সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল সার (Fertilizer)। ফসল উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সময়মতো পর্যাপ্ত সার পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিলেও, সার উৎপাদন এবং চাষিদের জন্য তার সহজলভ্যতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি লোকসভায় দেওয়া লিখিত উত্তরে এই তথ্য তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় রসায়ন ও সার প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া এস. প্যাটেল (Anupriya S. Patel)। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় (Middle East) চলমান অস্থির পরিস্থিতির ফলে গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মাথায় রেখে ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘প্রাকৃতিক গ্যাস (সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ) আদেশ, ২০২৬’ [Natural Gas (Supply Regulation) Order, 2026] জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে অত্যাবশ্যক পণ্য আইন, ১৯৫৫ (Essential Commodities Act, 1955) -এর আওতায়।
এই নতুন ব্যবস্থায় সার কারখানাগুলিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক দ্বিতীয় শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যাতে তারা নিয়মিত গ্যাস পায়। সরকার নিশ্চিত করেছে যে, উৎপাদন চালু রাখার জন্য গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ বজায় থাকবে। এর পাশাপাশি পরিস্থিতি আরও সামাল দিতে অতিরিক্ত গ্যাস সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অনুপ্রিয়া প্যাটেল (Anupriya S. Patel) জানিয়েছেন, ‘সার উৎপাদন সচল রাখতে ১৮ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ইপিএমসি (EPMC বা Empowered Pool Management Committee) -এর মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা হয়েছে।’ এই প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ৭.৩১ মিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে। এর ফলে সার শিল্পে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। উৎপাদনের দিক থেকেও ইতিবাচক ছবি উঠে এসেছে। ১ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ ২০২৬ সময়কালে দেশে মোট ১৩.৫৫ লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া (Urea) উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি ৭.৬২ লক্ষ মেট্রিক টন ডিএপি/এনপিকে (DAP/NPK) এবং ৩.০৬ লক্ষ মেট্রিক টন এসএসপি (SSP) উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, গ্যাস সরবরাহে চাপ থাকলেও উৎপাদনের গতি ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
চাষীদের চাহিদা পূরণে সরকার আগাম পরিকল্পনাও করছে। প্রতিটি ফসলি মরশুমের আগে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতর (Department of Agriculture & Farmers Welfare) রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সার চাহিদার হিসাব তৈরি করে। সেই অনুযায়ী সার দফতর (Department of Fertilizers) মাসিক সরবরাহ পরিকল্পনা তৈরি করে বিভিন্ন রাজ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাঠায়। পাশাপাশি মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতির উপর নজরদারিও চালানো হচ্ছে। বর্তমান মজুত পরিস্থিতিও যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩.০৮ লক্ষ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ২১.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন ডিএপি, ৭.৯৮ লক্ষ মেট্রিক টন এমওপি (MOP) এবং ৪৮.৩৮ লক্ষ মেট্রিক টন এনপিকে মজুত রয়েছে। এই পরিমাণ মজুত আগামী মরশুমে চাষিদের প্রয়োজন মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রাকৃতিক গ্যাস সার উৎপাদনের একটি প্রধান উপাদান হওয়ায় তার সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ কৃষিক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
চাষের মৌসুমে সার না পেলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সময়মতো সঠিক পরিমাণে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের কাছে একটি বড় দায়িত্ব। সেই দিক থেকে বর্তমান উদ্যোগগুলি কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। প্রসঙ্গত যে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেয়, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবে আপাতত সরকার চেষ্টা করছে যাতে দেশের ভেতরে সার উৎপাদন ও সরবরাহে কোনও বড় সমস্যা তৈরি না হয় এবং কৃষিকাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : INS Sudarshini France | ফ্রান্সে ভারতের ‘ভাসমান দূত’! ঐতিহাসিক সেতে বন্দরে আইএনএস সুদর্শিনী, বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল সামুদ্রিক ঐতিহ্য




