তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : একদা রূপচর্চা মানেই ছিল আয়নার সামনে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিম মাখা, লোশন লাগানো, কিংবা সেলুনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। কিন্তু সময় বদলেছে। প্রযুক্তির হাত ধরে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যচর্চার ধরনও। আজকের দিনে রূপচর্চা আর শুধু প্রসাধনীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আধুনিক যন্ত্র আর স্মার্ট ডিভাইসের সাহায্যে ঘরে বসেই অনেকটা পেশাদার স্তরে ত্বক ও মুখের যত্ন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে প্রযুক্তির এই প্রবেশ শুধু বিলাসিতা নয়, তা সময় বাঁচানো এবং ব্যক্তিগত যত্নকে আরও কার্যকর করে তোলার নতুন দিক খুলে দিয়েছে।

সৌন্দর্যবিদদের মতে, রূপচর্চার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার মানে শুধুই বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, তা ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া। আধুনিক যন্ত্রগুলি এমন ভাবে তৈরি, যাতে নিয়মিত ব্যবহার করলে মুখের পেশি সক্রিয় থাকে, চোখের চারপাশের ক্লান্তি কমে এবং মুখের গঠন আরও পরিষ্কার ভাবে ফুটে ওঠে। সৌন্দর্য জগতের অন্দরমহলে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এমন কয়েকটি ডিভাইস, যেগুলি ঘরে বসেই ব্যবহার করা যায় এবং সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ফলও চোখে পড়ার মতো। এই তালিকার প্রথমেই রয়েছে মিনি টোনিং ডিভাইস (Mini Toning Device)। মাইক্রোকারেন্ট প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি এই যন্ত্রটি মুখের পেশিতে হালকা বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা তৈরি করে। এই উদ্দীপনা এমন মাত্রায় দেওয়া হয়, যাতে কোনও রকম অস্বস্তি না হয়, বরং মুখের পেশিগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখের চামড়া ঢিলে হতে শুরু করে, গালের অংশ ঝুলে পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। মিনি টোনিং ডিভাইস নিয়মিত ব্যবহার করলে সেই ঢিলাভাব অনেকটাই কমে বলে দাবি করছেন রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের কথায়, ‘এই যন্ত্রের সাহায্যে মুখের পেশি যেন হালকা ব্যায়াম পায়।’ ফলে কনট্যুরিংয়ের কাজও অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই হয়ে যায়। বলিরেখা, মুখের ফোলা ভাব বা ক্লান্তির ছাপ ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। সেলুনে গিয়ে যে কাজের জন্য বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হত, তার অনেকটাই এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব হচ্ছে।
চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রযুক্তির অবদানও কম নয়। চোখের পলক বা আইল্যাশ (Eyelash) অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ভাবে সোজা বা নিচের দিকে ঝুলে থাকে। মাস্কারা বা সাধারণ আইল্যাশ কার্লার দিয়ে সাময়িক ভাবে পলক বেঁকানো গেলেও তা বেশিক্ষণ টেকে না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই বাজারে এসেছে হিটেড আইল্যাশ কার্লার (Heated Eyelash Curler)। ব্যাটারি-চালিত এই যন্ত্র হালকা উত্তাপের মাধ্যমে পলককে বেঁকিয়ে ধরে। উত্তাপের কারণে পলক দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সেই আকৃতিতেই থাকে। যাঁদের চোখ ছোট দেখায় বা ক্লান্ত লাগে, তাঁদের জন্য এই ডিভাইস কার্যকর হতে পারে। বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেকেই বলছেন, ‘সঠিক তাপমাত্রায় ব্যবহার করলে এটি চোখের পলকের কোনও ক্ষতি করে না, বরং চোখকে আরও খোলা ও প্রাণবন্ত দেখায়।’ ফলে দৈনন্দিন মেকআপে আলাদা করে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করেও চোখের সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।
ভ্রু বা আইব্রো (Eyebrow) মুখের সৌন্দর্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মুখের অভিব্যক্তি অনেকটাই নির্ভর করে ভ্রুর গঠনের উপর। কিন্তু সকলের ভ্রুর আকার এক রকম হয় না। কেউ চান ঘন ও মোটা ভ্রু, কেউ আবার পাতলা ও পরিপাটি। প্রাকৃতিক ভাবে পছন্দসই ভ্রু পাওয়া সব সময় সম্ভব নয়। তাই মেকআপের সাহায্যে ভ্রু আঁকার প্রবণতা অনেক দিন ধরেই রয়েছে। তবে প্রযুক্তি এখানে নিয়ে এসেছে আরও এক ধাপ এগোনো সমাধান, আইব্রো প্রিন্টার (Eyebrow Printer)। এই ডিভাইসটি মুখের গড়ন স্ক্যান করে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ভ্রুর আদর্শ আকার নির্ধারণ করে। তার পর অল্প সময়ের মধ্যেই নির্ধারিত ডিজাইনে ভ্রু ছাপা হয়ে যায়। অনেকটা সাময়িক ট্যাটুর মতোই এর কাজের ধরন। যারা প্রতিদিন ভ্রু আঁকতে সময় দিতে চান না বা যাঁদের হাতের কাজ ততটা নিখুঁত নয়, তাঁদের জন্য এই প্রযুক্তি এক বড় স্বস্তি।
রূপচর্চার এই আধুনিক যন্ত্রগুলির জনপ্রিয়তার পেছনে একটি বড় কারণ হল ব্যক্তিগত সময়ের অভাব। কর্মব্যস্ত জীবনে সেলুনে যাওয়ার সময় বের করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। ঘরে বসে যদি একই রকম যত্ন নেওয়া যায়, তবে তা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। তবে বিশেষজ্ঞরা একমত যে, প্রযুক্তিনির্ভর রূপচর্চার ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি। যন্ত্র ব্যবহারের আগে ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া, নির্দেশিকা মেনে চলা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় রূপচর্চা এখন অনেক বেশি ব্যক্তিগত, স্মার্ট এবং সময়সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ডিভাইস আরও উন্নত হবে বলেই ধারণা। ঘরে বসেই পেশাদার স্তরের যত্ন, এই ভাবনাই ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nimrat Kour Skin care tips | রূপচর্চা ও ত্বকের যত্ন নিতে কী বললেন নিমরত!




