Australia Social Media Ban under 16 | অনূর্ধ্ব-১৬-দের জন্য সোশাল মিডিয়া ‘না’: বিশ্বে নজির গড়ে অস্ট্রেলিয়ার কড়া আইন, মানলেই সংস্থার জরিমানা ৩০০ কোটির বেশি

SHARE:

বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করল অস্ট্রেলিয়া। আইন ভাঙলে সংস্থার জরিমানা ৩০০ কোটির বেশি। জানুন সম্পূর্ণ খবর ও বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ডিজিটাল যুগে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইতিহাস গড়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল অস্ট্রেলিয়া (Australia)। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সোশাল মিডিয়া ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ করল ক্যানবেরা। ‘Australia Social Media Ban’ নামে পরিচিত এই আইন গত বুধবার, ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। আইন অমান্য করলে সোশাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানা গুনতে হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই আইন ভাঙার দায় কোনওভাবেই নাবালক ব্যবহারকারী বা তাঁদের অভিভাবকদের উপর বর্তাবে না। শাস্তি ও জরিমানার সমস্ত বোঝা বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকেই। সরকারের বক্তব্য, শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্বই ব্যক্তির নয়, তা প্রযুক্তি সংস্থার কাঁধেই থাকা উচিত।

আরও পড়ুন : Donald Trump, Trump 2000 dollars | “প্রতি আমেরিকান পাবেন ২ হাজার ডলার” বিস্ফোরক ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের, শুল্ক আয়ের টাকা ফেরত দেবে ট্রাম্প সরকার

এই ঐতিহাসিক আইনের সূচনা হয়েছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে, যখন অস্ট্রেলিয়ার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) এই সংক্রান্ত বিল পাশ করে। দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের পর অবশেষে তা কার্যকর হল। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানেজ (Anthony Albanese) -এর নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার (Labor Government) বিলটি সংসদে পেশ করলে তার পক্ষে পড়ে ১০২টি ভোট। বিপক্ষে ভোট দেন মাত্র ১৩ জন সাংসদ। এই বিপুল সমর্থনই স্পষ্ট করে দেয়, শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক মহলে বিরল ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার নেপথ্যে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সাইবার বুলিং ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক নাবালক-নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনায় অভিভাবকরা সরাসরি সোশাল মিডিয়াকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইন বুলিং, ট্রোলিং এবং মানসিক চাপ সামলাতে না পেরে অনেক কিশোর-কিশোরী চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। একজন অভিভাবক সংগঠনের প্রতিনিধি জানান, “আমরা বহুবার সরকারকে জানিয়েছি, সোশাল মিডিয়া এখন আর শিশুদের জন্য নিরাপদ জায়গা নয়। এই আইন আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির ফল।”

কিন্তু, এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্কও কম হয়নি। আইন পাশের আগেই একাংশের দাবি ছিল, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা মানে কমবয়সীদের মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করা। অনেক কিশোর-কিশোরীর বক্তব্য, এর ফলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগ, বন্ধুত্ব ও এমনকী পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়বে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মই অনেকের কাছে নিজের কথা বলার একমাত্র জায়গা ছিল বলেও দাবি উঠেছে। এই সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানেজ স্পষ্টভাবে বলেন, “এটা মতপ্রকাশ রোধের আইন নয়। এটা শিশুদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষার আইন। অনলাইন জগতে যেভাবে ঝুঁকি বাড়ছে, তাতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি ছিল।” তাঁর কথায়, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তার নেতিবাচক দিকগুলিকেও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ফেসবুক (Facebook), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), টিকটক (TikTok), এক্স বা প্রাক্তন টুইটার (X, formerly Twitter)-এর মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সীরা অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু, শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্ল্যাটফর্ম, যেমন ইউটিউব কিডস (YouTube Kids) -এর মতো মাধ্যমকে এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। অন্যদিকে, আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদের ঝড়। নিউ সাউথ ওয়েলস (New South Wales) -এর একাধিক কিশোর-কিশোরী এবং নাগরিক সংগঠন ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই আইন সংবিধানসম্মত অধিকার লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, কীভাবে সংস্থাগুলি বয়স যাচাই করবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত থাকবে! এই বিতর্কের মধ্যেই গোটা বিশ্বের নজর এখন অস্ট্রেলিয়ার দিকে। ইউরোপ, আমেরিকা থেকে এশিয়া, সবখানেই আলোচনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি অন্য দেশগুলিও একই পথ অনুসরণ করবে? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আবার অনেকের আশঙ্কা, এতে ডিজিটাল স্বাধীনতার প্রশ্ন নতুন করে উঠে আসবে।উল্লেখ্য যে, অনূর্ধ্ব-১৬-দের সোশাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া শুধু একটি আইনই চালু করেনি, তা বিশ্ব রাজনীতিতে প্রযুক্তি ও মানবাধিকারের এক নতুন বিতর্কের দরজাও খুলে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে শিশু সুরক্ষা নীতি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা কোন পথে এগোবে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি : প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Bondi Beach mass shooting, Australia terror attack | রক্তে রাঙাল সিডনির বন্ডি বিচ: ইহুদি উৎসব চলাকালীন জঙ্গি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন