Aneet Padda controversy, Saiyara actress | অকারণ বিতর্ক ‘সাইয়ারা’র নায়িকা অনীত পাড্ডাকে ঘিরে, সামনে এলো আসল সত্যিটা

SHARE:

বৈশম্পায়ন চক্রবর্তী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউডে সম্প্রতি যে নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা নজর কাড়ছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অনীত পাড্ডা (Aneet Padda)। জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ‘সাইয়ারা’ (Saiyara) ছবির মাধ্যমে, একটি রোমান্টিক থ্রিলার, যেখানে তাঁর অভিনয়ের সূক্ষ্মতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

কিন্তু এখন অনীত আলোচনায় এসেছেন একেবারে অন্য কারণে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি পুরনো ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে অনীত একটি বিখ্যাত উর্দু কবিতা ‘লব পে আতি হ্যায় দুয়া’ (Lab Pe Aati Hai Dua) গান হিসেবে পরিবেশন করছেন। কেউ কেউ দাবি তুলেছেন, এটি নাকি একটি ধর্মীয় কবিতা, তাই তাঁর গান করা উচিত হয়নি। কিন্তু প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর নেটিজেনরা বুঝেছেন, এই বিতর্ক অকারণ ছাড়া আর কিছু নয়। ভিডিওটি প্রথমে ছড়ায় এক্স (X) ও ইনস্টাগ্রাম (Instagram)-এ। সেখানে কেউ কেউ মন্তব্য করেন যে, এটি ইসলামী কবিতা, তাই একজন হিন্দু অভিনেত্রীর (Hindu actress) পক্ষে তা গাওয়া অনুচিত। কিন্তু দ্রুতই ক’য়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্য সমালোচক ও সাধারণ দর্শক বিষয়টি নিয়ে যুক্তি দেন। তাঁরা জানান, এই কবিতাটি আসলে বিখ্যাত কবি আল্লামা ইকবাল (Allama Iqbal) -এর লেখা শিশুদের প্রার্থনাগীতি, যা বহু বছর ধরে ভারতের স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়, ধর্ম নির্বিশেষে। একজন শিক্ষাবিদ লিখেছেন, “এই কবিতাটি মুসলিম ধর্মীয় কবিতা নয়। এটি মূলত শিশুদের শেখায় মানবতা, সহানুভূতি ও সৎ পথে চলার গুরুত্ব।”

প্রসঙ্গত, কবিতা ‘লব পে আতি হ্যায় দুয়া’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে, এবং তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্কুলের পাঠ্যপুস্তকেও জায়গা করে নেয়। কবি আল্লামা ইকবাল যেভাবে শিশুদের মুখ দিয়ে সেই প্রার্থনাটি প্রকাশ করেছেন, তাতে ধর্ম নয়, সার্বজনীন মানবিকতার মূল্যবোধই মুখ্য হয়ে উঠেছে। অনীত পাড্ডা ভিডিওটি নিয়ে কোনও বিতর্ক সৃষ্টি করতে চাননি, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি নিজে। এক সাক্ষাৎকারে অনীত বলেন, “আমি ছোটবেলায় এই কবিতাটা স্কুলে পড়েছিলাম। তখন থেকেই খুব ভাল লাগত। ক’য়েক মাস আগে একটা লাইভ সেশনে আমি সেটি সুরে গেয়ে ফেলি, কারণ সেই শব্দগুলির মানে আমার কাছে শান্তির বার্তা বহন করে। কোনও ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছিল না।” তাঁর এই শান্ত ও স্পষ্ট বক্তব্যের পরেও কিছু নেটিজেন মন্তব্যে বিষ ঢেলেছেন, যা দেখে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সমালোচক লিখেছেন, “আজকের সমাজে যেখানে শিল্পকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে, সেখানে অনীতের এই সরল গান গাওয়াও বিতর্কের কারণ হয়ে যাচ্ছে, এটা দুঃখজনক।” অনীত পাড্ডার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বহু শিল্পী ও সহকর্মী। পরিচালক অরবিন্দ কৌশিক (Arvind Kaushik) বলেছেন, “অনীত একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রী ও শিল্পী। তিনি যা করেছেন, সেটা শিল্পের স্বাধীন প্রকাশ। এই গান নিয়ে বিতর্ক খাড়া করা একেবারেই অযৌক্তিক।” ‘সাইয়ারা’ ছবির সাফল্যের পর অনীতের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। তাঁর ভক্তসংখ্যা এখন লাখ ছুঁয়েছে, আর সেই কারণেই হয়তো তাঁকে নিয়ে আলোচনাও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় তাঁর জনপ্রিয়তা কমার বদলে আরও বেড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখেছেন, “অনীতের কণ্ঠে ওই কবিতা শোনার সময় মনে হচ্ছিল মানবতার প্রার্থনা চলছে, ধর্মের নয়।” প্রকৃতপক্ষে, ‘লব পে আতি হ্যায় দুয়া’ এমন এক কবিতা যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভারতীয় সমাজে শান্তি ও নৈতিকতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে। বহু স্কুলে আজও এটি সকালে প্রার্থনার সময় গাওয়া হয়। একসময় পণ্ডিত নেহরু (Jawaharlal Nehru) পর্যন্ত এই কবিতার প্রশংসা করেছিলেন। অনীত বলেন, “যে মানুষরা এই কবিতার অর্থ না জেনে কেবল ধর্মের নামে মন্তব্য করছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, একবার কবিতার মূল ভাবটা বুঝুন। আমি কোনও ধর্মীয় বিভাজন মানি না। আমার কাছে কবিতা মানে আত্মার কথা।” 

এই বিতর্ক অনীতের কেরিয়ারে কোনও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, তাঁর হাতে ইতিমধ্যেই দুটি বড় প্রজেক্ট এসেছে, একটি ওয়েব সিরিজ এবং একটি রোমান্টিক ড্রামা। একটি জনপ্রিয় বিনোদন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অনীতের এই বিষয়টিতে পরিণত ও শিক্ষিত প্রতিক্রিয়া তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। আজকের প্রজন্মের কাছে তিনি সহনশীলতার এক প্রতীক।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ #WeStandWithAneet। বহু তরুণ শিল্পী ও অনুরাগী লিখেছেন, “একজন শিল্পীর কোনও ধর্ম হয় না, তাঁর কণ্ঠই তাঁর পরিচয়।” একজন ইউজার মন্তব্য করেছেন, “যাঁরা ছোটবেলায় স্কুলে এই কবিতা পড়েছেন, তাঁরা জানেন, এটা প্রার্থনা নয়, এটা শিক্ষার পাঠ।” এদিকে কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিতও বলেছেন, “এই কবিতাকে ধর্মীয় লেন্সে দেখা ঠিক নয়। এটি একটি ক্লাসিক সাহিত্যকর্ম, যা শিশুমনের পবিত্রতা তুলে ধরে।” তবে এই বিতর্ক সমাজে যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে, তা হল, শিল্প ও ধর্মকে একাকার করা কতটা অযৌক্তিক হতে পারে। অনীতের মতো একজন তরুণ অভিনেত্রী সাহসের সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, যা শিল্পীমনস্ক সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার। ‘সাইয়ারা’র মতো একটি ছবির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া অনীত এখন বলিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ। তিনি নিজেকে কেবল একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন শিল্পী হিসেবেও তুলে ধরছেন।

তাঁর ভাষায়, “আমি সবসময়ই বিশ্বাস করি, কবিতা, গান বা সিনেমা আমাদের এক করে, ভেদ নয়।” এই বক্তব্যেই হয়ত লুকিয়ে আছে আজকের বিতর্কের উত্তর: মানবতা, সংহতি ও ভালবাসা। অনীত পাড্ডা হয়তো একটা গান গেয়েছিলেন নিছক ভাল লাগা থেকে। কিন্তু সেই গানই এখন সমাজে সহনশীলতা, মানবতা ও বোঝাপড়ার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর এটাই একজন শিল্পীর আসল সাফল্য, যেখানে শব্দের চেয়ে অনুভূতির গুরুত্ব বেশি।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ananya Panday Taught Acting to Saiyaara Actress Aneet Padda | অভিনয় শেখানোর ভিডিও ভাইরাল: ‘সাইয়ারা’র নায়িকা অনীত পাড্ডাকে গাইড করছিলেন অনন্যা পাণ্ডে! নেটিজেনরা বললেন, ‘এখন তো ও বড় স্টার’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন