সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহার আবারও গেরুয়া ঢেউয়ে ভাসছে। বুথফেরত সমীক্ষায় শাসক জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলেছিল ঠিকই, তবে গণনা শুরু হওয়ার পর ছবিটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুপুর থেকেই পরিষ্কার বিজেপি (BJP) এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) -এর নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। আক্ষরিক অর্থেই বিরোধীদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে এই জোটের অগ্রগতি।
রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, এনডিএ-এর এই শক্তিশালী দাপট বিহারের নির্বাচনী ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। প্রথমে যে সংখ্যাগুলি আংশিক আকারে সামনে এসেছিল, এখন তারই স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে গণনার পর্বে। জনমত বিজেপি-নীতীশ জোটের দিকেই দৃঢ়ভাবে ঝুঁকেছে।এদিকে মহাগঠবন্ধনের ফলাফলে ‘ধস’ নামতেই রীতিমতো আত্মসমালোচনার ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর (Shashi Tharoor)। তিনি খোলাখুলিই স্বীকার করেছেন যে, এনডিএ -এর পক্ষে জনাদেশ অত্যন্ত পরিষ্কার এবং তা নিঃসন্দেহে বিরোধীদের জন্য উদ্বেগজনক। থারুর বলেন, “বিপুল সংখ্যক মানুষের রায় যে এনডিএ-এর সঙ্গেই, তা ভীষণভাবে স্পষ্ট। এটি হতাশাজনক। যদি এটাই চূড়ান্ত ফল হয়, আমাদের গভীর আত্মসমালোচনার প্রয়োজন। শুধু আলোচনায় নয় কৌশল, বার্তা এবং সংগঠনের দিক থেকেও কোথায় ভুল হয়েছে তা খুঁজে দেখতে হবে।” তিনি আরও জানান, যদিও তিনি বিহারে প্রচারে যাননি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তাঁদের মনোভাব থেকেই তিনি বুঝেছেন যে বিরোধীদের প্রচারে ও সংগঠনে অনেক খামতি ছিল যা এবার সামনে এসে পড়েছে। থারুরের কথায়, “দলকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে কোন জায়গায় দোষ রয়ে গিয়েছিল।”
এলজেপির উত্থান: চিরাগের (Chirag Paswan) বড় পরীক্ষা সফল
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক নিঃসন্দেহে লোক জনশক্তি পার্টি (LJP)। রামবিলাস পাসওয়ান (Ram Vilas Paswan) -এর জমানায় এলজেপি ২৯ আসন পেয়েছিল, যা দলের ইতিহাসে সেরা ফল। সেই রেকর্ড ছুঁতে না পারলেও চিরাগ পাসওয়ান উল্লেখযোগ্যভাবে সেই উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছেন। দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত হিসাবে এলজেপি ২০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা বিহারের রাজনৈতিক অঙ্কে বড়সড় বার্তা বহন করছে। এই ফলাফলে স্পষ্ট, চিরাগ (Chirag Paswan) ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করছেন এবং বাবা রামবিলাস পাসওয়ানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বড় অংশই তিনি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
সম্রাট চৌধরির (Samrat Choudhary) হুঙ্কার, “এ বার জবাবদিহি করতেই হবে”
তারাপুর কেন্দ্র থেকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বিহারের বিদায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি (Samrat Choudhary)। এনডিএ-এর এগিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ছবি মিলতেই তিনি আরজেডিকে নিশানা করে বলেন, “১৯৯৫ সালে আমাদের পরিবারকে অন্যায় ভাবে জেলে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় নীতীশ কুমার সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে আমাদের হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। মানবাধিকার কমিশনও তখন পদক্ষেপ নিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “সময়ে এসে গিয়েছে, এবার প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে। মানুষ হিসাব করবে, সিদ্ধান্ত দেবে। আবারও এনডিএ সরকারই গঠিত হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করছে যে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, নেতৃত্ব সংকট এবং প্রচারে অমনোযোগিতার সুযোগ নিয়েই বিজেপি এবং এনডিএ জোট ভোটারদের মন জয় করেছে।গণনা সম্পূর্ণ শেষ না হলেও পরিষ্কার যে, বিহার আবারও একবার এনডিএ-র হাতেই ক্ষমতা তুলে দিতে চলেছে। বিজেপির নিরঙ্কুশ দাপট এবং নীতীশ কুমারের স্থায়ী প্রভাব জনমতের সমীকরণকে আরও একবার বদলে দিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীরা আত্মসমালোচনার জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলছে নিজেদের ব্যর্থতা নিয়ে। বিহারের রাজনৈতিক আবহে এই গেরুয়া ঝড় যে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যাবে, তা এখনই বলা যায়।
ছবি : সংগৃহীত




