সাশ্রয় নিউজ ★ ওয়াশিংটন : খোদ আমেরিকার অর্থনীতি বিপদের মুখে পড়তে পারে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করে সরব হলেন টেসলা (Tesla) ও স্পেসএক্স (SpaceX)-এর কর্ণধার ইলন মাস্ক (Elon Musk)। তাঁর নিশানায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। একটি বিলকে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য এখন প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নিচ্ছে। মাস্কের দাবি, এই বিল ‘ঋণের দাসত্ব’ তৈরি করবে। এমনকি, সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা নিজ নিজ সেনেটরকে বলুন, এই বিল বাতিল করুন। এটা আমেরিকাকে দেউলিয়া করে দেবে।’’ ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে বেশ ঘনিষ্ঠ বলেই মনে হচ্ছিল। ট্রাম্পের দ্বিতীয় বার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁকে কার্যত ছায়াসঙ্গীর মতো পাশে পেয়েছিলেন রিপাবলিকানরা। কিন্তু নতুন ব্যয় সংক্রান্ত বিল নিয়ে সেই মধুচন্দ্রিমা সম্ভবত শেষ। ট্রাম্প যেখানে বিলটিকে ‘দূরদর্শী ও দারুণ প্রয়োজনীয়’ বলে প্রশংসা করছেন, মাস্ক তাতে বিপদের গন্ধ পাচ্ছেন। তাঁর যুক্তি, ‘‘এই বিল বাস্তবায়িত হলে আমেরিকার ঋণ এমন জায়গায় পৌঁছবে, যেখান থেকে ফেরার আর পথ থাকবে না।’’ বৃহস্পতিবার তাঁর এক্স (X)-এর হ্যান্ডলে মাস্ক লেখেন, ‘‘এই বিল আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ধ্বংস করবে। বলুন আপনার কংগ্রেস প্রতিনিধিকে, আমেরিকাকে দেউলিয়া করবেন না। এই বিল বন্ধ করুন।’’ তিনি পরের পোস্টে আরও কঠোর হয়ে বলেন, ‘‘এটা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক ঋণ বৃদ্ধির বিল। এটা আসলে ‘ডেট স্লেভারি’ ঋণের দাসত্ব তৈরির পথ।’’ এই মন্তব্যের পরেই আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্ক সরাসরি ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ না করলেও, এই বিলের বিরোধিতা মানেই একপ্রকার ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধেই অবস্থান। বিশেষ করে ট্রাম্প নিজে যখন এই বিলের প্রচারে ব্যস্ত, তখন মাস্কের এই ঘরানার সমালোচনা ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ’ বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকে বলছেন, এটি রিপাবলিকান দলে মতভেদের প্রতিফলন। এই বিতর্কে আরও রং লাগিয়েছে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর অবস্থান থেকে সরবেন না। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘‘ইলন মাস্ক কী বললেন, সেটা প্রেসিডেন্টের মত বদলাবে না। তাঁর নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। সেটা দেখেই এমন প্রচার চালাচ্ছেন।’’ বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর নির্দিষ্ট করছাড় প্রত্যাহার সংক্রান্ত অংশ নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। সূত্রের খবর, এই বিলে বৈদ্যুতিন গাড়ি প্রস্তুতকারকদের একাধিক করছাড়ের সুবিধা হ্রাস করা হয়েছে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে টেসলার মতো সংস্থার উপর। প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, মাস্ক এই কারণেই এতটা সক্রিয় হয়েছেন। যদিও মাস্কের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘‘তিনি কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কথা বলছেন না। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’’ এই অবস্থায় ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। তাঁরা মাস্কের বক্তব্যকে হাতিয়ার করতে চাইছে রিপাবলিকানদের বিরোধিতায়। কংগ্রেসে বিল পাসের আগে এই বিরোধিতা কতটা কার্যকর হয়, তা সময় বলবে। তবে মাস্কের মতপ্রকাশ যে ট্রাম্প শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এখানেই শেষ নয়। এই বিতর্কে শামিল হয়েছেন বহু প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদও। তাঁদের অনেকেই মাস্কের আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাঁরা বলছেন, ‘‘এই ধরনের বিল বাস্তবায়নের আগে আরও খোলামেলা আলোচনা দরকার ছিল। দেশের ঋণ ঘিরে যে উদ্বেগ আছে, তা একেবারে ভিত্তিহীন নয়।’’
এদিকে, রিপাবলিকানদের একটি অংশের মধ্যেও ফাটল ধরতে শুরু করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ হয়েও মাস্কের মতো জননন্দিত ও বিতর্কিত ফিগার যদি মুখ খুলে সরকারের অর্থনীতিক দিশা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে দলের ঐক্য নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫-এর নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব রিপাবলিকানদের পরিণতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একটি বিল, একাধিক মত। দেশের ভবিষ্যৎ আর্থিক দিকনির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব, যার মূলে ইলন মাস্কের কণ্ঠস্বর। এখন দেখার, এই কণ্ঠ কতটা জোরালো হয়ে ওঠে, আর তার প্রভাবে কতটা কেঁপে ওঠে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Anuradha: Reviving Sarat Chandra’s Vision for Today



