সূর্য মিত্র, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে যিনি পরিচিত, সেই আমির খান (Aamir Khan) তাঁর সিনেমার জন্য যেভাবে নিজেকে বদলে ফেলেন, তা শুধু ভক্তদের নয়, বিশেষজ্ঞদেরও বিস্মিত করে। ‘দঙ্গল’ (Dangal) সিনেমার জন্য যেভাবে আমির নিজের শরীরে পরিবর্তন আনেন, তা আজও রেফারেন্স হয়ে আছে বলিউডের বডি ট্রান্সফরমেশন ইতিহাসে। একদিকে ছিলেন প্রায় ৯৭ কেজির স্থূলকায় ব্যক্তি, অন্যদিকে পরিণত হন সিক্স প্যাক অ্যাবস-যুক্ত, সুগঠিত পেশিবহুল কুস্তিগীর রূপে। এই বদল কোনও কৃত্রিম উপায় নয়, কঠোর পরিশ্রম, ডায়েট ও মানসিক দৃঢ়তার ফল।

‘দঙ্গল’-এর শুটিংয়ের জন্য ওজন বাড়ানো ও কমানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আমির। ছবিতে ভারতীয় কুস্তিগীর মহাবীর সিং ফোগাটের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য আমির খান (Aamir Khan) প্রথমেই নিজের ওজন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন : Amir Khan | বিচ্ছেদের পরে ‘দেবদাস’ হয়ে গিয়েছিলাম, জীবনের অন্ধকার অধ্যায় শেয়ার করলেন আমির খান
তাঁর কথায়, “আমি চাইনি বডি স্যুট পরে মোটা দেখাতে। বরং বাস্তবেই ওজন বাড়িয়ে মোটা হওয়া দরকার ছিল চরিত্রের গভীরতা ধরার জন্য।” তিনি অনুরোধ করেন পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি (Nitesh Tiwari)-কে যেন প্রথমে মহাবীরের বৃদ্ধ বয়সের অংশগুলির শ্যুটিং করা হয়, যাতে তিনি পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ফিটনেস ট্রেনিংয়ে মন দিতে পারেন। ওজন বাড়ানোর সময় আমির জানান, সেই সময়টা ‘মজার’ ছিল। “যা খেতে ইচ্ছা করত, তাই খেতাম।” কিন্তু সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়, কুস্তির ট্রেনিং ব্যাহত হয়। “ওজন বাড়লে দেহের নড়াচড়া, শ্বাসপ্রশ্বাস, হাঁটার ধরণ, সবই বদলে যায়। প্রতিটা পদক্ষেপ যেন কষ্টকর হয়ে উঠেছিল।”
ওই সময় আমির খানের ওজন দাঁড়িয়েছিল ৯৭ কেজি-তে। যার মধ্যে শরীরের চর্বির মাত্রা ছিল প্রায় ৩৮%। সেখান থেকে নামিয়ে আনেন ৯.৬%-এ। এক কথায়, অবিশ্বাস্য। কিন্তু এই বদলের পেছনে ছিল দীর্ঘ পরিকল্পনা, কঠোর অনুশীলন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস। এক সাক্ষাৎকারে আমির খান (Aamir Khan) বলেন, “প্রথমে ভাবতাম হয়ত পারব না। কিন্তু নিজেকে হতাশ হতে দিইনি। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়েছি।”
আরও পড়ুন : Amir Khan : ১০ মাস আগলে রেখেছিলেন আমির খান, সন্তানের জন্মের পর কৃতজ্ঞতা জানালেন বিষ্ণু বিশাল
ওই ফিটনেস রুটিনে ছিল-
১. স্ট্রেন্থ ট্রেনিং (Strength Training)
২. ফাংশনাল ওয়ার্কআউট (Functional Workout)
৩. কার্ডিও এক্সারসাইজ (Cardio Exercise)
৪. ক্যালোরি-ডেফিসিট ডায়েট (Calorie Deficit Diet)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ট্রান্সফরমেশনে ব্যালেন্সড ডায়েটই মূল চাবিকাঠি। সেই বিষয়েও সচেতন ছিলেন আমির। “আপনি যতই এক্সারসাইজ করুন না কেন, ডায়েট ঠিক না থাকলে কোনও লাভ নেই,” বলেন তিনি।

ডায়েট প্ল্যানের গোপন ফর্মুলা
আমিরের ডায়েট প্ল্যানে ছিল হাই-প্রোটিন, লো-কার্ব খাবার। রোজকার খাদ্যতালিকায় থাকত :
১. সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ
২. গ্রিলড চিকেন বা মাছ
৩. স্যালাড
৪. ওটস
৪. প্রোটিন শেক
৫. প্রচুর পরিমাণে জল
আমির খান কোনও প্রকার চিনিযুক্ত খাবার, ভাজাভুজি বা প্রসেসড ফুড বাদ দিয়েছিলেন। এমনকী ঘুম ও রিকভারি সময়কেও গুরুত্ব দিয়েছিলেন অভিনেতা। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি (Nitesh Tiwari) বলেন, “আমির একবার প্রতিজ্ঞা করলে পিছু হটেন না। অনেক সময়ে ক্লান্ত লাগলেও তিনি হার মানেননি।” এমনকি তাঁর ট্রেনাররাও কোনও ছাড় দেননি। বরং তাঁকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে, সেগুলোর সঙ্গে লড়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। ‘দঙ্গল’-এর শ্যুটিং শেষের সময় আমির খান (Aamir Khan) নিজেকে আয়নায় দেখে নিজেই গর্ব অনুভব করেন। বলেন, “যখন আপনি চেষ্টা করেন, একদিন দেখবেন আপনার শরীরই আপনাকে বলে ধন্যবাদ।” উল্লেখ্য, এই ট্রান্সফরমেশন শুধু একটি সিনেমার জন্য নয়, স্বাস্থ্য সচেতন দর্শকদের জন্য এক মডেল হয়ে দাঁড়ায়। আমির দেখিয়ে দিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তি, নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে বয়স কোনও বাধা নয়।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan, Kiran Rao | বিচ্ছেদের পরও একইরকম ঘনিষ্ঠতা! কিরণ ও আমিরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালক




