Gujarat UCC President assent, Gujarat Uniform Civil Code 2026 | বিয়ে থেকে লিভ-ইন, উত্তরাধিকার থেকে ডিভোর্স! গুজরাটে UCC-র অনুমোদন, জানুন কী কী বদল আসছে

SHARE:

গুজরাটে (Gujarat) অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code) কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। গুজরাট বিধানসভায় পাস হওয়া UCC বিল ২০২৬-এ এবার সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। ফলে বিধানসভায় বিল পাস ও প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পূর্ণ হল। তবে আইনটি বাস্তবে কার্যকর করতে এখনও বিধি প্রণয়ন-সহ কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: গুজরাটে (Gujarat) অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code) কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। গুজরাট বিধানসভায় পাস হওয়া UCC বিল ২০২৬-এ এবার সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। ফলে বিধানসভায় বিল পাস ও প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পর রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর পথে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পূর্ণ হল। তবে আইনটি বাস্তবে কার্যকর করতে এখনও বিধি প্রণয়ন-সহ কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। মার্চ মাসে গুজরাট বিধানসভায় দীর্ঘ আলোচনার পর UCC বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়েছিল। প্রায় আট ঘণ্টার বিতর্কের মধ্যে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বিলের বিভিন্ন ধারা নিয়ে তীব্র মতবিনিময় হয়। কংগ্রেস বিধায়কেরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিলেন। সেই দাবি গৃহীত না হওয়ায় কংগ্রেসের কয়েক জন বিধায়ক অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

আরও পড়ুন : West Bengal UCC latest news, Suvendu Adhikari latest announcement | মাদ্রাসা থেকে ইউসিসি, গোশালা : তিন সিদ্ধান্তে নতুন দিশার ইঙ্গিত শুভেন্দু সরকারের

রাষ্ট্রপতির সম্মতির ফলে গুজরাট এখন উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) পরে UCC কার্যকরের আইনি কাঠামো পাওয়া দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে সামনে এল। উত্তরাখণ্ডে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। গুজরাটের ক্ষেত্রে অবশ্য আইন কার্যকর হওয়ার আগে রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট বিধি তৈরি করতে হবে। সেই বিধি প্রকাশ ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরই নতুন আইন বাস্তবায়নের দিনক্ষণ নির্ধারিত হতে পারে। গুজরাটের UCC-এর পরিধি মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনকে কেন্দ্র করে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক ও লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়কে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ধর্ম, সম্প্রদায় বা ব্যক্তিগত আইনের পৃথক কাঠামোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট নাগরিক ও পারিবারিক বিষয়ে একই ধরনের নিয়ম প্রযোজ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। বিলের আওতায় বিয়ের শর্ত, দ্বিতীয় বিবাহের নিষেধাজ্ঞা, বিবাহবিচ্ছেদ ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার-সহ একাধিক বিষয় রাখা হয়েছে।

বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লিভ-ইন সম্পর্কের নথিভুক্তিকরণ। গুজরাটের প্রস্তাবিত কাঠামোয় এই ধরনের সম্পর্ককে নির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সম্পর্কের শুরু ও সমাপ্তির নথিভুক্তিকরণ নিয়ে বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনি মর্যাদা নিয়েও বিধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিয়ে-বহির্ভূত পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামো তৈরি হতে চলেছে। বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করার সুযোগ থাকবে না। বিবাহের ন্যূনতম বয়স, বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা, বিবাহবিচ্ছেদ, বিচারবিচ্ছেদ এবং বাতিলযোগ্য বা অবৈধ বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়গুলিকেও অভিন্ন নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে একটি সাধারণ দেওয়ানি কাঠামো গড়ে তোলাই গুজরাট সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম দিক।

উত্তরাধিকার আইনেও পরিবর্তনের কথা রয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতার নীতি রাখার কথা বলা হয়েছে। দত্তক নেওয়া সন্তান, বিবাহের মধ্যে জন্ম নেওয়া সন্তান ও বিবাহের বাইরে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার নিয়েও বিলটিতে বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে সম্পত্তি আর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পৃথক আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে উল্লেখ। কিন্তু গুজরাটের UCC সব নাগরিকের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। বিলের আওতা থেকে Scheduled Tribe বা তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাদ রাখা হয়েছে। সংবিধান-সুরক্ষিত কিছু প্রথাগত অধিকার ও রীতির ক্ষেত্রেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে ‘অভিন্ন’ দেওয়ানি বিধি হলেও বাস্তবে এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Assam Uniform Civil Code bill, live-in registration law India, Himanta Biswa Sarma UCC Assam | একত্রবাসে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ, অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

বিলটি বিধানসভায় পেশ হওয়ার সময় থেকেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কংগ্রেসের বিধায়কেরা এর বিরোধিতা করেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলির আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা প্রয়োজন। কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা (Imran Khedawala) বিশেষ করে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন ও শরিয়ত-ভিত্তিক বিধানের প্রসঙ্গ তুলে আপত্তি জানান। বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবিও ওঠে। বিরোধীদের আরও একটি প্রশ্ন ছিল আদিবাসী সমাজের উপর UCC -এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, গুজরাটের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব রীতি, প্রথা ও সামাজিক কাঠামো রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হলে সেগুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক কী হবে, তা নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা দরকার। যদিও বিলের আওতা থেকে Scheduled Tribe সম্প্রদায়কে বাদ রাখার বিধান রয়েছে।

অন্য দিকে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল (Bhupendra Patel) শুরু থেকেই UCC -এর পক্ষে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও অন্যান্য পারিবারিক বিষয়ে একটি সাধারণ আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে। বিল পাস হওয়ার পর তিনি বলেন, গুজরাটে UCC চালু করা তাঁর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (Amit Shah) UCC-কে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলিতে UCC চালুর লক্ষ্য রয়েছে। গুজরাটের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সম্মতি সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে। প্রসঙ্গত, দেশে রাজ্যস্তরে প্রথম UCC কার্যকর হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। ২০২৪ সালে বিধানসভায় আইন পাস হওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেখানে UCC কার্যকর হয়। গুজরাটের বিলটি উত্তরাখণ্ডের কাঠামোর সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রাখলেও লিভ-ইন সম্পর্ক, শাস্তির বিধান এবং কিছু প্রশাসনিক নিয়মের ক্ষেত্রে নিজস্ব কাঠামো তৈরি করেছে। এদিকে অসমও ২০২৬ সালে UCC সংক্রান্ত বিল পাস করেছে। ফলে রাজ্যভিত্তিক অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে দেশের আইন ও রাজনীতিতে আলোচনা আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে প্রতিটি রাজ্যের বিলের আওতা, ব্যতিক্রম, বিধি ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। তাই গুজরাটে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়ার পর পরবর্তী লক্ষ্য থাকবে রাজ্য সরকারের তৈরি করা Rules বা বিধির দিকে।

রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর এখন মূল প্রশ্ন, গুজরাটে কবে থেকে UCC কার্যকর হবে? আইনগত অনুমোদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলেও শুধু রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই তা অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে চালু হয় না। সংশ্লিষ্ট বিধি তৈরি, প্রশাসনিক কাঠামো প্রস্তুত আর কার্যকর করার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারির মতো বিষয়গুলি সম্পন্ন করতে হবে। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপরই বাস্তবায়নের সময়সূচী নির্ভর করবে। গুজরাটে UCC কার্যকর হলে বিয়ে থেকে বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার থেকে লিভ-ইন সম্পর্ক, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হবে। একই সঙ্গে সংবিধান-সুরক্ষিত জনজাতি সম্প্রদায়ের ব্যতিক্রম এবং বিরোধীদের তোলা ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকারের প্রশ্নও আলোচনায় থাকবে। ফলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর গুজরাটে এখন UCC -এর পরবর্তী ধাপ হল বিধি প্রণয়ন এবং বাস্তব প্রয়োগের প্রস্তুতি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : UCC in West Bengal, UCC Marriage Law | বাংলায় UCC এলে ছেলে-মেয়ের সম্পত্তিতে সমান অধিকার, বদলাবে বিয়ে-ডিভোর্সের নিয়মও

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন