পার্বতী কাশ্যপ, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডে কাজের ধারা, সময়সীমা আর পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। মা হওয়ার পর থেকে তিনি কাজের সময় নিয়ে বেশ সতর্ক। শোনা যাচ্ছে, আট ঘণ্টার বেশি কাজ করতে তিনি নারাজ। এমনকি এ কারণেই একের পর এক বড় বাজেটের ছবি থেকে বাদ পড়তে হচ্ছে তাঁকে। এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায় (Rani Mukerji)। নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি তুলে ধরলেন, মা হয়েও কীভাবে তিনি কাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন।

দীপিকা সম্প্রতি কয়েকটি ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। প্রযোজকরা দাবি করেছেন, তাঁর শর্তই প্রকল্পে সমস্যা তৈরি করেছে। শুধু আট ঘণ্টার কাজের নিয়ম নয়, তিনি ২০ কোটি টাকার পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন, এমনকি গোটা সহযোগী দলকে পাঁচতারা হোটেলে রাখার অনুরোধও করেন। এর ফলে সন্দীপ রেড্ডি বাঙ্গা (Sandeep Reddy Vanga) -এর পরিচালিত স্পিরিট ছবিতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। এমনকি ভবিষ্যতের বড় ছবি কল্কি ২৮৯৮ এডি (Kalki 2898 AD) -এর সিকুয়েল থেকেও বাদ পড়েছেন। প্রযোজক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এই ধরনের ছবি তৈরি করতে দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। দীপিকার জন্য আমাদের শুভকামনা রইল।”

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন রানি মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, মা হওয়ার পরও তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন অন্যভাবে। রানি বলেন, “আমি যখন হিচকি (Hichki) ছবির শুটিং করছিলাম, তখন আদিরার বয়স মাত্র ১৪ মাস। তখনও ও স্তন্যপান করত। তাই আমি স্তনদুগ্ধ পাম্প করে রেখে যেতাম। সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে শহরের কলেজে শুটিং করতাম।”

অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় তাঁর বাড়ি ছিল জুহুতে। সেখান থেকে শুটিং সেটে পৌঁছতে দুই ঘণ্টা সময় লাগত। সকাল সাড়ে ছ’টায় বেরিয়ে তিনি শুটিংয়ে পৌঁছতেন আটটার মধ্যে। দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ কাজ শেষ করে বিকেলের মধ্যে ফেরত আসতেন। রানি বলেন, “পুরোটাই হয়েছিল প্রযোজকের সঙ্গে বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। তিনি রাজি হয়েছিলেন, তাই শুটিং সহজ হয়েছিল। আর যদি রাজি না হতেন, তবে কাজটা আমি নিতাম না।”

রানি মনে করেন, শিল্পী ও প্রযোজকের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে অনেক সমস্যাই মেটে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কোনও প্রযোজক রাজি হলে শুটিং সহজেই কম সময়ে করা সম্ভব। কিন্তু কেউ রাজি না হলে জোর করার কিছু নেই। শিল্পীর নিজেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” এদিকে দীপিকার শর্ত নিয়ে বলিউডে মতভেদ চলছে। কেউ মনে করছেন, অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য আনার সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। আবার কেউ বলছেন, বড় বাজেটের সিনেমায় এত সীমাবদ্ধতা মানা যায় না। কারণ এই ধরনের প্রজেক্টে দিন-রাত এক করে কাজ করতে হয়।

কিন্তু, দীপিকার অবস্থানকে একেবারে অস্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দেন। তবে তার জন্য কাজের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া, বিশেষ করে যখন তা বহু কোটি টাকার প্রজেক্ট, স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে। শিল্পী হিসেবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দীপিকার আছে বলেই মনে করেন অনেকে। তবে একইসঙ্গে এই মতও উঠে আসছে যে, বড় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে গেলে ব্যক্তিগত শর্তে অতিরিক্ত জোর দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। রানি মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য অবশ্য অনেকের কাছে এক ধরনের বাস্তব শিক্ষা। কারণ তিনি দেখিয়েছেন, মা হয়েও পেশার সঙ্গে সমঝোতা করা যায়, যদি ইচ্ছা থাকে আর প্রযোজকের সহযোগিতা পাওয়া যায়। কিন্তু দীপিকার পছন্দ-অপছন্দ যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা বলিউড এখন স্পষ্টভাবেই টের পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত



