প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : দক্ষিণী ছবিতে অভিনেত্রীদের উপস্থাপনা, খোলামেলা পোশাক ও পর্দায় শরীরী দৃশ্যের ব্যবহার নিয়ে বিনোদনজগতে বিতর্ক নতুন নয়। এ বার সেই আলোচনায় উঠে এল রাম চরণ অভিনীত ‘পেদ্দি’ ছবির প্রসঙ্গ। ছবিতে জাহ্নবী কাপূরের উপস্থিতি ও তাঁকে পর্দায় যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে আগে থেকেই নেটমাধ্যমে আলোচনা চলছিল। এবার অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা (Rashmika Mandanna) নিজের পোশাক নির্বাচন ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে কথা বলায় সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তাঁর বক্তব্য, চরিত্রের প্রয়োজনে নানা ধরনের পোশাক পরার বিষয়টি তিনি বোঝেন, কিন্তু শরীর প্রদর্শন বা বিকিনি পরার মতো দৃশ্যে তিনি সব সময় স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
কিন্তু পেশার প্রয়োজন থাকলেই যে প্রতিটি প্রস্তাবে সম্মতি জানাতে হবে, এমনটা তিনি মনে করেন না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলি নিয়ে আমি স্বচ্ছন্দ নই। কোনও চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরার মতো দৃশ্য থাকতে পারে, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু শরীর দেখানো বা খোলামেলা পোশাক পরার বিষয়েও আমি খুব একটা স্বচ্ছন্দ নই। আমি সে রকম মানুষ নই।’ রশ্মিকার এই মন্তব্যের পর থেকেই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গেলে চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পীদের পোশাক, সাজসজ্জা ও অভিনয়ের ধরন বদলাতে হয়।
রশ্মিকা মন্দানা। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু, কোনও দৃশ্যের ক্ষেত্রে অভিনেতা বা অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত আপত্তি থাকলে সেই মতামত কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রশ্মিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই জায়গাটিই। তাঁর মতে, পর্দায় কোনও চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনয় জরুরি হলেও, তার অর্থ এই নয় যে নিজের অস্বস্তি উপেক্ষা করে প্রতিটি দৃশ্যে অংশ নিতে হবে। বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করার সময় নিজের পছন্দের বাইরে গিয়েও পোশাক পরতে হয় বলে জানিয়েছেন রশ্মিকা। কিন্তু তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল, কোন জায়গায় তিনি সম্মতি জানাবেন আর কোথায় আপত্তি জানাবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা। অভিনেত্রীর বক্তব্য, নিজের জন্য কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন তিনি। অধিকাংশ পরিচালক সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন বলেও জানিয়েছেন রশ্মিকা। তাঁর কথায়, ‘নিজের জন্য কিছু সীমারেখা ঠিক করে রেখেছি। বেশির ভাগ পরিচালকই সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন। আমি এমন পরিচালকদের সঙ্গেই কাজ করতে পছন্দ করি।’
রশ্মিকার এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের কাজের পরিবেশে পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব সামনে এসেছে। কোনও দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা এবং নিজের আপত্তির কথা জানানো, দু’টিই একজন শিল্পীর পেশাগত অধিকারের অংশ। পর্দায় কীভাবে কোনও চরিত্রকে তুলে ধরা হবে, তা সাধারণত চিত্রনাট্য, পরিচালকের পরিকল্পনা ও ছবির সামগ্রিক উপস্থাপনার উপর নির্ভর করে। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় শিল্পীর মতামতও যে গুরুত্বপূর্ণ, রশ্মিকার কথায় সেই বিষয়টিই উঠে এসেছে। আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডা (Vijay Deverakonda)। তাঁর মতে, কোনও দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি থাকলে শিল্পীদের ‘না’ বলার অধিকার রয়েছে। এই বিষয়টি তাঁদের বোঝানো প্রয়োজন। অভিনয়ের পেশায় যুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে কোনও প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না কিংবা আপত্তি জানানো যাবে না। বরং শিল্পীদের নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ থাকা দরকার। বিজয়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে, অনেক সময় পেশাদারিত্বের যুক্তি দেখিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হয়, যেখানে তাঁরা নিজের অস্বস্তির কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন।
