Govinda Narmada river story, Govinda mother death story | নর্মদা থেকে কীভাবে বেঁচে ফিরলেন গোবিন্দা? জীবন-মৃত্যুর সীমানা ছুঁয়ে ফেরা গোবিন্দার বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি

SHARE:

Govinda Narmada river story, Govinda mother death story | নর্মদা থেকে কীভাবে বেঁচে ফিরলেন গোবিন্দা? জীবন-মৃত্যুর সীমানা ছুঁয়ে ফেরা গোবিন্দার বিস্ময়কর স্বীকারোক্তি

শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: ব্যক্তিগত জীবনের নানা উত্থান-পতনের কারণে বহুবার শিরোনামে এসেছেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দা (Govinda)। তবে সম্প্রতি তিনি নিজের জীবনের একটি গভীর এবং বেদনাবিধুর অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে এনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মায়ের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিলেন, যখন তিনি নর্মদা নদীর জলে নেমে পড়েছিলেন, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। গোবিন্দা জানান, তাঁর মা নির্মলা দেবী (Nirmala Devi) ছিলেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পরিচিত মুখ ও চলচ্চিত্র জগতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ জুন তাঁর প্রয়াণ অভিনেতার জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে গোবিন্দ বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে ছিলাম। মনে হয়েছিল, সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে।’ এই অনুভূতি তাঁকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায়, যেখানে বাস্তবতা ও আবেগের সীমারেখা যেন ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন : Govinda meets Yogi Adityanath | কৃষ্ণমূর্তি হাতে যোগীর সাক্ষাৎকে ‘স্বর্গীয়’ বললেন গোবিন্দা, ব্যক্তিগত ঝড়ের মাঝেই রাজনীতির গুঞ্জন

অভিনেতার কথায়, মায়ের প্রতি তাঁর টান ছিল অত্যন্ত গভীর। সেই সম্পর্কের আকস্মিক ছেদ তাঁকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমি মায়ের সঙ্গে ভীষণ ভাবে জড়িত ছিলাম। অসম্ভব ভালবাসতাম।’ এই আবেগ থেকেই তাঁর মনে হয়েছিল, যদি তিনি নর্মদা নদীর আরও গভীরে এগিয়ে যান, তবে হয়তো আবার মায়ের সঙ্গে দেখা হবে। সেই ভাবনা থেকেই একসময় নদীর জলে নেমে পড়েন তিনি। ঘটনার সেই মুহূর্তে কী ঘটেছিল, তা নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন গোবিন্দা। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি নর্মদা নদীর কাছে ছিলাম। মনে হয়েছিল, আরও খানিকটা নদীর মধ্যে চলে গেলেই মায়ের সঙ্গে আবার দেখা হবে। তাই আমি নদীতে নেমে পড়েছিলাম।’ এই অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, সেটিকে আত্মহননের চেষ্টা বলা যায় কি না, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাইরের লোকজন এটাকেই হয়ত আত্মহত্যা বলে। কিন্তু আমি আসলে এমন কিছু মানি না। জীবন কখনও শেষ হয় না।’ তবে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে তাঁকে ফিরিয়ে আনেন একজন পুরোহিত। গোবিন্দা জানান, ওই পুরোহিতের নাম রাম কুন্ডল (Ram Kundal)। তিনি নদীর ধারে এসে অভিনেতাকে ডাকেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। গোবিন্দ বলেন, ‘তিনি আমাকে ডাকলেন। আমার দিকে এগিয়ে এলেন। আমি নদী থেকে উঠে এলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কী হয়েছে গোবিন্দ? তখন বুঝতে পারলাম, কেউ আমাকে বলছে যে, আমি ভুল কিছু করছি।’

এই ঘটনার পরই তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন আসে। তিনি উপলব্ধি করেন, তাঁর জীবনে এখনও অনেক দায়িত্ব রয়েছে, বিশেষ করে তাঁর সন্তানদের প্রতি। সেই উপলব্ধিই তাঁকে নতুন করে বাঁচার পথ দেখায়। অভিনেতা বলেন, ‘সেখান থেকেই একটা শিক্ষা পেয়েছিলাম। বুঝেছিলাম, আমাকে আমার সন্তানদের জন্য বাঁচতে হবে।’ গোবিন্দ আরও জানান, সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে তাঁর প্রায় পনেরো দিনের মতো সময় লেগেছিল। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে সামলে নেন এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলেন। তাঁর মতে, জীবনের সাফল্য শুধুমাত্র খ্যাতি বা অর্থে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবারের পাশে থাকা এবং তাদের জন্য কিছু করতে পারাটাই বড় কথা।

চলচ্চিত্র জগত নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও এই ঘটনার পর বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সিনেমা খেলনার মতো। তবে আমি বিশ্বাস করি, সিনেমা, অভিনয়, খ্যাতি ইত্যাদি সবই ঈশ্বরের দান।’ তাঁর মতে, মানুষের জীবনে যা কিছু অর্জন, তা একপ্রকার আশীর্বাদ হিসেবেই দেখা উচিত। নিজের সাফল্যের সংজ্ঞা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন গোবিন্দ। তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে আসল সাফল্য হল, আমি আমার পরিবার এবং মায়ের জন্য কিছু করতে পেরেছি।’ তিনি জানান, তাঁর মা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণ করাই তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

গোবিন্দের এই স্বীকারোক্তি, মানসিক বিপর্যয়ের সময় মানুষের চিন্তাভাবনা কতটা জটিল হয়ে উঠতে পারে, সেই দিকটিও সামনে এনেছে। নর্মদার জলে নেমে পড়ার সেই মুহূর্ত থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে জীবনকে গ্রহণ করার যে সিদ্ধান্ত, তা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে আসার পর ভক্তমহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে এই ঘটনাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তবে গোবিন্দ নিজে এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবেই দেখেন, যা তাঁকে পরিবার, দায়িত্ব এবং জীবনের মূল্য আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk children, Elon Musk family | ১৪ সন্তানের বিশাল পরিবার! প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের মাঝেই ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত জীবন: ইলন মাস্কের সন্তান ও সম্পর্কের বিস্ময়কর গল্প

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন