Dharmanagar Jail Break News | নিরন্তর চিরুনি তল্লাশি, ধর্মনগর জেল ভাঙা অভিযুক্তদের মধ্যে একজন গ্রেফতার, পাঁচজন এখনও অধরা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ধর্মনগর, ত্রিপুরা : ত্রিপুরার (Tripura) উত্তর জেলায় টানটান উত্তেজনা। ধর্মনগরের (Dharmanagar) কালিকাপুর সাব জেল ভেঙে ছ’জন বন্দী পালানোর ঘটনায় রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ অবশেষে এক জনকে ধরতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে দক্ষিণ চন্দ্রপুর (South Chandrapur) এলাকা থেকে আব্দুল পাট্টা (Abdul Patta) নামে এক দুষ্কৃতীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে এখনও বাকি পাঁচ জন ফেরার রয়েছে এবং তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে জোরকদমে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত আব্দুল পাট্টা মূলত ধর্মনগর থানা এলাকারই বাসিন্দা। তাকে গ্রেফতারের পর জেলা সদর দফতরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বাকিদের অবস্থান নির্ধারণ করা। তাই আমরা ধৃত বন্দির কাছ থেকে সম্ভাব্য সূত্র বের করার চেষ্টা করছি।”

উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর নবমীর সকালে কালিকাপুর সাব জেল (Kalikapur Sub Jail) কেঁপে ওঠে চাঞ্চল্যে। ছ’জন বন্দী মিলিতভাবে জেলকর্মীদের উপর আক্রমণ চালিয়ে মূল ফটক ভেঙে পালিয়ে যায়। অভিযোগ, জেলের ফটকে কর্তব্যরত প্রহরীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করে পালিয়ে যায় তারা। ঘটনায় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।পলাতক ছ’জনের মধ্যে আব্দুল পাট্টাকে গ্রেফতার করা গেলেও বাকিদের খোঁজ এখনও মেলেনি। বাকি পাঁচ জন হলেন, নাজিম উদ্দিন (Nazim Uddin), রহিম আলি (Rahim Ali), সুনীল দেববর্মা (Sunil Debbarma), নারায়ণ দত্ত (Narayan Dutta) এবং রোজান আলি (Rozan Ali)। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, নাজিম উদ্দিন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। অন্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি, রাহাজানি থেকে শুরু করে একাধিক গুরুতর অপরাধের রেকর্ড। সূত্রের খবর, এদের মধ্যে একজন অসমের (Assam) ও একজন বাংলাদেশের (Bangladesh) বাসিন্দা। বাকি চারজন ত্রিপুরার স্থানীয়। এই তথ্য পুলিশের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, পলাতক বন্দীদের মধ্যে কেউ কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালাতে পারে বলে গোয়েন্দাদের আশঙ্কা।

উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশকুমার রাই (Avinash Kumar Rai) বৃহস্পতিবার বলেন, “আমরা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে খবর পেয়েছি যে, পলাতক দুষ্কৃতীরা সীমান্তে পালানোর চেষ্টা করতে পারে। তাই বিএসএফের (BSF) কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।” অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “এইসব দুষ্কৃতীরা যদি এলাকায় ঘোরাফেরা করে তাহলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে। আমরা চাই দ্রুত পুলিশ তাদের ধরুক।” উল্লেখ্য যে, ত্রিপুরার স্বরাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদস্থ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর রাজ্যের সমস্ত জেলেই নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। জেলের ভেতর ও বাইরে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

ধর্মনগরের এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সরকারের গাফিলতিতেই জেল ভাঙার মতো বড় ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, শাসক দল দাবি করছে, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং অভিযুক্তদের ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।রাতভর অভিযানের পরও যখন পাঁচ দুষ্কৃতী অধরা, তখন প্রশাসন এবং পুলিশের উপর চাপ আরও বেড়েছে। চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ছাড়াও জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে। পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে বিএসএফও নজরদারি শুরু করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে খবর, সীমান্ত এলাকায় প্রতিটি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। এই ঘটনায় জেলকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় বড়সড় ফাঁক থেকেই বন্দীরা পালাতে সক্ষম হয়েছে। সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ত্রিপুরা এখন অপেক্ষা করছে পাঁচ পলাতকের গ্রেফতারের খবর জানার জন্য। স্থানীয় মানুষের একটাই দাবি, দ্রুত এই দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করে শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Tripura jail escape | ত্রিপুরায় চাঞ্চল্য, ধর্মনগর জেল ভেঙে পালাল ৬ কুখ্যাত বন্দী

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment