প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দীর্ঘ বিরতির পর ফের অভিনয়ের দুনিয়ায় ফিরছেন বিপাশা বসু (Bipasha Basu)। প্রত্যাবর্তনের আগে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সাহসী অধ্যায় নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিস্ম’ (Jism) ছবিতে সোনিয়া চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন বিপাশা। ছবিতে ঘনিষ্ঠ ও সাহসী দৃশ্যে তাঁর অভিনয় সে সময়ে বলিউডে যথেষ্ট চর্চার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু জানেন কি, সেই ছবিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিনেত্রীকে একাধিক মানুষ সতর্ক করেছিলেন? তাঁকে বলা হয়েছিল, ‘জিস্ম’ করলে তাঁর অভিনয়জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কাকে উপেক্ষা করেই নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন বিপাশা। ২০০১ সালে ‘আজনবী’ (Ajnabee) ছবির মাধ্যমে হিন্দি ছবির জগতে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন বিপাশা বসু। খুব বেশি সময় না যেতেই ‘রাজ’ (Raaz) -এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করে নেন তিনি। তবে তাঁর কেরিয়ারে বড় মোড় আসে ‘জিস্ম’-এর হাত ধরে। আব্বাস-মস্তান ঘরানার থ্রিলারের বাইরে গিয়ে এই ছবিতে বিপাশাকে দেখা গিয়েছিল অনেক বেশি সাহসী এবং জটিল এক চরিত্রে। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি যেমন দর্শকের নজর কেড়েছিল, তেমনই ছবির বিষয়বস্তু নিয়েও তৈরি হয়েছিল আলোচনা।

আরও পড়ুন : Bipasha Basu : মালদ্বীপে মেয়ের জন্মদিন পালন করলেন বিপাশা
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বিপাশা জানিয়েছেন, ‘জিস্ম’-এ অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সহজ ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই তাঁকে এই ছবিতে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ ছবির গল্পে প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্ক, যৌনতার আবহ এবং ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের উপস্থিতি ছিল। সেই সময় বলিউডে কোনও অভিনেত্রী এমন চরিত্রে অভিনয় করলে তাঁর পরবর্তী কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠত। বিপাশার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রত্যেকেই আমাকে ছবিটি না করার পরামর্শ দিয়েছিল। তাঁদের ধারণা ছিল, এই ছবিতে যৌনতার আবহ থাকায় আমার কেরিয়ার হয়তো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম। আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং ছবিটিও প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকের জন্য তৈরি একটি প্রেমের গল্প। সোনিয়ার চরিত্রের মধ্যে এমন অনেক দিক ছিল, যা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। তাই আমার মনে হয়েছিল, এই ছবিতে অভিনয় করাটা আমার করতেই হবে।’
বিপাশার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই সময়কার বলিউডে অভিনেত্রীদের নিয়ে তৈরি সামাজিক ধারণার কথাও। তাঁর মতে, কোনও নারী অভিনেত্রী যদি প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে চরিত্র বেছে নেন, তা হলে তাঁকে ঘিরে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠত। কিন্তু বিপাশা নিজের কেরিয়ারকে শুধুমাত্র নিরাপদ চরিত্রের মধ্যে আটকে রাখতে চাননি। ‘জিস্ম’ -এর মতো ছবিতে কাজ করার সময় তিনি চরিত্রের চাহিদাকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে। ছবিটির গল্পের পাশাপাশি বিপাশার পর্দার সাজও দর্শকের নজর কেড়েছিল। গাঢ় কাজল, ঢেউ খেলানো চুল এবং সাদা পোশাকের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতের দৃশ্য ‘জিস্ম’-এ অভিনেত্রীর লুক দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয় ছিল। ছবিটি মুক্তির পর তাঁর সাজসজ্জা এবং স্টাইল নিয়ে দর্শকের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। বলিউডের ফ্যাশনেও তার প্রভাব পড়েছিল বলে মনে করেন বিপাশা।

এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ‘ঢেউ খেলানো চুল, গাঢ় কাজল, সাদা পোশাক এবং সমুদ্রসৈকতের মতো উপাদানগুলো হঠাৎ করেই মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। আমার পর্দার লুক অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। দর্শকরাও তুলনামূলক সাহসী সাজকে গ্রহণ করতে শুরু করেছিলেন। পিছন ফিরে তাকালে মনে হয়, তখন এমন কিছু কাজ করেছিলাম, যা পর্দায় নারীদের উপস্থাপনের ধরন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছিল।’ শুধু অভিনয় কিংবা ফ্যাশন নয়, বিপাশা বসুর কেরিয়ারের আরও একটি বড় পরিচয় তাঁর ফিটনেস। একটা সময় বলিউডে ছিপছিপে শরীরের পাশাপাশি নারীদের শারীরিক গঠন নিয়েও নির্দিষ্ট ধারণা কাজ করত। পেশিবহুল ও শক্তিশালী শরীরের অভিনেত্রীকে মূলধারার ছবিতে নায়িকা হিসেবে দেখার প্রবণতা খুব বেশি ছিল না। সেই জায়গাতেও নিজের উপস্থিতির মাধ্যমে আলাদা নজির তৈরি করেছিলেন বিপাশা। নিজের সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বিপাশা বলেন, ‘আমার মনে হয়, তখন অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে বেশি পেশিবহুল শরীরকে খুব একটা স্বাভাবিকভাবে দেখা হত না। আমি সেই ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের শরীরকে গ্রহণ করেছিলাম। একই সঙ্গে মানুষকে বলতাম, নিজেকে ভালবাসতে হবে। কারণ শুধু দেখতে ভাল লাগাই জীবনের সবকিছু নয়। শরীর ও মন, দুই দিক থেকেই সুস্থ থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
বিপাশার এই বক্তব্য তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারের আর একটি দিক সামনে নিয়ে এসেছে। অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের শরীর ও জীবনযাপন নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। বলিউডে তাঁর ফিটনেস-নির্ভর পরিচিতি তৈরি হওয়ার সময়ে বহু দর্শক তাঁর শরীরচর্চার ধরন নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। ফলে অভিনয়ের বাইরেও বিপাশা নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হন। এদিকে, বহুদিন পর ফের পর্দায় দেখা যেতে চলেছে অভিনেত্রীকে। হংসল মেটা (Hansal Mehta) পরিচালিত একটি সিরিজ়ের মাধ্যমে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন করছেন বিপাশা। এই সিরিজে তাঁর সঙ্গে থাকছেন সানি কৌশল (Sunny Kaushal) এ বিশাল জেঠওয়া (Vishal Jethwa)। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর নতুন কাজ ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কেরিয়ারের শুরুর দিকে ‘আজনবী’, ‘রাজ’ ও ‘জিস্ম’ -এর মতো ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল বিপাশাকে। বিশেষ করে ‘জিস্ম’ তাঁকে এমন এক পরিচিতি দিয়েছিল, যা তাঁর পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছিল। যে ছবি নিয়ে একসময় তাঁকে বলা হয়েছিল ‘কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে’, শেষ পর্যন্ত সেই ছবিই তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় কাজ হয়ে ওঠে। এত বছর পর সেই সময়ের সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে তাকিয়ে বিপাশার বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের ছাপই ধরা পড়েছে। তাঁর কাছে চরিত্রের ধরন বা পর্দায় সাহসী উপস্থিতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিজের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখা। প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্কের গল্পে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী চরিত্রে অভিনয় করাকে তিনি সেই সময় নিজের অভিনয়জীবনের একটি প্রয়োজনীয় ঝুঁকি হিসেবেই দেখেছিলেন। আর সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রীদের তালিকায় আলাদা জায়গা করে দেয়। এখন প্রশ্ন একটাই, দীর্ঘ বিরতির পর নতুন সিরিজে বিপাশা বসুকে দর্শক কী ভাবে গ্রহণ করেন? সময় বদলেছে, বদলেছে পর্দায় নারী চরিত্রের উপস্থাপনাও। কিন্তু ‘জিস্ম’ -এর সোনিয়া চরিত্র থেকে শুরু করে ফিটনেস এবং ব্যক্তিগত স্টাইল বিপাশার কেরিয়ারের একাধিক অধ্যায় আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। নতুন কাজের মাধ্যমে সেই পুরনো পরিচিতির সঙ্গে নতুন অভিনয় সত্তার কী ভাবে মেলবন্ধন ঘটে, এখন সেদিকেই নজর অনুরাগীদের।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan wedding, Gauri Spratt | বিয়ে সারলেন আমির খান! গৌরী স্প্র্যাটের আচরণ ঘিরে নতুন কৌতূহল, কেন পাপারাৎজিদের বলেছিলেন ‘আমাকে একা ছেড়ে দিন’?



