Ajit Pawar | ঘন কুয়াশার গ্রাসে বারামতী আকাশ, অবতরণের মুহূর্তে ভেঙে পড়ল উপমুখ্যমন্ত্রীর বিমান, রহস্যে মোড়া দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ রাজ্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ঘন কুয়াশা, সীমিত দৃশ্যমানতা এবং একের পর এক অবতরণের ব্যর্থ চেষ্টা, এই সব কিছুর মাঝেই এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার (Ajit Pawar)। বুধবার সকালে বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় তাঁর ব্যক্তিগত চার্টার্ড বিমান ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ধরে যায় বিমানে। অজিত-সহ মোট পাঁচ জন আরোহীর মৃত্যু হয়।

প্রাথমিক ভাবে বিমানের ভেতরের দেহগুলি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আগুনে পুড়ে যাওয়ার ফলে দেহগুলি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল যে পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত হাতঘড়ি, পোশাকের অংশ এবং ব্যক্তিগত সামগ্রীর সূত্র ধরেই উপমুখ্যমন্ত্রীর দেহ শনাক্ত করা হয় বলে উল্লেখ।
সূত্রের খবর, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ মুম্বাই থেকে বারামতীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন অজিত পওয়ার। তিনি সফর করছিলেন ‘বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫’ (Bombardier Learjet 45) মডেলের একটি চার্টার্ড বিমানে, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখানো হয়েছে ‘ভিটি-এসএসকে’। রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই তাঁর বারামতী যাওয়ার কথা ছিল বলে উল্লেখ।

বিমানের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী একটি আন্তর্জাতিক উড়ান ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অবতরণের আগে অন্তত দু’বার রানওয়েতে নামার চেষ্টা করা হয়। প্রথম বারের চেষ্টায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় বিমানটিকে আবার আকাশে তুলে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় রানওয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও নিয়ন্ত্রণ হারায় বিমানটি এবং রানওয়ের এক প্রান্তে আছড়ে পড়ে। বারামতী বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে (Shivaji Tawde) বলেন, ‘অবতরণের সময় রানওয়ের এক ধারে আচমকা নিচে নেমে যায় বিমানটি। মাটিতে ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়’। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গিয়েছিল।

দুর্ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক অনুমানে ঘন কুয়াশা এবং কম দৃশ্যমানতাকেই দায়ী করা হচ্ছে। সেই দিন ভোর থেকেই বারামতী এবং সংলগ্ন এলাকায় কুয়াশার চাদরে ঢেকে গিয়েছিল আকাশ। দৃশ্যমানতা নেমে এসেছিল অনুমানিক ২০০ মিটারেরও কমে। উল্লেখ্য, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু (K. Ram Mohan Naidu) বলেন, ‘ডিজিসিএ (DGCA) এবং এএআইবি (AAIB) যৌথ ভাবে তদন্ত শুরু করছে। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, অবতরণের সময় দৃশ্যমানতা প্রয়োজনীয় সীমার নীচে নেমে গিয়েছিল’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) প্রথম বার অবতরণের আগে পাইলটকে রানওয়ে দেখা যাচ্ছে কি না জানতে চেয়েছিল। মন্ত্রী আরও জানান, প্রথম প্রশ্নের উত্তরে পাইলটের তরফে জানানো হয় যে রানওয়ে স্পষ্ট নয়। সে কারণে বিমানটিকে আরও একটি চক্কর কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় বার যোগাযোগে পাইলট জানান যে তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। সেই ভিত্তিতেই অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই চেষ্টাতেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা।

এই ঘটনায়, রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা শোকবার্তা জানিয়েছেন। একজন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বক্তব্য, ‘অজিত পওয়ার ছিলেন মহারাষ্ট্র রাজনীতির এক প্রভাবশালী মুখ। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন’। প্রসঙ্গত, এই দুর্ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি বিমানবন্দরগুলিতে কুয়াশা মোকাবিলার পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) এবং উন্নত আবহাওয়া সতর্কীকরণ ব্যবস্থার অভাব থাকলে এমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে।

কিন্তু, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলেও এই কাল্পনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, মানবিক ভুল, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা,এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিমান দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণঘাতী ঘটনার কথাই তুলে ধরে না, বরং উড়ান নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঝুঁকি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব নিয়েও একাধিক প্রশ্ন সামনে এনে দেয়।

ছবি : সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Narendra Modi Republic Day | সাধারণতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে নতুন ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশি অতিথিদের জন্য নিজেই ধারাভাষ্যকার হয়ে উঠলেন ভারতের কণ্ঠ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন