সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের স্টার্টআপ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনস্থ শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগ (DPIIT) একটি শীর্ষ ডিজিটাল এন্টারটেনমেন্ট সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশজুড়ে স্টার্টআপ, উদ্ভাবক ও উদ্যোগপতিদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সরকারি সূত্রে খবর যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল এন্টারটেনমেন্ট, অনলাইন গেমিং, ই-স্পোর্টস, ইন্টারঅ্যাক্টিভ মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তিতে কাজ করা স্টার্টআপগুলিকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রগুলিকে ভবিষ্যতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে, ফলে এখানকার উদ্যোগগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : Women Empowerment India Scheme | নারী ও শিশু উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ, সংসদে কেন্দ্রের বিস্তৃত পরিকল্পনা
এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলি মেন্টরশিপ, শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মশালা, হ্যাকাথন ও মাস্টারক্লাস আয়োজনের মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার পথ তৈরি করা হবে। উদ্যোগপতিদের সামনে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার চ্যালেঞ্জও রাখা হবে, যাতে তারা নিজেদের পণ্য ও পরিষেবা আরও উন্নত করতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, স্টার্টআপগুলিকে ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ বা প্রাথমিক মডেল তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাজারে প্রবেশ এবং শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। সরকারি এক কর্তা বলেন, ‘এই সহযোগিতা স্টার্টআপদের বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দেবে এবং তাদের ধারণাকে কার্যকর পণ্যে রূপান্তর করতে সাহায্য করবে।’
এই উদ্যোগে DPIIT-এর সঙ্গে কাজ করবে ক্র্যাফটন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড (KRAFTON India Pvt. Ltd.), যারা ডিজিটাল গেমিং জগতে একটি পরিচিত নাম। যৌথভাবে ‘ভারত স্টার্টআপ গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ -এর অধীনে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি গেম ডিজাইন, অ্যানিমেশন, ইমার্সিভ প্রযুক্তি, ই-স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে। এই সহযোগিতার ফলে স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক মানের কাজের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। বিশ্বমানের পদ্ধতি ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তারা নিজেদের কাজকে আরও উন্নত করতে পারবে। নির্বাচিত কিছু স্টার্টআপকে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় পরিসরে কাজ করার পথ খুলে দেবে। এই প্রসঙ্গে DPIIT-এর যুগ্ম সচিব সঞ্জীব বলেন, ‘এই ধরনের উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। স্টার্টআপগুলি নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছে, তাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য এমন সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।’ তাঁর মতে, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোগগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন DPIIT-এর উপসচিব টি. এল. কে. সিং এবং ক্র্যাফটন ইন্ডিয়ার সরকারি সম্পর্ক বিভাগের প্রধান বিভোর কুকরেতি। উভয় পক্ষের শীর্ষ আধিকারিকরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্টার্টআপ ইন্ডিয়া কর্মসূচীর আওতায় এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য ও শহরে পৌঁছে নতুন উদ্যোগপতিদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভা সামনে আসার সুযোগ পাবে। ভারতে গত কয়েক বছরে স্টার্টআপ ক্ষেত্র দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলির সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল এন্টারটেনমেন্ট ও গেমিং শিল্পে ভারতের উপস্থিতি বাড়াতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমান সময়ের অর্থনীতিতে প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের সহযোগিতা দেশের তরুণ উদ্যোগপতিদের জন্য নতুন পথ তৈরি করছে। উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভবিষ্যতের ভারতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Modi Parliament Speech | অনুপ্রবেশ থেকে নীতি রাজনীতি, রাজ্যসভায় এক নিশ্বাসে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে আক্রমণ নরেন্দ্র মোদীর




