Domkal MLA death | প্রয়াত ডোমকলের তৃণমূল বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম

SHARE:

পলাশ গোস্বামী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বহরমপুর : দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে প্রয়াত হলেন ডোমকলের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধায়ক জাফিকুল ইসলাম (Jafikul Islam)। শুক্রবার কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। গত এক মাস ধরে শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এই জননেতা। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে রাজ্যের শাসকদলে। সূত্রের খবর, তিনি কর্কট রোগে আক্রান্ত ছিলেন। 

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় একটি মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জাফিকুল ইসলাম। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে রাখার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে শুক্রবার চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে প্রয়াত হন ডোমকলের এই বিধায়ক। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। দলের এক নেতার কথায়, “জাফিকুলবাবুর রাজনৈতিক জীবন খুব দীর্ঘ না হলেও, তিনি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছেন। তাঁর প্রয়াণ আমাদের জন্য বড় ক্ষতি।”

২০২৩ সালে আলোচনায় আসেন জাফিকুল ইসলাম, যখন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই (CBI) অভিযান চালায় তাঁর ডোমকলের বাড়িতে। প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। যা নিয়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার। যদিও জাফিকুল ইসলাম তখন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, “আমি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। সবটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” ডোমকল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে উঠে আসার পথটা একেবারেই সহজ ছিল না জাফিকুল ইসলামের। প্রথমে পুরভোটে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন তিনি। পরে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হলে পুরপ্রধানের আসনে বসেন। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক উত্থান। স্থানীয় রাজনীতিতে ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়াতে থাকেন।

স্থানীয় মানুষের দাবি, সাধারণ জীবনযাপন করলেও রাজনীতির মঞ্চে দ্রুত উত্থান ঘটিয়েছিলেন জাফিকুল ইসলাম। এক সময় সাধারণ গাড়ি কিনে নিজেই চালাতেন। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে এলাকার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে ডোমকল জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “বিধায়ক হিসেবে হয়ত তিনি অনেক কাজ করতে পারেননি, কিন্তু সহজ-সরল স্বভাবের জন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন।”

প্রয়াত বিধায়কের মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনৈতিক মহল শোকস্তব্ধ। মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর অনুপস্থিতি বড় ফাঁক তৈরি করবে বলে মনে করছে অনেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, জাফিকুল ইসলাম সংগঠনে নিজের জায়গা পাকা করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে তৃণমূল কংগ্রেস এক প্রভাবশালী জেলা নেতাকে হারাল। জাফিকুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ডোমকলের বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করে। অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। দলের পতাকা অর্ধনমিত রেখে তাঁকে স্মরণ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মৃত্যুর ফলে ডোমকলের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন আসবে। কারণ জাফিকুল ইসলাম ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূলের অন্যতম মুখ। তাঁর অভাব পূরণ করা দলের পক্ষে সহজ হবে না।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : SSC Tainted List, Sumana Mallick, Hatgobindapur College | এসএসসি দাগি তালিকায় কলেজ প্রিন্সিপালের স্ত্রী, অস্বস্তিতে শিক্ষা মহল

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন