Food Price India | সবজি-ডাল-মাংস সস্তা, কমছে থালির দাম! ক্রিসিল রিপোর্টে মিলল সুখবর ভারতীয়দের জন্য

SHARE:

খাদ্যদ্রব্যের দাম কমা সরাসরি ভোক্তা মূল্যসূচকে (CPI) প্রভাব ফেলবে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ট্রেন্ড বড় ভূমিকা নেবে। কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, “যখন সাধারণ মানুষের থালির খরচ কমে, তখন তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি পায়।” তবে তাঁরা সতর্কও করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, রপ্তানি নীতি বা আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দামের ওঠানামা আবারও পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তাই স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বজায় রাখতে হবে।

বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ, নতুন দিল্লি : মুদ্রাস্ফীতি আর ক্রমবর্ধমান বাজারদর নিয়ে চিন্তায় ছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে এবার মিলল কিছুটা স্বস্তির খবর। দেশের গৃহস্থদের জন্য আশার হাওয়া নিয়ে এল ক্রিসিল ইনটেলিজেন্স (CRISIL Intelligence) -এর নতুন ‘রুটি ভাত রেট’ (Roti Rice Rate) রিপোর্ট। সেই রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় গৃহস্থ থালির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কারণ সবজি, ডাল, পেঁয়াজ (Onion) এবং মাংসের (Meat) দাম একধাক্কায় অনেকটা নেমে গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে বাড়িতে রান্না করা খাবারের মোট খরচ কমেছে প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, একই উপকরণে আগের তুলনায় এখন রান্না হচ্ছে সস্তায়। বিশেষত যেসব পরিবার প্রতিদিনের খাবারে ডাল, ভাত, সবজি ও মুরগির মাংস ব্যবহার করে, তাদের জন্য এই খবর বিশেষ আনন্দের।

খাবারের খরচ কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে সবজির দাম পতন। ক্রিসিলের রিপোর্ট বলছে, আলু (Potato) ও টমেটোর (Tomato) দাম কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ, আর পেঁয়াজের দাম কমেছে ৫১ শতাংশ। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যপতন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ফলন, স্থিতিশীল আবহাওয়া এবং সরবরাহ চেইনে উন্নতির কারণেই এমন পরিবর্তন। একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর শাকসবজির দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আলু ও পেঁয়াজের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পাইকারি দরে বড় পতন হয়েছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।”

খাদ্যদ্রব্যের দাম কমা সরাসরি ভোক্তা মূল্যসূচকে (CPI) প্রভাব ফেলবে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ট্রেন্ড বড় ভূমিকা নেবে। কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, “যখন সাধারণ মানুষের থালির খরচ কমে, তখন তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি পায়।” তবে তাঁরা সতর্কও করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, রপ্তানি নীতি বা আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দামের ওঠানামা আবারও পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তাই স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বজায় রাখতে হবে।
সব্জী বাজার। ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

সবজির পাশাপাশি ডালের (Pulses) দামেও এসেছে উল্লেখযোগ্য হ্রাস। ক্রিসিল জানাচ্ছে, কিছু ডালের দাম ৩১ শতাংশ, আবার কিছু প্রজাতির দাম ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে নিরামিষ খাবারের খরচ অনেকটাই হালকা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের আমদানি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উৎপাদনের উন্নতি এই স্বস্তির বড় কারণ। তবে, সবদিকেই কিন্তু সুখবর নেই। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোজ্য তেল (Edible Oil) -এর দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। পাশাপাশি গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস (LPG) খরচও বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। ফলে রান্নার অন্যান্য খরচ কিছুটা ভারি থাকলেও, সামগ্রিকভাবে থালির খরচ কমেছে। ভারতে জনপ্রিয় আমিষ উৎস হিসেবে মুরগির মাংস (Chicken Meat) -এর দাম এক বছরে কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। ক্রিসিল জানিয়েছে, আমিষ থালির দামের প্রায় অর্ধেকই নির্ভর করে মুরগির দামের উপর। ফলে এই খাতে পতন হওয়ায় মাংসভোজী পরিবারের খাবারের ব্যয়ও যথেষ্ট কমেছে। রিপোর্ট বলছে, মাসের হিসেবে নিরামিষ থালির দাম কমেছে প্রায় ১ শতাংশ এবং আমিষ থালির দাম কমেছে ৩ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা যদি কয়েক মাস স্থায়ী হয়, তবে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিও (Food Inflation) আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

বাজারের চিত্রেও দেখা যাচ্ছে একই প্রবণতা। দিল্লি (Delhi), কলকাতা (Kolkata), মুম্বই (Mumbai), বেঙ্গালুরু (Bengaluru) সহ দেশের বিভিন্ন শহরে সবজির দাম গত এক মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। সাধারণ ভোক্তাদের মতে, “অনেকদিন পর বাজারে গিয়ে একটু স্বস্তি পাচ্ছি। আগে ২০০ টাকায় যা হতো না, এখন ১৫০ টাকায় সম্ভব।” ক্রিসিল ইনটেলিজেন্সের এক মুখপাত্র বলেন, “খাদ্যদ্রব্যের দামের এই পতন অস্থায়ী নয়, তা মৌসুমি উৎপাদন এবং লজিস্টিকসের উন্নতির কারণে এটি টেকসই হতে পারে। তবে ভোজ্য তেল ও এলপিজির দাম এখনও নজরে রাখা প্রয়োজন।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যদ্রব্যের দাম কমা সরাসরি ভোক্তা মূল্যসূচকে (CPI) প্রভাব ফেলবে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ট্রেন্ড বড় ভূমিকা নেবে। কেন্দ্রীয় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, “যখন সাধারণ মানুষের থালির খরচ কমে, তখন তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি পায়।” তবে তাঁরা সতর্কও করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন, রপ্তানি নীতি বা আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যদ্রব্যের দামের ওঠানামা আবারও পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। তাই স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নীতি বজায় রাখতে হবে। উল্লেখ্য যে, খাদ্যের দাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তিতে ছিলেন সাধারণ মানুষ। এবার সেই চাপ কিছুটা হালকা হয়েছে। দিল্লির এক গৃহিণী বলেন, “অনেকদিন পর মনে হচ্ছে, বাজারে গিয়ে আবার পুরনো মতো কেনাকাটা করা যাবে।” অন্যদিকে কলকাতার এক চাকরিজীবীর মন্তব্য, “সবজির দাম কমায় দৈনন্দিন খরচে স্বস্তি মিলেছে, বিশেষত পরিবারে শিশু বা বৃদ্ধ থাকলে এই স্বস্তি অনেক বড় ব্যাপার।” ক্রিসিলের এই রিপোর্ট এক অনিশ্চিত বাজারে একটু আশার আলো জ্বালছে। দেশের কোটি কোটি পরিবার এখন চাইছে, এই দামের পতন যেন স্থায়ী হয়।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : লালকেল্লা বিস্ফোরণ, Delhi Car Blast News: লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী, গোটা দেশ জুড়ে হাই অ্যালার্ট!

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন