FIFA UEFA News, Turkey Super League Scandal | তুরস্কে ফুটবলে ভূমিকম্প! ৩৭১ রেফারির বিরুদ্ধে জুয়া ও গড়াপেটার অভিযোগ, গ্রেফতারের নির্দেশ ২১ জনকে নিয়ে তোলপাড় ক্রীড়া মহল

SHARE:

পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় টিএফএফ (TFF)। ফুটবল জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৫২ জন রেফারি ও সহকারী রেফারিকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হচ্ছে। ফেডারেশন সভাপতি ইব্রাহিম হ্যাসিয়োসমানলু (Ibrahim Hacıosmanoğlu) বলেন, “তুরস্কের ফুটবলে নৈতিক সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা গড়াপেটা রোধে কাজ করছি, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমাদের ফুটবলের আসল সমস্যা নীতির অভাব।”

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ইস্তাম্বুল : ফুটবল মানেই আবেগ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর দর্শকের উন্মাদনা। কিন্তু সেই ফুটবলেরই ভেতরে যদি লুকিয়ে থাকে দুর্নীতির ছায়া, তবে কাঁপে গোটা ক্রীড়া দুনিয়া। ঠিক এমনটাই ঘটল তুরস্কে (Turkey)। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়েছে। ফুটবল জুয়া ও ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে ৩৭১ জন রেফারি (Referee) এবং একাধিক ক্লাব কর্তা জড়িয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশে ১৭ জন রেফারি ও একটি সুপার লিগ ক্লাবের সভাপতি-সহ (Club President) মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

ইস্তাম্বুল (Istanbul) আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ১৮ জনকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে তুরস্ক পুলিশ। অভিযোগ, তারা দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ম্যাচের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করছিলেন এবং সমাজমাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরে অন্তত ১,০০০টিরও বেশি ম্যাচ গড়াপেটা করা হয়েছে, যেখানে রেফারি ও ক্লাব কর্তা উভয়েই জড়িত ছিলেন। তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন (TFF) -এর কাছে এই তথ্য পৌঁছানোর পরই শুরু হয় চাঞ্চল্য। জানা যায়, দেশের মোট ৫৭১ জন রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে গোটা দেশের ফুটবল প্রশাসন স্তব্ধ হয়ে যায়। ফেডারেশন এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, “এমন কেলেঙ্কারি এর আগে কখনও দেখিনি। দেশের ফুটবলের নৈতিক ভিত্তি নড়ে গিয়েছে।”

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ কুড়ি-তম কিস্তি)

পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় টিএফএফ (TFF)। ফুটবল জুয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৫২ জন রেফারি ও সহকারী রেফারিকে ইতিমধ্যেই বরখাস্ত করা হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি অভিযুক্তের ভূমিকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হচ্ছে। ফেডারেশন সভাপতি ইব্রাহিম হ্যাসিয়োসমানলু (Ibrahim Hacıosmanoğlu) বলেন, “তুরস্কের ফুটবলে নৈতিক সঙ্কট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে আমরা গড়াপেটা রোধে কাজ করছি, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি আমাদের ফুটবলের আসল সমস্যা নীতির অভাব।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রেফারিদের পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক না দেওয়াই কি এই দুর্নীতির মূল কারণ? উত্তরে ইব্রাহিম বলেন, “যে কোনও রেফারিকে জিজ্ঞেস করুন। কেউ বলতে পারবে না যে বেতন পাইনি বা দেরিতে পেয়েছি। বরং আমরা প্রতি বছর রেফারিদের বেতন বাড়িয়ে যাচ্ছি। যদি একজন রেফারিও এমন প্রমাণ দিতে পারে, আমি ফেডারেশন সভাপতির পদ ছেড়ে দেব।”

তুরস্কের এই ঘটনায় রীতিমতো চিন্তিত ফিফা (FIFA) ও উয়েফা (UEFA)। কারণ, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রেফারি, কোচ বা খেলোয়াড় কেউই কোনওভাবে জুয়া বা ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। ফিফা ও উয়েফা স্পষ্ট জানিয়েছে, সামান্যতম যোগাযোগও অপরাধ বলে গণ্য হবে। ফেডারেশনের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা চাই না তুরস্কের ফুটবল আবারও কলঙ্কিত হোক। ফুটবলকে জুয়া আর দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে সব রকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রভাব শুধু তুরস্ক নয়, গোটা ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনেই পড়েছে। কারণ, তুরস্কের সুপার লিগ (Super League) ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে, এই দুর্নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

ফুটবল সমালোচকদের মতে, এই কেলেঙ্কারি তুরস্কের ফুটবলের বিশ্বাসযোগ্যতাকে গভীরভাবে নড়বড়ে করে দিয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষক ও সাবেক ফুটবলারদের অনেকে বলছেন, রেফারিদের উপর আস্থা পুনর্গঠনের জন্য শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, নৈতিক পুনর্জাগরণও জরুরি। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অধ্যাপক ডঃ আলপার সেন (Dr. Alper Sen) বলেছেন, “এটা শুধু ম্যাচ ফিক্সিং নয়, এটা সামাজিক মানসিকতার প্রতিফলন। যখন অর্থনৈতিক প্রলোভন নীতিকে ছাড়িয়ে যায়, তখন খেলাধুলার আত্মাই হারিয়ে যায়। তুরস্ক এখন সেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।”

অন্যদিকে, জনমতের চাপ বাড়ছে। ফুটবলপ্রেমীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবিতে সরব হয়েছেন, “দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও।” ফেডারেশন আশ্বাস দিয়েছে, তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং প্রমাণিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ২১ জনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, এর মধ্যে আরও অনেকের নাম যুক্ত হতে পারে। এই মামলার রেশ আগামী দিনে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।তুরস্কের ফুটবল ইতিহাসে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে এক কালো অধ্যায়। তবে হয়তো এই কেলেঙ্কারিই হতে পারে নতুন শুদ্ধতার সূচনা- যেখানে ফুটবল আবার ফিরে পাবে তার আসল মর্যাদা, প্রতিযোগিতার সততা, এবং খেলোয়াড়সুলভ স্পিরিট।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Bihar Rally | বিহারে বিপুল ভোটে ভরসা ‘মোদী-নীতীশ’ জুটিতে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর- ‘জঙ্গলরাজ’ আর ফিরবে না

Sasraya News
Author: Sasraya News