Bihar Cabinet | নীতীশের দশম শপথে রাজনৈতিক অঙ্ক নতুন পথে, বিহার মন্ত্রিসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি, বিস্তারের আগে জোট রাজনীতিতে দানা বাঁধছে নতুন সমীকরণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা : বিহারের রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। পাটনার ঐতিহাসিক গান্ধী ময়দানে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দশমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। তাঁর সঙ্গে শপথ নিলেন মোট ২৬ জন মন্ত্রী। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ল, মন্ত্রিসভায় বিজেপির (BJP) সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এনডিএ-এর মোট ২৭ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৪ জনই বিজেপির, যা স্পষ্টতই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শপথ গ্রহণের মঞ্চ ছিল জনসমুদ্র ভরা। নীতীশের দলের জেডিইউ (JDU) থেকে শপথ নিয়েছেন মোট আটজন। তাঁদের পাশাপাশি গেরুয়া শিবিরের হয়ে শপথ নিয়েছেন দুই উপমুখ্যমন্ত্রী, সম্রাট চৌধুরি (Samrat Choudhary) এবং বিজয় সিংহ (Vijay Sinha)। 

শুধু দুই প্রধান দলই নয়, এনডিএ জোটের ছোট দলগুলিকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। এলজেপি (রামবিলাস) (LJP-Ram Vilas) থেকে মন্ত্রী হয়েছেন সঞ্জয় কুমার (Sanjay Kumar) এবং সঞ্জয় কুমার সিং (Sanjay Kumar Singh)। আরএলএম (RLM)-এর পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন দীপক প্রকাশ (Deepak Prakash)। হাম (HAM) থেকেও একজন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। জোট ধরে রাখার কৌশল হিসেবেই ছোট দলগুলির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, বিহারের বিধানসভায় মোট আসন সংখ্যা ২৪৩। এর মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৮৯, জেডিইউ ৮৫, এলজেপি (রামবিলাস) পেয়েছে ১৯, আরএলএম পেয়েছে ৪টি আসন। বিধান পরিষদও রয়েছে বিহারে। নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩৬ জন মন্ত্রী থাকতে পারেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভার সংখ্যা ২৭। ফলে আরও ৯ জন মন্ত্রী নেওয়ার সুযোগ এখনও। শপথ গ্রহণের পর থেকেই রাজনৈতিক মহল আলোচনায়, দ্বিতীয় দফার মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কারা জায়গা পাবেন? এই ৯টি মন্ত্রিত্ব কীভাবে বণ্টন হবে, তা নিয়েই জোটের ভেতরে নীরব প্রতিযোগিতা চলছে বলে দাবি বহু মহলের।

আরও পড়ুন : Shamik Bhattacharya BJP Bengal | বিজেপির নতুন উদ্যোগ: কর্মীদের অভিযোগ শুনতে শমীক ভট্টাচার্যের ‘কর্মী দরবার’

গত বছর আরজেডি-কংগ্রেস জোট ছেড়ে আবার এনডিএ-তে ফিরেছিলেন নীতীশ কুমার। লোকসভা ভোটের মাত্র চার মাস আগে বিজেপির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েন তিনি। সেই সময়ের মন্ত্রিসভাতেও বিজেপির সদস্য সংখ্যা ছিল বেশি, জেডিইউর ১৩ জনের বিপরীতে বিজেপির ১৯ জন। এবার দুই দলের সংখ্যাই কমেছে, কারণ ছোট দলগুলিকে জায়গা দিতে হয়েছে। তবে বিজেপির আধিপত্য একইভাবে বজায় রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি নীতীশকে ফরমায়েশে রাখতেই মন্ত্রিসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। আবার অপর অংশ বলছে, এখনও দফতর বণ্টন হয়নি। তাই আসল ক্ষমতার সমীকরণ বোঝা যাবে দফতর ঘোষণার পর।নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, “দফতর বণ্টন ঠিক করবে কোন দলের আসল প্রভাব কতটা।” 

 

লোকসভা ভোটে বিজেপি ৩০৩ থেকে নেমে ২৪০-এ এসেছে। ফলে সরকার গঠনে নীতীশের জেডিইউ (JDU) এবং চন্দ্রবাবু নায়ডুর (Chandrababu Naidu) টিডিপি (TDP)-র সমর্থন ছিল অত্যাবশ্যক। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থায় নীতীশকে বিজেপি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কারণ কেন্দ্রীয় স্থিতিশীলতার জন্যও জেডিইউ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিহারে মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টনই আসল লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়াবে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নতুন মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন ঘোষিত হয়নি। রাজনৈতিক মহল এখন তাকিয়ে, কোন দল কতটা গুরুত্বপূর্ণ দফতর পায়। অর্থ, স্বরাষ্ট্র, সড়ক ইত্যাদি কোন মন্ত্রক কে হাতে রাখবে, সেটাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতির গতিপথ। উল্লেখ্য, নীতীশের দশম শপথ শুধু রাজনৈতিক তাৎপর্যই নয়, তা বিহার এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা। 

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mann Ki Baat | ‘মন কি বাত’-এ বাঙালি অস্মিতা ও ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপনে আহ্বান মোদীর

Sasraya News
Author: Sasraya News