বিজয়ের কথায়, ‘অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বোঝানোর প্রয়োজন যে, আপত্তি জানানো বা কোনও বিষয়ে না বলা স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ, অনেক সময় তাঁদের বলা হয়, তুমি অভিনেত্রী, এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছ, এটাই তো তোমার কাজ।’ তাঁর মতে, এ ধরনের কথা শুনে অনেক শিল্পী নিজেদের পেশাগত যোগ্যতা নিয়েই সংশয়ে পড়ে যান। তাঁরা ভাবতে শুরু করেন, কোনও দৃশ্যে আপত্তি জানালে হয়তো তাঁদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সেই আশঙ্কা থেকেই অনেকে নিজের মতামত প্রকাশ না করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিজয় আরও জানান, পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অনেক শিল্পী প্রতিবাদ করার পরিবর্তে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান। কাজ হারানোর আশঙ্কা, পরিচালকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কিংবা ভবিষ্যতে সুযোগ কমে যাওয়ার ভয় তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কোনও দৃশ্য নিয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কখনও কখনও সম্মতি জানিয়ে ফেলেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে শিল্পীদের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি বলেই তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত।
‘পেদ্দি’ ছবিতে জাহ্নবী কাপূরের উপস্থাপনা নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, রশ্মিকা ও বিজয়ের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করেছে। নেটমাধ্যমে ছবির কিছু দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, ছবিতে জাহ্নবীর অভিনয় ও চরিত্রের চেয়ে তাঁর বাহ্যিক উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কি না। তবে কোনও ছবিতে অভিনেত্রীর পোশাক বা দৃশ্যের উপস্থাপনাকে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। ছবির নির্মাতাদের পরিকল্পনা, চরিত্রের প্রয়োজন এবং শিল্পীর সম্মতি সব কটি বিষয়ই এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানা। ছবি : সংগৃহীত।
দক্ষিণী ছবিতে অন্য ভাষার অভিনেত্রীদের উপস্থিতি ও তাঁদের পর্দায় উপস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বাণিজ্যিক ছবিতে আকর্ষণীয় দৃশ্য, নাচের পর্ব এবং গ্ল্যামারনির্ভর উপস্থাপনা অনেক সময় প্রচারের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই উপস্থাপনা চরিত্রের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়। রশ্মিকার মন্তব্য সেই বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যকে ‘পেদ্দি’ ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমারেখার কথাই বলেছেন। অন্যদিকে, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পেশাগত স্বাধীনতা, চরিত্রের প্রয়োজনে পোশাক নির্বাচন ও কোনও দৃশ্যে সম্মতি জানানোর বিষয়টি বিনোদনজগতের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি ছবির প্রয়োজনে শিল্পীদের নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয় ঠিকই, কিন্তু সেই কাজের প্রক্রিয়ায় তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াও প্রয়োজন। রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডার বক্তব্যে সেই দিকটিই উঠে এসেছে। ‘পেদ্দি’ ছবিকে ঘিরে শুরু হওয়া আলোচনা তাই শুধু জাহ্নবী কপূরের পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, পেশাগত অধিকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্মতির গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
Rashmika Mandanna bikini comment | ‘বিকিনি পরতে স্বচ্ছন্দ নই’! ‘পেদ্দি’-তে জাহ্নবীর উপস্থাপনা ঘিরে বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন রশ্মিকা!
Sasraya News
FOLLOW US:
SHARE:
প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : দক্ষিণী ছবিতে অভিনেত্রীদের উপস্থাপনা, খোলামেলা পোশাক ও পর্দায় শরীরী দৃশ্যের ব্যবহার নিয়ে বিনোদনজগতে বিতর্ক নতুন নয়। এ বার সেই আলোচনায় উঠে এল রাম চরণ অভিনীত ‘পেদ্দি’ ছবির প্রসঙ্গ। ছবিতে জাহ্নবী কাপূরের উপস্থিতি ও তাঁকে পর্দায় যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে আগে থেকেই নেটমাধ্যমে আলোচনা চলছিল। এবার অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা (Rashmika Mandanna) নিজের পোশাক নির্বাচন ও অভিনয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে কথা বলায় সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তাঁর বক্তব্য, চরিত্রের প্রয়োজনে নানা ধরনের পোশাক পরার বিষয়টি তিনি বোঝেন, কিন্তু শরীর প্রদর্শন বা বিকিনি পরার মতো দৃশ্যে তিনি সব সময় স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ ও আপত্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন : Vijay Deverakonda Rashmika Mandanna Wedding Proposal | ইতালিতে রশ্মিকাকে কেন বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারেননি বিজয় দেবরকোন্ডা? জানালেন অজানা কাহিনি
কিন্তু পেশার প্রয়োজন থাকলেই যে প্রতিটি প্রস্তাবে সম্মতি জানাতে হবে, এমনটা তিনি মনে করেন না। অভিনেত্রীর কথায়, ‘কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলি নিয়ে আমি স্বচ্ছন্দ নই। কোনও চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরার মতো দৃশ্য থাকতে পারে, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু শরীর দেখানো বা খোলামেলা পোশাক পরার বিষয়েও আমি খুব একটা স্বচ্ছন্দ নই। আমি সে রকম মানুষ নই।’ রশ্মিকার এই মন্তব্যের পর থেকেই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গেলে চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পীদের পোশাক, সাজসজ্জা ও অভিনয়ের ধরন বদলাতে হয়।
কিন্তু, কোনও দৃশ্যের ক্ষেত্রে অভিনেতা বা অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত আপত্তি থাকলে সেই মতামত কতটা গুরুত্ব পায়, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রশ্মিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই জায়গাটিই। তাঁর মতে, পর্দায় কোনও চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনয় জরুরি হলেও, তার অর্থ এই নয় যে নিজের অস্বস্তি উপেক্ষা করে প্রতিটি দৃশ্যে অংশ নিতে হবে। বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করার সময় নিজের পছন্দের বাইরে গিয়েও পোশাক পরতে হয় বলে জানিয়েছেন রশ্মিকা। কিন্তু তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল, কোন জায়গায় তিনি সম্মতি জানাবেন আর কোথায় আপত্তি জানাবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা। অভিনেত্রীর বক্তব্য, নিজের জন্য কিছু সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন তিনি। অধিকাংশ পরিচালক সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন বলেও জানিয়েছেন রশ্মিকা। তাঁর কথায়, ‘নিজের জন্য কিছু সীমারেখা ঠিক করে রেখেছি। বেশির ভাগ পরিচালকই সেই সীমারেখাকে সম্মান করেন। আমি এমন পরিচালকদের সঙ্গেই কাজ করতে পছন্দ করি।’
আরও পড়ুন : Deepika Padukone second daughter name, Devi Padukone Singh | দ্বিতীয় কন্যার নাম দেবী! নবরাত্রির আবহে দুই মেয়েকে নিয়ে প্রথম ছবি প্রকাশ দীপিকা-রণবীরের
রশ্মিকার এই বক্তব্যে চলচ্চিত্রের কাজের পরিবেশে পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব সামনে এসেছে। কোনও দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা এবং নিজের আপত্তির কথা জানানো, দু’টিই একজন শিল্পীর পেশাগত অধিকারের অংশ। পর্দায় কীভাবে কোনও চরিত্রকে তুলে ধরা হবে, তা সাধারণত চিত্রনাট্য, পরিচালকের পরিকল্পনা ও ছবির সামগ্রিক উপস্থাপনার উপর নির্ভর করে। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় শিল্পীর মতামতও যে গুরুত্বপূর্ণ, রশ্মিকার কথায় সেই বিষয়টিই উঠে এসেছে। আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডা (Vijay Deverakonda)। তাঁর মতে, কোনও দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি থাকলে শিল্পীদের ‘না’ বলার অধিকার রয়েছে। এই বিষয়টি তাঁদের বোঝানো প্রয়োজন। অভিনয়ের পেশায় যুক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে কোনও প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না কিংবা আপত্তি জানানো যাবে না। বরং শিল্পীদের নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ থাকা দরকার। বিজয়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে, অনেক সময় পেশাদারিত্বের যুক্তি দেখিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হয়, যেখানে তাঁরা নিজের অস্বস্তির কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন।
আরও পড়ুন : Aamir Khan Marriage 2026 | Who is Gauri Spratt Profession and Personal Life : তৃতীয় বিয়ের আগে চর্চায় আমির! গ্ল্যামার দুনিয়ার বাইরে থেকেও আলোচনায় গৌরী স্প্র্যাট, কে এই গৌরী?
বিজয়ের কথায়, ‘অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বোঝানোর প্রয়োজন যে, আপত্তি জানানো বা কোনও বিষয়ে না বলা স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ, অনেক সময় তাঁদের বলা হয়, তুমি অভিনেত্রী, এই ছবিতে অভিনয় করতে রাজি হয়েছ, এটাই তো তোমার কাজ।’ তাঁর মতে, এ ধরনের কথা শুনে অনেক শিল্পী নিজেদের পেশাগত যোগ্যতা নিয়েই সংশয়ে পড়ে যান। তাঁরা ভাবতে শুরু করেন, কোনও দৃশ্যে আপত্তি জানালে হয়তো তাঁদের কাজের প্রতি নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সেই আশঙ্কা থেকেই অনেকে নিজের মতামত প্রকাশ না করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিজয় আরও জানান, পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অনেক শিল্পী প্রতিবাদ করার পরিবর্তে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চান। কাজ হারানোর আশঙ্কা, পরিচালকের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কিংবা ভবিষ্যতে সুযোগ কমে যাওয়ার ভয় তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কোনও দৃশ্য নিয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কখনও কখনও সম্মতি জানিয়ে ফেলেন। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে শিল্পীদের নিজেদের মত প্রকাশের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি বলেই তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন : Yeh Jawaani Hai Deewani, Deepika Padukone Naina | দীপিকার এক সংলাপেই মুগ্ধ অ্যাকাডেমি! ১৩ বছর পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের আলোচনায় ‘ইয়ে জওয়ানী হ্যায় দিওয়ানী’
‘পেদ্দি’ ছবিতে জাহ্নবী কাপূরের উপস্থাপনা নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, রশ্মিকা ও বিজয়ের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও বিস্তৃত করেছে। নেটমাধ্যমে ছবির কিছু দৃশ্য নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, ছবিতে জাহ্নবীর অভিনয় ও চরিত্রের চেয়ে তাঁর বাহ্যিক উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কি না। তবে কোনও ছবিতে অভিনেত্রীর পোশাক বা দৃশ্যের উপস্থাপনাকে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। ছবির নির্মাতাদের পরিকল্পনা, চরিত্রের প্রয়োজন এবং শিল্পীর সম্মতি সব কটি বিষয়ই এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণী ছবিতে অন্য ভাষার অভিনেত্রীদের উপস্থিতি ও তাঁদের পর্দায় উপস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বাণিজ্যিক ছবিতে আকর্ষণীয় দৃশ্য, নাচের পর্ব এবং গ্ল্যামারনির্ভর উপস্থাপনা অনেক সময় প্রচারের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই উপস্থাপনা চরিত্রের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়। রশ্মিকার মন্তব্য সেই বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যকে ‘পেদ্দি’ ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি মূলত নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমারেখার কথাই বলেছেন। অন্যদিকে, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পেশাগত স্বাধীনতা, চরিত্রের প্রয়োজনে পোশাক নির্বাচন ও কোনও দৃশ্যে সম্মতি জানানোর বিষয়টি বিনোদনজগতের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি ছবির প্রয়োজনে শিল্পীদের নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে হয় ঠিকই, কিন্তু সেই কাজের প্রক্রিয়ায় তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়াও প্রয়োজন। রশ্মিকা মন্দানা ও বিজয় দেবরকোন্ডার বক্তব্যে সেই দিকটিই উঠে এসেছে। ‘পেদ্দি’ ছবিকে ঘিরে শুরু হওয়া আলোচনা তাই শুধু জাহ্নবী কপূরের পর্দায় উপস্থিতি নিয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, পেশাগত অধিকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সম্মতির গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan wedding, Aamir Khan third wife | ২৫৬ ঘণ্টার নিখুঁত কারুকাজে ‘অদ্বিতীয়’ আংটি! তৃতীয় বিবাহে গৌরীকে চমকে দিলেন আমির খান, জানলে অবাক হবেন উপহারের খুঁটিনাটি
Author: Sasraya News
Rashmika Mandanna bikini comment | ‘বিকিনি পরতে স্বচ্ছন্দ নই’! ‘পেদ্দি’-তে জাহ্নবীর উপস্থাপনা ঘিরে বিতর্কের মাঝেই মুখ খুললেন রশ্মিকা!
MS Dhoni 2027 IPL Future | IPL 2027-এ খেলবেন ধোনি? ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, জানালেন CSK-র প্রাক্তন অধিনায়ক
Indrani Haldar Comeback, Lakh Takar Lakshmilabh | ছোটপর্দায় ফিরছেন ইন্দ্রাণী হালদার! ‘লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ’-এ কোন ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেত্রীকে?
KIFF 2026 Dates, Suvendu Adhikari | KIFF 2026-এর দিনক্ষণ ঘোষণা, ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, থাকছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভূমিকা
BJP NCPI Alliance, Samik Bhattacharya News | পুরভোটে NCPI-এর সঙ্গে জোট নয় বিজেপির? শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা