সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান উন্নত করতে একাধিক প্রকল্প ও নীতির বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সংসদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তরে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের মহিলাদের সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা এবং শিশুদের সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই তথ্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর (Savitri Thakur)। মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীদের ক্ষমতায়ন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা, অধিকার রক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একাধিক নীতিমালার মাধ্যমে নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানো এবং সমাজের মূল স্রোতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে। সরকারি সূত্রে খবর, শিশুদের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সুরক্ষার জন্য বহুমুখী কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘শিশুদের এমন পরিবেশে বড় করে তোলা হচ্ছে, যেখানে তারা পূর্ণ বিকাশের সুযোগ পায়।’ এই লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন প্রকল্প একসঙ্গে কাজ করছে।
নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হল বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও (Beti Bachao Beti Padhao)। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল কন্যাসন্তানের জন্মহার বৃদ্ধি এবং মেয়েদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন। সময়ের সঙ্গে এই প্রকল্প একটি জাতীয় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। সরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই কর্মসূচী দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প বর্তমানে চালু নেই। নারী নিরাপত্তা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘মিশন শক্তি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই কর্মসূচীর মাধ্যমে মহিলাদের সুরক্ষা এবং স্বনির্ভরতার জন্য দু’টি প্রধান ভাগে কাজ করা হচ্ছে ‘সম্বল’ ও ‘সমর্থ্য’। ‘সম্বল’ অংশে রয়েছে ওয়ান স্টপ সেন্টার, মহিলা হেল্পলাইন এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা, যেখানে সংকটের মুখে থাকা মহিলারা দ্রুত সহায়তা পান। অন্যদিকে ‘সমর্থ্য’ অংশে মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৯২৬টি ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু রয়েছে, যেখানে ১৩ লক্ষেরও বেশি নারী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়েছেন। এই কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পরামর্শ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের মতো পরিষেবা দেওয়া হয়। মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘এই কেন্দ্রগুলি মহিলাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার জায়গা হয়ে উঠেছে।’
পুষ্টি ও শিশুকল্যাণের ক্ষেত্রে ‘সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০’ প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিশু, গর্ভবতী মহিলা, স্তন্যদানকারী মা এবং কিশোরীদের পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দেওয়া হয় পুষ্টি, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, টিকাকরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রেফারাল পরিষেবা। সরকার জানিয়েছে, পুষ্টি সংক্রান্ত মানদণ্ডেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় শুধু ক্যালোরির উপর নয়, পাশাপাশি পুষ্টির গুণগত মানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রোটিন, ভিটামিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সুষম উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ‘পোষণ ট্র্যাকার’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যা অঙ্গনওয়াড়ি পরিষেবার নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে শিশুদের বৃদ্ধি, পুষ্টির অবস্থা এবং পরিষেবার কার্যকারিতা প্রায় রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, পুষ্টি সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ‘পোষণ মাস’ এবং ‘পোষণ পক্ষ’ উপলক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচী চালানো হচ্ছে, যাতে মানুষ সঠিক খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হয়। সরকারি সূত্রে জানা যায়, এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের এই বহুমুখী কর্মসূচী ভবিষ্যতে দেশের সামাজিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ




