First woman TTE Darjeeling Toy Train, Sarita Yolmo Darjeeling Himalayan Railway | ১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা টিটিই! দার্জিলিং হিমালয়ান রেলে গোর্খা-কন্যা সরিতা ইয়োলমোর নজির, গর্বিত পাহাড়

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ দার্জিলিং: একশো পঁয়তাল্লিশ বছরের ঐতিহ্য, অসংখ্য পর্যটকের স্মৃতি আর পাহাড়ি পথের রোমাঞ্চ, এই দীর্ঘ ইতিহাসে এবার যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (Darjeeling Himalayan Railway) -এর হেরিটেজ টয় ট্রেনে প্রথমবারের মতো মহিলা টিটিই (TTE) বা টিকিট পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন সরিতা ইয়োলমো (Sarita Yolmo)। গোর্খা-কন্যা সরিতার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রেল মহল থেকে পাহাড়বাসী সকলেই। রেলের তথ্যমতে, ১৪৫ বছরে এই প্রথম কোনও মহিলা টয় ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকের দায়িত্বে নিযুক্ত হলেন। নিউ জলপাইগুড়ি (New Jalpaiguri বা NJP) থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত চলা বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃত হেরিটেজ টয় ট্রেন দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সেই ট্রেনের সিনিয়র সিটিসি (Chief Ticket Checking বা CTC) পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সরিতা। রেলের অন্দরে এই নিয়োগকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেই মনে করা হচ্ছে।

দার্জিলিঙের সোনাদায় (Sonada) জন্ম সরিতার। পাহাড়ের কোলে বড় হওয়া এই তরুণী কর্মসূত্রে বর্তমানে শিলিগুড়ির দাগাপুরের পঞ্চনই এলাকায় থাকেন। রেল জীবনে তিনি নতুন নন। এর আগে এনজেপি স্টেশনে সিটিসি হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে দায়িত্ব সামলেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতার তালিকায় রয়েছে রাজধানী এক্সপ্রেস (Rajdhani Express), গুয়াহাটি-বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস (Guwahati-Bengaluru Express), অমৃতভারত এক্সপ্রেস (Amrit Bharat Express) -এর মতো দূরপাল্লার ট্রেন। তবে টয় ট্রেনের দায়িত্ব যে তাঁর কর্মজীবনের মুকুটে বিশেষ পালক হয়ে উঠবে, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। রেল সূত্রে খবর, টিটিই পেশায় মহিলাদের সংখ্যা তুলনামূলক কম। কারণ হিসেবে ধরা হয় অনিয়মিত সময়সূচী, দীর্ঘ সফর, থাকা-খাওয়ার অনিশ্চয়তা। অনেকেই এই কঠিন বাস্তবতার কারণে এই দায়িত্ব নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু সেই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে সরিতা এগিয়ে এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘টিকিট কালেক্টর হিসেবে ট্রেনে ট্রেনে ঘোরার অভিজ্ঞতা অনেক আগেই হয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনেও ডিউটি করেছি। তবে হেরিটেজ টয় ট্রেনে এবারই প্রথম।’ নতুন দায়িত্ব নিয়ে তিনি স্পষ্টতই উচ্ছ্বসিত।

শুধু দায়িত্ব নয়, আবেগও জড়িয়ে রয়েছে এই নিয়োগে। সরিতা বলেন, ‘তার উপর প্রথম মহিলা হিসেবে টয় ট্রেনের ইতিহাসেও ঢুকে পড়লাম। যে পাহাড়ের কোলে জন্ম, বেড়ে ওঠা, সেই পাহাড়ের পাকদণ্ডী বেয়ে চলা টয় ট্রেনে ডিউটি করা দারুণ উপভোগ্য মুহূর্ত।’ পাহাড়ি পথ, ধোঁয়া উড়িয়ে চলা ছোট্ট ইঞ্জিন আর পর্যটকদের উচ্ছ্বাস, তাঁর কাছে এই দায়িত্ব এক বিশেষ অনুভূতি। প্রসঙ্গত, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ১৮৮১ সালে পথচলা শুরু করে। ইউনেস্কো (UNESCO) স্বীকৃত এই হেরিটেজ রেল আজও পাহাড়ি পরিবহণ ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। গত কয়েক বছরে টয় ট্রেনকে ঘিরে নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতাব্দীপ্রাচীন স্টিম ইঞ্জিন পুনরুজ্জীবন, বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ, চার্টার পরিষেবা, অন্যদিকে আবার আয়েও রেকর্ড গড়েছে এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথ। পর্যটকদের কাছে অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে ধাপে ধাপে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী (Rishav Choudhury) বলেন, ‘এর আগে টয় ট্রেনে মহিলা টিকিট কালেক্টর থাকার কোনও রেকর্ড ছিল না। এ বার সেটাও হল। সরিতা ইয়োলমোর কৃতিত্ব অনুপ্রেরণা জোগাবে অন্যদের।’ তাঁর মতে, রেলের কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সময়ের দাবি। সরিতার সাফল্য সেই পথে বড় পদক্ষেপ। রেলকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, এই নিয়োগ সামাজিক পরিবর্তনেরও বার্তা বহন করে। পাহাড়ি সমাজে মেয়েদের কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আসার উদাহরণ আরও দৃঢ় হল। বিশেষত এমন একটি পেশায়, যেখানে দায়িত্বের সঙ্গে থাকে শারীরিক ও মানসিক চাপ, সেখানে সরিতার উপস্থিতি অনেক তরুণীর কাছে প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। প্রসঙ্গত, টয় ট্রেন বরাবরই দার্জিলিং ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ। বাতাসিয়া লুপ (Batasia Loop), ঘুম (Ghum) স্টেশন, পাহাড়ি চা-বাগানের পাশ দিয়ে ধীরগতিতে চলা ট্রেন, এই অভিজ্ঞতা পর্যটকদের কাছে অনন্য। এখন সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হল ইতিহাস গড়ার গল্প। পর্যটকদের অনেকেই ইতিমধ্যে সরিতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও প্রশংসার ঢেউ। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক মহিলাকে টিকিট পরীক্ষক ও অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োগের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। কর্মপরিবেশ আরও সহায়ক করে তোলার উদ্যোগও চলছে। সরিতা ইয়োলমোর সাফল্য যে পথ দেখাল, তা ধরে এগোতে চাইছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। পাহাড়ের কন্যা আজ পাহাড়ের ঐতিহ্যের অংশ। ১৪৫ বছরের ‘অলিখিত নিয়ম’ ভেঙে সরিতা প্রমাণ করলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই অদম্য নয়। দার্জিলিংয়ের টয় ট্রেন এখন শুধু নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, নারীর অগ্রযাত্রারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ashwini Vaishnaw Vande Bharat | নতুন দিল্লি স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পরিদর্শন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন