সোমনাথ আচার্য, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ২৭ আগস্ট ২০২৫, বুধবার, সারা দেশজুড়ে পালিত হবে গণেশপুজো। শাস্ত্র মতে, দুর্গাপুজোর আগে মর্ত্যে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গার পুত্র গণপতি (Lord Ganesha)। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে তিনি ভক্তদের জীবনে সৌভাগ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি এনে দেন। তাই প্রতিটি ঘরে, অফিসে কিংবা পাড়ার মণ্ডপে তাঁর আরাধনার আয়োজন করা হয়। তবে কেবল লাড্ডু কিংবা মোদক নিবেদন করলেই গণপতি সন্তুষ্ট হন না। সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ পেতে কিছু বিশেষ ফুল ও ফল নিবেদন করাও সমানভাবে জরুরি বলে মনে করেন পুরোহিত ও আধ্যাত্মিক গুরুজনেরা।
প্রাচীন পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, লাল রং গণেশের অতি প্রিয়। তাই পুজোয় যদি লাল ফুল নিবেদন করা যায় তবে বিশেষ সুফল মেলে। বিশেষ করে লাল জবা ফুলকে অত্যন্ত পবিত্র ও কার্যকরী হিসেবে ধরা হয়। অনেক পুরোহিতের মতে, গণপতিকে (Ganapati) জবা ফুল নিবেদন করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি কেটে যায়। শুধু একটি ফুল নয়, লাল জবার মালা গেঁথে তা ভক্তিভরে প্রভুর গলায় পরিয়ে দিলে সংসারে সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, খাদ্য নিবেদনের ক্ষেত্রে মোদক ও লাড্ডুর পাশাপাশি কলার (Banana) গুরুত্ব অপরিসীম। প্রচলিত বিশ্বাস, কলা গণপতির অত্যন্ত প্রিয় ফল। তাই ঘরে গণেশপুজোর সময়ে কলা না দিলে ভোগ সম্পূর্ণ হয় না। এ প্রসঙ্গে একজন পুরোহিত বলেন, ‘মোদক আর লাড্ডু তো থাকবেই। কিন্তু কলা নিবেদন করা না হলে গণেশপুজো পূর্ণ হয় না। কলার ভোগে গণপতি অতিশয় তুষ্ট হন।’
এছাড়াও, গণেশপুজোয় সিঁদুরের ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লাল কিংবা কমলা রঙের সিঁদুর দিয়ে গণেশের মূর্তির কপালে তিলক কাটা আবশ্যিক বলে মনে করা হয়। পুরাণ মতে, এই তিলক সৌভাগ্য ও মঙ্গল ডেকে আনে। শুধু তাই নয়, ভক্তরা পুজো শেষে সেই সিঁদুর নিজেদের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কপালে পরিয়ে নিলে তা একপ্রকার আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করে। আবার, ধূপ ও ধুনোর ব্যবহারও গণেশপুজোয় অপরিহার্য। প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বাস করা হয়, সুগন্ধযুক্ত ধূপকাঠি জ্বালালে পরিবেশ পবিত্র হয় এবং ভগবান গণপতির উপস্থিতি আরও বেশি অনুভূত হয়। অনেক ভক্তরা তাই চন্দন, ল্যাভেন্ডার বা মোগরার সুগন্ধি ধূপ ব্যবহার করে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে আধ্যাত্মিক গবেষক সৌম্য চক্রবর্তী বলেন, ‘গণপতির আরাধনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভক্তি আর নিষ্ঠা দিয়েই তাঁকে খুশি করা যায়। তবে তাঁর পছন্দের ফুল, ফল ও প্রসাদ নিবেদন করলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।’ শুধু তাই নয়, ঘরে পুজো করার সময় মহাগণপতি মন্ত্র পাঠ করলেও বিশেষ উপকার মেলে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। লাল কাপড়ের আসনে বসিয়ে গণেশের মূর্তি স্থাপন করা, মাথায় সিঁদুরের তিলক কাটা এবং ভক্তিভরে মন্ত্রোচ্চারণ এসব মিলেই পূর্ণ হয় ভক্তি। অনেকের বিশ্বাস, ভক্ত যদি একাগ্র মনে আরাধনা করেন তবে গণপতি জীবনের সব সঙ্কট দূর করে দেন।
এবারের গণেশচতুর্থী (Ganesh Chaturthi 2025) তাই শুধুই মোদক আর লাড্ডুর পুজো নয়, সঙ্গে কলা, লাল জবা ফুল, সিঁদুর ও সুগন্ধি ধূপ নিবেদন করতে ভুললে চলবে না। আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, এই নিয়ম মেনে ভক্তিভরে পুজো করলে সংসারে আসে শান্তি, ভক্তের জীবনে বৃদ্ধি পায় সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য। শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, ভক্তি আর বিশ্বাসের পাশাপাশি ক’য়েকটি বিশেষ আচার মেনে চললেই সিদ্ধিদাতা গণপতি প্রসন্ন হবেন। তাই এবছর গণেশপুজোয় যদি চান সংসারে মঙ্গল, তবে কলা, লাল জবা, সিঁদুর ও ধূপকাঠি দিতে ভোলবেন না। তখনই পূর্ণতা পাবে আরাধনা।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Test retirement, Rohit Sharma cricket news | টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে হঠাৎ মুখ খুললেন রোহিত শর্মা




