Assam Polygamy Bill 2025 | অসমে দ্বিতীয় বিয়ে করলেই জেল! বহুগামিতা নিষিদ্ধ বিল পাশ, সর্বোচ্চ ৭ বছরের সাজা

SHARE:

গোয়ালপাড়ার পবিত্র দ’দান থানে জনজাতীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ বিভাগ চালু করল অসম সরকার। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রতিশ্রুত সুরক্ষা ও উন্নয়ন উদ্যোগ।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : অসমে (Assam) এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বাধীন সরকার। বহুগামিতা বা একাধিক বিয়ে করার প্রথাকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে রবিবার রাজ্য মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ‘অসম বহুগামিতা নিষিদ্ধ বিলকে, ২০২৫’ (Assam Prohibition of Polygamy Bill, 2025)। এখন থেকে রাজ্যে কোনও পুরুষ দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে করলে, অথবা কোনও মহিলা একাধিক স্বামীর সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড।

রবিবার, ৯ নভেম্বর, এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ বিষয়ে বলেন, “অসমের সমাজব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও আধুনিক করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য কারও ধর্ম বা প্রথা আঘাত করা নয়, বরং সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করা।” তিনি আরও জানান, “বহুগামিতা প্রথা বহু মহিলাকে বঞ্চনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমরা চাই, প্রতিটি নারী নিজের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচুক।” সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি এখন বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে ২৫ নভেম্বর, এবং সেখান থেকে পাস হলে তা আইন হিসেবে কার্যকর হবে।বিল অনুযায়ী, যদি কোনও ব্যক্তি একাধিক বিবাহে আবদ্ধ হন, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা অন্য কোনও ধর্মের অনুসারী হোন না কেন, আইনের চোখে তাঁরা সমানভাবে দোষী বলে গণ্য হবেন। শাস্তি হিসেবে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা নির্ধারিত হয়েছে।

তবে সরকার জানিয়েছে, অসমের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত জনজাতি অঞ্চলগুলোতে (Sixth Schedule Tribal Areas) কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে, কারণ সেসব অঞ্চলে এখনো প্রথাগত ও গোষ্ঠীগত বিবাহব্যবস্থা প্রচলিত। এই বিষয়ে স্থানীয় সমাজ ও নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিল কার্যকর হলে “অসম হবে দেশের প্রথম রাজ্য, যেখানে স্পষ্টভাবে বহুগামিতা নিষিদ্ধ হবে।” তিনি বলেন, “এই বিল শুধুমাত্র আইন নয়, এটি সামাজিক সংস্কারের এক মাইলফলক। আমরা চাই নারীরা যেন আর কখনও দ্বিতীয় বিয়ের শিকার না হন।”

সরকার শুধু শাস্তির ব্যবস্থা করছে না, একই সঙ্গে একটি বিশেষ তহবিল (Relief Fund for Victims of Polygamy) তৈরি করা হচ্ছে। হিমন্ত বলেন, “যে মহিলারা বহুগামিতার শিকার হয়ে একা পড়ে গেছেন, তাঁদের সাহায্য করার জন্য এই ফান্ড তৈরি করা হবে। তাঁদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক চাহিদা মেটানোর দায়িত্ব রাজ্য নেবে।”

এই সিদ্ধান্তে সমর্থন করেছেন একাংশ সমাজকর্মী ও মহিলা সংগঠন। অসম মহিলা সমিতির (Assam Mahila Samiti) সভাপতি অনিতা দাস (Anita Das) বলেন, “এটা সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। বহুগামিতা শুধু নারীর অপমান নয়, এটি সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। আমরা চাই, বিলটি দ্রুত আইন হয়ে কার্যকর হোক।”

কিন্তু, এই বিল নিয়ে বিরোধী শিবিরে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেস (Congress) মুখপাত্র দেবব্রত শর্মা (Debabrata Sharma) বলেন, “সরকারের এই পদক্ষেপ যদি সত্যিই নারীর কল্যাণের জন্য হয়, তাহলে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু আমরা দেখতে চাই, আইন প্রয়োগ কতটা নিরপেক্ষভাবে হয়।” আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলের মাধ্যমে রাজ্য সরকার ব্যক্তিগত আইনের (Personal Law) গণ্ডি অতিক্রম করতে চলেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার যদি অনুমোদন দেয়, তাহলে এই আইন কার্যকর হতে কোনও বাধা থাকবে না।অসমে এই আইন বাস্তবায়ন হলে তা অন্য রাজ্যগুলিকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক মহল বলছে, এই সিদ্ধান্ত হিমন্ত সরকারের ‘সামাজিক সংস্কার’ ইমেজকে আরও জোরদার করবে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আমরা চাই, অসমে প্রতিটি বিবাহ হোক সমতার, সম্মানের ও আইনানুগ ভিত্তিতে। সমাজকে শক্তিশালী করতে হলে নারীর মর্যাদা রক্ষা করতেই হবে।” উল্লেখ্য, অসমের এই পদক্ষেপ এক নতুন সামাজিক অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে নারী আর নিছক ‘সহধর্মিণী’ নয়, বরং সমান অধিকারের নাগরিক।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Priya Jhingan – India’s first woman army officer who broke barriers and inspired generations | প্রিয়া ঝিঙ্গান ভারতের প্রথম মহিলা সেনা অফিসার যিনি ভাঙলেন অচলায়তনের প্রাচীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন