Civic Volunteer Death | চায়ের আড্ডা থেকে মৃত্যুর মিছিল: মদ্যপদের নৃশংস হামলায় প্রাণ গেল সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসি রাওয়ের

SHARE:

খড়্গপুরে বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে গিয়ে মদ্যপদের নৃশংস হামলায় প্রাণ গেল সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসি রাওয়ের। ঘটনায় গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত সহ দু’জন। পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পশ্চিম মেদিনীপুর: শীতের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ এক কাপ চা খেতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কে জানত, সেই চায়ের আড্ডাই হয়ে উঠবে জীবনের শেষ অধ্যায়। মদ্যপদের নৃশংস হামলায় গুরুতর জখম হয়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের আইবি শাখায় কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসি রাও (Tulsi Rao), তিনি এলাকায় ‘উদয়’ নামেই পরিচিত ছিলেন। শনিবার সকালে কটকের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল মাত্র তিরিশ বছর। এই ঘটনায় খড়্গপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, রাতের শহরের আইনশৃঙ্খলা এবং মদ্যপদের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সহ মোট দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

আরও পড়ুন : CM Mamata Banerjee Post, West Bengal Communal Unity | মদনমোহন মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘সর্বধর্মে শান্তির বাংলা গড়াই আমাদের সংকল্প’

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে, ঘড়ির কাঁটার হিসেবে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা নাগাদ, তুলসি রাও তাঁর দুই বন্ধু প্রকাশ ও দেবেন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে খড়্গপুর স্টেশন সংলগ্ন মাল গোডাউন এলাকায় একটি চায়ের দোকানে যান। শীতের রাতে বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁরা চা খাচ্ছিলেন। সেই সময় মদ্যপ অবস্থায় এক যুবক এসে তাঁদের নানা ভাবে উত্যক্ত করতে শুরু করে। অশালীন মন্তব্য এবং আচরণে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে তুলসি ও তাঁর বন্ধুরা ওই যুবককে সরে যেতে বলেন।কিন্তু অভিযুক্ত যুবক কোনও ভাবেই সেখান থেকে সরে যেতে চাইছিল না। বরং উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক সময় তুলসি ওরফে উদয় ওই মদ্যপ যুবককে হালকা ঠেলে সরিয়ে দেন। সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই যুবকের সঙ্গে থাকা আরও কয়েক জন মদ্যপ সেখানে জড়ো হয়। তারা দলবদ্ধ ভাবে তুলসি ও তাঁর বন্ধুদের উপর চড়াও হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যেই হঠাৎ করে একজন কাচের বোতল দিয়ে তুলসির মাথায় সজোরে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। মাথায় গুরুতর চোট লাগে এবং মুহূর্তেই তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দ্রুত তুলসিকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর মাথায় কুড়িটিরও বেশি সেলাই দিতে হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথার ভেতরের গুরুতর আঘাতের কারণে তাঁর অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ১৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁকে খড়্গপুর থেকে কটকের এক উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়।

গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তুলসি। পরিবার, সহকর্মী এবং বন্ধুরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই খবরে ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার। কর্মরত অবস্থায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। তুলসি রাও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের আইবি শাখায় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শান্ত, দায়িত্ববান এবং সদালাপী। পুলিশ সূত্রের দাবি, ডিউটির বাইরে থেকেও তিনি নিয়ম মেনে চলতেন এবং কোনও ঝামেলা এড়িয়ে চলার মানুষ ছিলেন। সেই মানুষটিই সামান্য এক কাপ চা খাওয়ার সময় মদ্যপদের হিংস্রতার শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন, এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ঘটনার পর থেকেই খড়্গপুর শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাতের টহল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন এলাকা এবং মাল গোডাউন অঞ্চলে রাতে মদ্যপদের আনাগোনা দীর্ঘদিন ধরেই বেড়েছে। মাঝেমধ্যে অশান্তির ঘটনাও ঘটে। কিন্তু সেভাবে কড়া নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য যে, তুলসির মৃত্যু সমাজের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং মদ্যপ হিংস্রতার এক নির্মম উদাহরণ। চায়ের দোকানের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, রাতের শহর কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya on rail development, Amrit Bharat Station Scheme West Bengal | অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম-এ নতুন রূপ পেতে চলেছে বাংলার ১০১ রেলস্টেশন, সংসদে জানাল রেলমন্ত্রক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন