সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : নদীয়ার কালীগঞ্জ (Kaliganj) বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে ফের রাজ্য পুলিশকে ঘিরে উঠল পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। নির্বাচন সামনে আসতেই নিরাপত্তা ঘিরে রাজ্য বনাম কেন্দ্রের বিতর্ক আরও একবার মুখ তুলে দাঁড়াল। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Electoral Officer) দফতরে হাজির হয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব (BJP) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, ভোটের দিন বুথ বা তার পারিপার্শ্বিক এলাকায় একটিও রাজ্য পুলিশের পোশাকি ছায়াও সহ্য করা হবে না।
উল্লেখ্য যে, বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ (Nasiruddin Ahmed)-এর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া কালীগঞ্জ কেন্দ্রের উপনির্বাচন হবে ১৯ জুন। তার আগেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দাবিদাওয়া ও নিরাপত্তা ঘিরে চাপানউতোর। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay) এবং দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে থাকা শিশির বাজোরিয়া (Shishir Bajoria) এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বলে উল্লেখ।
তাঁরা দলের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন কমিশনের কাছে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রাজ্য পুলিশকে বুথ তো দূরের কথা, বুথের চত্বর থেকেও সরিয়ে রাখতে হবে। বিজেপির বক্তব্য, রাজ্য পুলিশ ‘রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত বাহিনী’র ভূমিকা পালন করছে। অতীতের বহু নির্বাচনে তাদের নিরপেক্ষতার অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। চিঠিতে আরও উল্লেখ যে, বিজেপি’র কাছে এমন একটি বার্তা এসে পৌঁছেছে যাতে কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে রাজ্য পুলিশের মোতায়েন সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা রয়েছে। সেই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেই বিজেপি বলেছে, এটি গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ব্যাহত করবে। তাই কোনও অবস্থাতেই রাজ্য পুলিশ বুথের আশেপাশে মোতায়েন করা চলবে না। এই প্রসঙ্গে শিশির বাজোরিয়া বলেন, “আমরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে স্পষ্টভাবে বলেছি, পূর্বেও একাধিকবার আমরা এসেছি, বহু আশ্বাসও পেয়েছি। কিন্তু ফল মেলেনি। এবার যেন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়, সেটাই চাইছি। শুধু আশ্বাস নয়, তার বাস্তব প্রয়োগও দেখতে চাই।”
বিজেপির দাবি অনুযায়ী, ভোটের দিন রাজ্য পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করতে পারে, তবে ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সরাসরি কোনও অংশে তাদের উপস্থিতি মেনে নেওয়া যাবে না। এই পুরো নির্বাচনকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত, আর সেই বাহিনীর উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতেই থাকা আবশ্যক। বিজেপির এই কড়া অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। রাজ্য প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও এবার খুঁটিয়ে দেখবে বিভিন্ন মহল। ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে অবশ্য এই দাবির বিরোধিতা করে আসা হয়েছে, তবে বিজেপির লাগাতার চাপ এবং জনমতকে কাজে লাগিয়ে তারা কেন্দ্রীয় নজরদারির দাবিকে আরও জোরদার করতে চাইছে।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে, এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের। তবে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখার বিষয়। কালীগঞ্জের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটপ্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করাই যে আপাতত সকলের প্রধান দাবি, সে বিষয়ে কোনও দ্বিমত নেই। প্রশ্ন হল, সেই নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে কি আদৌ রাজ্য পুলিশকে বিশ্বাস করা সম্ভব? বিজেপি অন্তত সেই বিশ্বাস আর রাখছে না।
ছবি : সংগৃহীত
পড়ুন : Ahmedabad Plane Crash : আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী বিমান দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ দেশ




