সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত শিল্পপতি ইলন মাস্ক (Elon Musk) ফের বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এবার কোনও নতুন রকেট উৎক্ষেপণ বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ঘোষণার জন্য নয়, বরং ইউরোপের বৃহত্তম স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা রায়ানএয়ারকে (Ryanair) ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া এক অদ্ভুত বিতর্কের কারণে। ব্যবসায়িক মতবিরোধ ক্রমে রূপ নেয় ব্যক্তিগত বাকযুদ্ধে, যার পরিণতিতে ‘রায়ানএয়ার কিনে নেওয়া উচিত কি না’ তা জানতে এক্স (X)-এ প্রকাশ্য ভোটাভুটি খুলে দেন মাস্ক।
ঘটনার সূত্রপাত স্টারলিংক (Starlink) পরিষেবা নিয়ে। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংস্থা স্টারলিংককে বিমানের মধ্যে ওয়াই-ফাই পরিষেবা হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু রায়ানএয়ার কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাদের ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে স্টারলিংক সংযুক্ত করা লাভজনক নয়। সংস্থার দাবি, এই প্রযুক্তি বসালে খরচ যেমন বাড়বে, তেমনই পরিচালন ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়বে।
এই সিদ্ধান্তের পরই বিতর্ক প্রকাশ্যে আসে। প্রথমে তা ছিল নিছক ব্যবসায়িক মতপার্থক্য, কিন্তু দ্রুতই তা ব্যক্তিগত মন্তব্য ও পাল্টা আক্রমণে রূপ নেয়। রায়ানএয়ারের সিইও মাইকেল ও’লিয়ারি (Michael O’Leary) একটি সাক্ষাৎকারে মাস্ককে নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এ ধরনের মন্তব্য গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয়’, এমনকি তিনি মাস্ককে ‘ইডিয়ট’ বলেও আখ্যা দেন বলে দাবি ওঠে। এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাস্ক। এরপর এক্স-এ পাল্টা পোস্টে ইলন মাস্ক লেখেন, ও’লিয়ারি একজন ‘utter idiot’। শুধু তাই নয়, আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি লেখেন ‘Fire him’। এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দুই শিল্পপতির এই বাকযুদ্ধ সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে।
এই আবহেই ইলন মাস্ক এক্স-এ একটি জনমত সমীক্ষা বা পোল পোস্ট করেন। সেখানে অত্যন্ত সহজ ভাষায় প্রশ্ন রাখা হয়, ‘Should I buy Ryanair?’ অর্থাৎ ‘আমার কী রায়ানএয়ার কিনে নেওয়া উচিত?’ মাস্কের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা ও হালকা ভঙ্গিতেই প্রশ্নটি তোলা হয়, তবে তার প্রভাব ছিল বিস্ময়কর। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পোলটিতে ভোট পড়ে সাড়ে সাত লক্ষের বেশি। লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৬.৮ শতাংশ ভোটদাতা এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। যদিও মাস্ক নিজে কোথাও স্পষ্ট করে বলেননি যে এটি আদৌ কোনও বাস্তব অধিগ্রহণ পরিকল্পনার ইঙ্গিত কী না। অনেকেই মনে করছেন, এটি নিছকই একটি কৌতুক বা সমর্থকদের মনোভাব যাচাই করার কৌশল।
তবে বিতর্ক এখানেই থামেনি। ইলন মাস্ক নিজের পোস্টে শব্দখেলা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির রেফারেন্স ব্যবহার করে লেখেন, রায়ানএয়ার এমন কারও দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত যার নাম ‘রায়ান’। তিনি মজা করে লেখেন, ‘restore Ryan as their rightful ruler’, এবং শেষে যোগ করেন, ‘it is your destiny’। এই মন্তব্য ‘স্টার ওয়ার্স’ অনুরাগীদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে এবং অনলাইন আলোচনাকে আরও উসকে দেয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই রায়ানএয়ারের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও আলোচনায় যোগ দেয়। একবার পরিষেবাজনিত বিভ্রাটের সময় তারা রসিকতা করে মাস্ককে প্রশ্ন করে, তাঁর কি ওয়াই-ফাই দরকার? এই মন্তব্যও ব্যাপকভাবে শেয়ার হয় এবং গোটা ঘটনাকে আরও নাটকীয় করে তোলে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো ঘটনার মধ্যে বাস্তব ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের চেয়ে ব্র্যান্ডিং ও জনসংযোগের দিকটাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এলন মাস্ক আগেও বহুবার এক্স-এ পোল ও বিতর্কিত মন্তব্য করে বাজার ও জনমত নাড়িয়ে দিয়েছেন। টেসলা (Tesla) বা স্পেসএক্স (SpaceX) -এর ক্ষেত্রেও এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। রায়ানএয়ার প্রসঙ্গে এই পোল আদৌ কোনও অধিগ্রহণের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অন্য দিকে, রায়ানএয়ার কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ভোটাভুটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তাদের বক্তব্য আগের মতোই, স্টারলিংক তাদের ব্যবসার জন্য উপযুক্ত নয়। তবে সিইও ও’লিয়ারির ব্যক্তিগত মন্তব্য যে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে, তা মানছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, একটি প্রযুক্তিগত পরিষেবা নিয়ে মতবিরোধ থেকে শুরু হয়ে বিষয়টি এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে। ইলন মাস্কের এক্স পোল আপাতত বিনোদন ও কৌতূহলের খোরাক হলেও, ভবিষ্যতে এর কোনও বাস্তব প্রভাব পড়ে কি না, সে দিকেই নজর রাখছে বিশ্ব।
ছবি : প্রতীকী




