ্করের সেই বক্তব্যের প্রভাবেই চিন তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের আরও খবর, বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির কথাও ওঠে। বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর শুল্কনীতি প্রসঙ্গ আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ভারত ও চিন উভয়েই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে। ফলে অনেকের ধারণা, শীঘ্রই বেজিঙও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কচাপের মুখে পড়তে পারে। তাই আগে থেকেই কূটনৈতিক তাস খেলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে চাইছে চিন।
চিনের বিদেশমন্ত্রী মঙ্গলবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে মূলত ভারত-চিন সীমান্ত ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সোমবার জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত সমস্যার প্রসঙ্গেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ছিল কূটনৈতিক দৃঢ়তা, “এটি (সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের সম্পর্কের যে কোনও ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি হল সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা। তাই সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই তিনটি পণ্যের রফতানি পুনরায় শুরু হলেও ভারত-চিন সম্পর্কের আসল পরীক্ষা সীমান্ত নিয়েই হবে। কারণ অতীতে একাধিকবার বাণিজ্যিক আশ্বাস দিলেও সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। তাই দিল্লির কূটনৈতিক মহল আপাতত সতর্ক দৃষ্টিতেই বেজিঙের এই পদক্ষেপকে দেখছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Xi Jinping, SCO Summit 2025 | ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন দিগন্ত? SCO সম্মেলন ঘিরে তিয়ানজিনে মোদী সফরে আশাবাদ বেজিংয়ের




