সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : একটা সময় মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপের মঞ্চেই হয়তো শেষ হয়ে যাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) পথচলা। পর্তুগালের (Portugal) বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর অবসরের কথা মাথায় এসেছিল তাঁর। বয়স বাড়ছে, জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবনাও শুরু করেছিলেন পর্তুগীজ মহাতারকা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখন আর তাঁর ভাবনায় নেই। ফুটবলজীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও নতুন এক মাইলফলকের দিকে ছুটছেন রোনাল্ডো। লক্ষ্য ১০০০ গোল। আর সেই সংখ্যায় পৌঁছতে তাঁর প্রয়োজন আর মাত্র ২১টি গোল। জাতীয় দলের হয়ে ওয়েলসের (Wales) বিরুদ্ধে নেশনস লিগের ম্যাচে নামার আগে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন রোনাল্ডো। সেখানে উঠে এসেছে অবসরের প্রসঙ্গও।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) জানিয়েছেন, একটা সময় সত্যিই ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। জাতীয় দলের কোচ এ পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেননি। রোনাল্ডোর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অবসর নিয়ে ভেবেছিলাম, এটা সত্যি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি নিয়মিত চিন্তা করি। জাতীয় দলের প্রেসিডেন্ট এবং কোচের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কিন্তু যত দিন মনে হবে দলকে কিছু দেওয়ার রয়েছে, তত দিন আমি খেলতে চাই।’ তাঁর এই মন্তব্যেই বোঝা যাচ্ছে, আপাতত আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।
পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) ভূমিকা নিয়ে অবশ্য আলোচনা নতুন নয়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি। একাধিক প্রজন্মের ফুটবলারকে পাশে পেয়েছেন, আবার অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের সঙ্গে একই মাঠেও নেমেছেন। এখন তাঁর নিজের দায়িত্বও কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্তুগিজ তারকা। শুধু গোল করা নয়, নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়াকেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। রোনাল্ডো নিজেই জানিয়েছেন, তরুণদের সাহায্য করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাঁর প্রথম কাজ এখনও গোল করা ও দলকে জেতানো। তাঁর কথায়, ‘এখন জাতীয় দলে নতুন প্রজন্ম উঠে আসছে। তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু আমার প্রধান কাজ এখনও গোল করা ও দলকে জেতানো।’ অর্থাৎ বয়স বাড়লেও নিজের খেলোয়াড়সত্তার মূল জায়গা থেকে সরে যেতে রাজি নন পাঁচ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলার।
পর্তুগাল ফুটবল দলের সঙ্গে রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) সম্পর্ক লম্বা সময়ের। দেশের হয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ও নেশনস লিগ জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। গত নেশনস লিগেও পর্তুগালকে সাফল্য এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর উপস্থিতি এখনও সমর্থকদের কাছে আলাদা আবেগের বিষয়। কিন্তু মাঠের বাইরের সমালোচনাও কম শুনতে হয় না রোনাল্ডোকে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদমাধ্যমে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কখনও তাঁর বয়স, কখনও জাতীয় দলে তাঁর প্রয়োজনীয়তা, কখনও আবার বড় ম্যাচে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে এখন তিনি আর খুব একটা বিচলিত হতে চান না। তবে দীর্ঘ কেরিয়ারে সমালোচনা সামলানোর অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের পথ বেছে নিয়েছেন। রোনাল্ডোর কথায়, ‘পর্তুগালের মানুষ আমাকে ভালবাসেন। আবার কিছু টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে যারা নিয়মিত আমার সমালোচনা করে। এমনও মানুষ আছেন যারা চান না আমি জাতীয় দলের হয়ে আর খেলি। কিন্তু এত বছর ধরে এসব শুনতে শুনতে আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।’ তাঁর মতে, কেরিয়ারের এতটা সময় ধরে জনসমক্ষে থাকা কোনও ফুটবলারের কাছে সমালোচনা নতুন কিছু নয়।
সমালোচনার চেয়ে সমর্থকদের ভালবাসাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। তাঁর বক্তব্য, যারা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের দেওয়া ভালবাসার স্মৃতিই তিনি মনে রাখবেন। তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। রোনাল্ডোর মতে, নতুন প্রজন্মের অনেক ছেলেমেয়েই তাঁকে অনুসরণ করে এবং তাঁর খেলোয়াড়জীবনকে নিজেদের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে দেখে। এই জায়গাটিই হয়তো রোনাল্ডোর বর্তমান মানসিক অবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এক সময় যিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা করতেন, এখন তিনি অত দূরের কথা ভাবতে চাইছেন না। অবসরের দিনক্ষণ ঠিক করা বা কত দিন আরও খেলবেন, সেই হিসাবের বদলে প্রতিটি ম্যাচকে আলাদা করে দেখছেন। তাঁর কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বর্তমান। রোনাল্ডো বলেছেন, ‘এই বয়সে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ভাবতে চাই না। আমার কাছে বর্তমানটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ ফলে কবে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, সেই প্রশ্নের কোনও নির্দিষ্ট উত্তর এখন তাঁর কাছেও নেই। যত দিন নিজের জায়গা থেকে দলকে সাহায্য করতে পারবেন বলে মনে করবেন, তত দিন মাঠে থাকার ইচ্ছাই তিনি জানিয়েছেন।
আর এর মধ্যেই সামনে এসেছে রোনাল্ডোর (Cristiano Ronaldo) কেরিয়ারের অন্যতম বড় ব্যক্তিগত লক্ষ্য। সব ধরনের ফুটবল মিলিয়ে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যা এখন ৯৭৯। অর্থাৎ ১০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক থেকে মাত্র ২১ গোল দূরে তিনি। ফুটবল ইতিহাসে এই সংখ্যায় পৌঁছনোর দৌড়ে রোনাল্ডোর নাম ইতিমধ্যেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর নিজের কাছেও তাই ১০০০ গোল একটি আকর্ষণীয় লক্ষ্য। রোনাল্ডো এটিকে নিজের একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন না। তাঁর কথায়, ‘আমি বহু বার বলেছি, ১০০০ গোলে পৌঁছতে চাই। কিন্তু সেটাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। যদি সেখানে পৌঁছতে পারি, তা হলে সেটা কেকের উপর চেরির মতো হবে।’ অর্থাৎ মাইলফলকটি তাঁর কাছে বড় প্রাপ্তি হলেও ফুটবল খেলার মূল কারণ হিসেবে সেটিকে দেখছেন না। আর যদি সেই ১০০০তম গোলটি আসে পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে, তা হলে আনন্দ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রোনাল্ডো। জাতীয় দলের জার্সিতে এমন একটি রেকর্ড গড়তে পারা তাঁর কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়কে অন্য মাত্রা দিতে পারে। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর আগে এখনও তাঁকে করতে হবে ২১টি গোল।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর (Cristino Ronaldo) বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচের চাপ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা থাকলেও তিনি আপাতত সেই বিতর্কের বাইরে থেকেই নিজের ফুটবল চালিয়ে যেতে চাইছেন। অবসরের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তাঁর নিজের বক্তব্যে অন্তত এখনই বিদায়ের কোনও তাড়া দেখা যাচ্ছে না। বরং সামনে রয়েছে নেশনস লিগ, জাতীয় দলের আরও ম্যাচ এবং ১০০০ গোলের লক্ষ্য। বিশ্বকাপের পর যে অবসরের চিন্তা মাথায় এসেছিল, তা আপাতত দূরে সরিয়ে রেখেছেন রোনাল্ডো। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রয়োজনীয়তা যত দিন অনুভব করবেন, তত দিন খেলে যেতে চান তিনি। একই সঙ্গে তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং নিজের সবচেয়ে পরিচিত কাজ গোল করা। এই দুই দিকেই লক্ষ্য রাখছেন পর্তুগালের এই কিংবদন্তী। ফলে ফুটবলবিশ্বে এখন কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু একটাই, ৯৭৯ থেকে ১০০০-তে পৌঁছতে আর কতটা সময় নেবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano ?
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rinku Singh 2027 World Cup | Virat Kohli Rohit Sharma 2027 : কোহলি-রোহিতকে নিয়েই বিশ্বকাপের স্বপ্ন রিঙ্কুর, ‘ওদের হাতেই ট্রফি দেখতে চাই’, নিজের লক্ষ্যও জানালেন KKR তারকা




