বসুধা চৌধুরী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : শীতের সকালে আয়নায় তাকিয়ে হঠাৎ মনে হয়, মুখে যেন সেই আগের মতো উজ্জ্বলতা নেই। ঠাণ্ডা বাতাসে রুক্ষ হয়ে যাওয়া ত্বক, জলের অভাবে টানটান অনুভূতি, মেকআপও ঠিকঠাক বসে না, সব মিলিয়ে শীতকাল অনেকের কাছেই ত্বকের দুঃস্বপ্নের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মৌসুমে আমাদের ত্বক নিজের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা দ্রুত হারায়। ফলে মুখ নিস্তেজ হয়ে পড়ে, ত্বকের কোষ মারা যায়, এমনকি অল্পতেই ফাটে বা খসখসে হয়। তাই প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। কিন্তু সেই যত্ন মানেই ব্যয়বহুল স্কিনকেয়ার নয়, বরং ঘরেই তৈরি করা যায় এমন কিছু প্রাকৃতিক ফেসপ্যাকেই ফিরে আসবে ত্বকের প্রাণচাঞ্চল্য।
ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. মীরা সেনগুপ্ত বলেন, “শীতে ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে হবে ভেতর থেকে এবং বাইরে থেকে। পর্যাপ্ত জলপান, সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাক ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায়।” তাই এবার জানুন এমন পাঁচটি ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কথা, যা নিয়মিত ব্যবহার করলে শীতেও মুখে ফুটে উঠবে গোলাপি আভা:

>প্রথমেই অ্যালোভেরা (Aloe Vera) ও মধু (Honey) -এর ফেসপ্যাক। এটি শীতকালের জন্য যেন এক জাদুকরী সমাধান। অ্যালোভেরা জেল ও এক চা চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান, প্রায় ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মধুতে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বককে সংক্রমণমুক্ত রাখে, আর অ্যালোভেরা গভীরভাবে ত্বককে হাইড্রেট করে। ত্বক বিশেষজ্ঞ রেশমা দত্ত বলছেন, “এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে শীতের শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়, ত্বক পায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।”
>দ্বিতীয় উপায় হল, দুধ (Milk) ও হলুদ (Turmeric) -এর প্যাক। কাঁচা দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে মুখে লাগান। এটি শুধু ময়েশ্চারাইজ করে না, ত্বকের রঙও উজ্জ্বল করে তোলে। দুধে থাকা ল্যাক্টোজ ত্বককে কোমল করে, আর হলুদ ব্রণ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন এই প্যাক ব্যবহার করলে কয়েক দিনের মধ্যেই ত্বকের পার্থক্য টের পাবেন। প্রাচীন আয়ুর্বেদেও এই সংমিশ্রণটি ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে।
তৃতীয় প্যাকটি হল, কলা (Banana) ও ক্রিম (Milk Cream) -এর জুড়ি। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি নিখুঁত সমাধান। অর্ধেক পাকা কলা মেখে তাতে এক চামচ দুধের ক্রিম ও সামান্য মধু যোগ করুন। মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। কলায় থাকা ভিটামিন এ ও ই ত্বককে পুনর্গঠন করে, আর ক্রিম ত্বককে গভীরভাবে আর্দ্র করে। “এই প্যাকটি রেগুলার ইউজ করলে লাইন, রিঙ্কল বা ফ্ল্যাকি ভাব কমে,” জানালেন স্কিন থেরাপিস্ট কৃতিকা ঘোষ।
>চতুর্থ উপায়, ওটমিল (Oatmeal) ও দই (Yogurt) -এর ফেসপ্যাক। এটি একাধারে এক্সফোলিয়েটর ও হাইড্রেটর হিসেবে কাজ করে। দুই টেবিল চামচ ওটস ও এক টেবিল চামচ দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ১০ মিনিট রেখে হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেললে মুখের মৃত কোষ দূর হবে, ত্বক হবে নরম ও উজ্জ্বল। সপ্তাহে এক বা দু’বার এই প্যাক ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।
>এবার জানাব, চন্দন (Sandalwood) ও গোলাপ জল (Rose Water) -এর ফেসপ্যাক। যাদের ত্বক শীতকালে অতটা শুষ্ক হয় না, তাদের জন্য এই প্যাক আদর্শ। এক চা চামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল ও দুধ মিশিয়ে মুখে লাগান। চন্দন ত্বককে ঠাণ্ডা রাখে ও রঙ উজ্জ্বল করে, অন্যদিকে গোলাপ জল টোনার হিসেবে কাজ করে, ত্বকের ভারসাম্য রক্ষা করে। ফলে শীতে মুখে ফিরে আসে সতেজতা।

শুধু প্যাক লাগানোই যথেষ্ট নয়, এই সময় নিয়মিত ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজিং ও সানস্ক্রিন ব্যবহারে ভুল করা চলবে না। অনেকে মনে করেন শীতে রোদ কম, তাই সানস্ক্রিন দরকার নেই, এটি একটি ভুল ধারণা। সূর্যের ইউভি রশ্মি (UV rays) তখনও ত্বকের ক্ষতি করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, জলপান। ঠাণ্ডা অনেকেই কম জল খান, কিন্তু পর্যাপ্ত জল না খেলে শরীরের সঙ্গে ত্বকও শুষ্ক হয়। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস জল পান করার অভ্যাস রাখুন। ত্বকের যত্ন মানেই কেবল বাহ্যিক প্রসাধনী নয়, বরং জীবনযাপনের একটি ভারসাম্য। প্রাকৃতিক উপাদান, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও পর্যাপ্ত জল, এই চারটি বিষয় মেনে চললেই শীতেও মুখে ফুটবে সেই কাঙ্ক্ষিত গোলাপি আভা। ত্বক বিশেষজ্ঞ ডা. মীরা সেনগুপ্তের কথায়, “ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান সব সময়েই নিরাপদ। অল্প নিয়ম মেনে চললেই ঠাণ্ডা হাওয়াতেও ত্বক টানটান, উজ্জ্বল ও মোলায়েম থাকবে।”
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : face reading astrology, physiognomy personality traits | চেহারাতেই লুকিয়ে আপনার ব্যক্তিত্ব! মুখের গঠন বলবে আপনি কেমন মানুষ




