মোফাক হোসেন, সাশ্রয় নিউজ ★ জঙ্গিপুর: রঘুনাথগঞ্জে কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তি যে ধীরে ধীরে তীব্রতা বাড়াচ্ছে, তার একটি বড় ছবি ধরা পড়ল বুধবারের শায়দাপুর মারোয়ারি পট্টির প্রতিবাদ ও যোগদান সভায়। দুপুর গড়াতেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের ঢল নেমে আসে সভাস্থলে। বেলা একটা থেকে শুরু হয়ে বিকেলের দিকে জনসমুদ্র আরও উপচে পড়ে- যেন একটি অঘোষিত শক্তিপরীক্ষা চলছিল জাতীয় কংগ্রেসের (Indian National Congress) পক্ষে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলার কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তাঁর আগমনকে ঘিরে উৎসাহ ও উত্তেজনা স্পষ্টভাবে দেখা যায় জনতার ভিড়ে। এলাকার মানুষ দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নেতার বক্তব্য, বার্তা ও রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন এক আশার সঞ্চার করেছে। সেই উত্তেজনার প্রতিফলনই দেখা গেল সভাস্থলে মানুষের ঢলে। তবে জনসমাগমের এই বিপুলতার আরেকটি বিশেষ কারণও রয়েছে। স্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নবাব হোসেন (Nawab Hossain) প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ও সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বড় খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী-এর হাত থেকেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের পতাকা গ্রহণ করেন। সেই মুহূর্তে উপস্থিত জনতার উচ্ছ্বাসে সভাস্থল কেঁপে ওঠে।
যোগদান করার পর তাঁর প্রথম বক্তব্যে নবাব হোসেন বলেন, “আমার শরীরে যতদিন প্রাণ থাকবে, রক্ত প্রবাহিত হবে, আমি কংগ্রেস করব। মানুষের সেবার রাজনীতি করার জন্যই আমি কংগ্রেসে যোগ দিলাম। আমরা পরিবারগতভাবেই কংগ্রেসমুখী ছিলাম।” তিনি অভিযোগ করেন, “আমার জন্মভূমি লালখান দিয়ার, সেকেন্দ্রা অঞ্চলের মানুষের যে দুঃখ-দুর্দশা, তা আর সহ্য হয় না। সেখানে মানুষ শাসকদলের অত্যাচারে অবরুদ্ধ। ভোট পর্যন্ত ঠিকমতো হয় না। ভোট কীভাবে হয় না- এবার আমরা তা দেখব।”
দুর্নীতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন নবাব হোসেন। তাঁর কথায়, “রাস্তা থেকে শুরু করে চাকরি, প্রতিটি জায়গায় দুর্নীতি আজ ভয়াবহ পর্যায়ে। মানুষের প্রাপ্য সুবিধাগুলো আটকে যাচ্ছে দুর্নীতির জালে।” উল্লেখ্য, কংগ্রেসে তাঁর যোগদান রঘুনাথগঞ্জে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ নবাব হোসেন শুধু শিল্পপতি নন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করে এসেছেন। তাঁর সামাজিক প্রভাব ও বিস্তৃত যোগাযোগের কারণে কংগ্রেসের সংগঠনে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা প্রবল।
সভায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজ্যের দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে কড়া ভাষায় সরব হন। ওবিসি, এসআইআর এবং ওয়াকফ নিয়ে তিনি সরকারের অবস্থানকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে, রাজ্য কংগ্রেস কমিটির সদস্য হাসানুজ্জামান বাপ্পা (Hasanuzzaman Bappa) সভায় ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের তীব্র ইচ্ছা তৈরি হয়েছে, আর সেই ইচ্ছাই কংগ্রেসের শক্তিকে রঘুনাথগঞ্জে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাঁচ হাজার কর্মীর একযোগে দলবদল স্থানীয়ভাবে তৃণমূলের জন্য চাপ তৈরি করবে এবং কংগ্রেসের সংগঠনকে শক্ত করতে বড় ভূমিকা নেবে। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নবাব হোসেনের গ্রহণযোগ্যতা কংগ্রেসকে নতুন ভিত্তি দেবে। উল্লেখ্য যে, সামগ্রিকভাবে বুধবারের সভা প্রমাণ করে, রঘুনাথগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে দ্রুত। মানুষের ক্ষোভ, দুর্নীতির অভিযোগ, উন্নয়নহীনতা, সব মিলিয়ে বিরোধীরা যেমন আরও শক্তিশালী হতে শুরু করেছে, তেমনি কংগ্রেস নতুনভাবে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মত, এই সভার সাফল্য প্রমাণ করল, মানুষের বিশ্বাস অর্জনে কংগ্রেস ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, আর সেই পথচলায় নবাব হোসেনের যোগদান বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।




