অভিজিৎ দত্ত : ১ জুলাইয়ের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের (Dr. Bidhan Chandra Roy) জীবন ও উত্তরাধিকার। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রের ইতিহাসে যে ক’টি নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিধানচন্দ্র রায় (Bidhan Chandra Roy)। একজন কৃতী চিকিৎসক, স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষাবিদ ও সফল রাজনীতিবিদ। একাধিক পরিচয়ে উজ্জ্বল এই ব্যক্তিত্বের জন্ম ও মৃত্যুর দিন একই, ১ জুলাই। আর এই কারণেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর ১ জুলাই সারা দেশে পালিত হয় ডক্টরস ডে বা চিকিৎসক দিবস।
১৯৩১ সালে কারাবরণ করেন। ১৯৪৭ সালের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদ অলংকৃত করেন টানা ১৪ বছর। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নেয় পরিকল্পিত শহর : দুর্গাপুর (Durgapur), বিধাননগর (Bidhannagar), কল্যাণী (Kalyani) ও অশোকনগর-কল্যাণগড়। অনেকেই বলেন, আধুনিক সল্টলেকের (Salt Lake) চেহারাও গড়ে উঠেছে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির ফসল হিসেবে।অন্যদিকে, স্বাধীন ভারতের নির্মাতা মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রথম সারির একজন। তাঁকে আজও পশ্চিমবঙ্গের রূপকার হিসেবে মনে রাখে রাজ্যবাসী। ১৯৬১ সালে তাঁকে প্রদান করা হয় দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ (Bharat Ratna)। কিন্তু এর আগেই তিনি বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নির্ভীক ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে।
১৮৮২ সালের ১ জুলাই, পাটনার একটি মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে বিধানচন্দ্র রায়-এর জন্ম। পিতা প্রকাশচন্দ্র রায় (Prakash Chandra Roy) ছিলেন সরকারি কর্মচারী ও মাতা অঘোর কামিনী দেবী (Aghore Kamini Devi) ছিলেন এক কঠোর নিয়মে বাঁধা গৃহিণী। ছোট থেকেই মেধাবী বিধানচন্দ্র পাটনার প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ভর্তি হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। এরপর ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডে গিয়ে পাস করেন MRCP ও FRCS- একই বছরে। যা তখনকার যুগে ছিল বিরল কৃতিত্ব।
বিদেশ থেকে ফিরে এসে যোগ দেন নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে। তবে তাঁর জীবন থেমে থাকেনি শুধুই চিকিৎসালয়ের চৌহদ্দিতে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯৩১ সালে কারাবরণ করেন। ১৯৪৭ সালের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদ অলংকৃত করেন টানা ১৪ বছর। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নেয় পরিকল্পিত শহর : দুর্গাপুর (Durgapur), বিধাননগর (Bidhannagar), কল্যাণী (Kalyani) ও অশোকনগর-কল্যাণগড়। অনেকেই বলেন, আধুনিক সল্টলেকের (Salt Lake) চেহারাও গড়ে উঠেছে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির ফসল হিসেবে।অন্যদিকে, স্বাধীন ভারতের নির্মাতা মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রথম সারির একজন। তাঁকে আজও পশ্চিমবঙ্গের রূপকার হিসেবে মনে রাখে রাজ্যবাসী। ১৯৬১ সালে তাঁকে প্রদান করা হয় দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ (Bharat Ratna)। কিন্তু এর আগেই তিনি বহু মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন একজন নির্ভীক ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে।
ডঃ রায়ের মানবিকতা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও তিনি সপ্তাহে একদিন বিনামূল্যে রোগী দেখতেন। একবার তো রেলের এক সাধারণ কুলিকে নিজের হাতে চিকিৎসা করেছিলেন, কারণ তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন ও রাস্তায় পড়েছিলেন। মানুষের জীবনকে তিনি দেখতেন ধর্মীয় নয়, মানবিক দৃষ্টিতে। তিনি বলেছিলেন, “রোগীর ধর্ম বা জাত নয়, শুধু ওঁর বাঁচার আকুতি আমি দেখি।”
১৯৬২ সালের ১ জুলাই নিজের ৮০তম জন্মদিনে দেহ রাখেন এই মহাপুরুষ। আর সেইদিন থেকেই শুরু হয় চিকিৎসক দিবস পালনের ঐতিহ্য, যদিও সরকারিভাবে কেন্দ্র ১৯৯১ সাল থেকে একে National Doctor’s Day হিসাবে পালন শুরু করা হয়। এর উদ্দেশ্য একটাই চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং এই মহান পেশার গুরুত্ব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা।
চিকিৎসক দিবস মানে শুধু পুরস্কার বা বক্তৃতা নয়। এটা যেন হয় আত্মসমালোচনার দিনও। কারণ চিকিৎসা এখন শুধু সেবার কাজ নয়, ব্যবসার রূপও নিয়েছে বহু ক্ষেত্রে। একাধিক ঘটনায় প্রমাণ মিলেছে, অসাধু চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক রোগী। এমনকী অপারেশন থিয়েটারে ভুল অঙ্গ কেটে ফেলার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। তাই এই দিনেই প্রশ্ন ওঠে “ডঃ রায়ের আদর্শের ধারেকাছেও কি আমরা আছি?” সমাজে চিকিৎসকের অবদান অবশ্যই অপরিসীম। তাঁরা একপ্রকার ঈশ্বরের প্রতিনিধি, যাঁরা মৃত্যু ও জীবনের সীমানায় দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান প্রতিদিন। কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব শুধু চিকিৎসা নয়, মানবিকতাকেও তুলে ধরা। তাই এই দিনটি সকল চিকিৎসককে স্মরণ করিয়ে দেয়, রোগীকে শুধু ব্যবসার দৃষ্টিতে নয়, মানুষ হিসেবে দেখার দায়বদ্ধতা রয়েছে।ডক্টরস ডে উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে আয়োজিত হয় নানা আলোচনা সভা, সেমিনার এবং কৃতী চিকিৎসকদের সংবর্ধনা। তবে শুধু উৎসবের দিনে নয়, প্রতিটি চিকিৎসকের মধ্যে সত্যনিষ্ঠা, সহানুভূতি ও মানবিকতা-কে যেন রোজ জাগ্রত রাখা হয়, সেটাই কাম্য। আমরা সম্প্রতি পেরিয়ে এসেছি ১ জুলাই, অর্থাৎ ন্যাশনাল ডক্টরস ডে। আমরা আবারও স্মরণ করি বিধানচন্দ্র রায়কে। মনে রাখি সেই অনন্য শিক্ষা, “জন্ম হউক যথাতথা, কর্ম হউক ভাল।” অর্থবহ করে তুলুন এটাই হোক আজকের অঙ্গীকার।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya| শমীক ভট্টাচার্যকে নিয়ে ঐক্যের সুর বিজেপিতে, তবু দিলীপ ঘোষকে এড়িয়ে গেলেন শুভেন্দু




