সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিজয়া দশমীর দিন বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে এক কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল তেলঙ্গানায় (Telangana)। অভিযোগ, তাকে পাশের গ্রামে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায় সাত জন। অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জন নাবালক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে সাত অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত উৎসবের দিনে, যখন কিশোরীর বাবা-মা মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন ও গ্রামের বহু মানুষ মেলা দেখতে ব্যস্ত ছিলেন। বাড়ি ফিরে মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর পর দিন সকালে গ্রামের কাছ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ। তার পর পরিবারের সদস্যেরা পুলিশের কাছে গিয়ে ঘটনার বিবরণ দেন। বর্তমানে অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর দিন বাড়িতে একাই ছিল কিশোরী। তার বাবা-মা কাজের জন্য মাঠে গিয়েছিলেন। অন্য দিকে, গ্রামের অনেক বাসিন্দা উৎসব উপলক্ষে মেলা দেখতে বেরিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সাত অভিযুক্ত কিশোরীর বাড়িতে ঢোকে বলে অভিযোগ। তারা তার মুখ চেপে ধরে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। আচমকা এমন ঘটনার ফলে কিশোরী সাহায্য চাইতে পারেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় বাড়িতে পরিবারের অন্য কেউ উপস্থিত না থাকায় ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে জানাজানি হয়নি।
এর পর কিশোরীকে নিয়ে পাশের গ্রামে যায় অভিযুক্তেরা। সেখানে সাত জন মিলে তার উপর যৌন নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করা ও কে কী ভূমিকা নিয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা পুলিশের দায়িত্ব। কিশোরীর বয়ান, পরিবারের অভিযোগ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কাজ সেরে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তার বাবা-মা। প্রথমে আশপাশের বাড়ি ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেন তাঁরা। গ্রামের বাসিন্দাদের কাছেও কিশোরীর সন্ধান জানতে চান পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু কেউ তাকে দেখেছেন বলে জানাতে পারেননি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়েও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়।
অবশেষে পর দিন সকালে গ্রামের কাছাকাছি একটি জায়গা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্তেরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যায়। বাড়িতে ফিরে কিশোরী তার বাবা-মাকে ঘটনার কথা জানায়। মেয়ের কাছ থেকে পুরো বিষয়টি শোনার পর তাঁরা আর দেরি করেননি। কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের কাছে যান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।
আরও পড়ুন : Kiss Day 2026: শুধু ঠোঁটে ঠোঁট নয়, চুম্বনের আছে বিজ্ঞান, ইতিহাস ও বহু রূপ, জানেন সবটা?
কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মামলায় পকসো আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি এই আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। তদন্তকারী এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার সাত অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন নাবালক। অভিযুক্তদের বাড়ি চেরিয়াল এবং ধুলমিট্টা গ্রামে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হওয়া মানেই অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। তদন্তে সংগৃহীত তথ্য এবং পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। অভিযুক্তদের মধ্যে নাবালক থাকায় তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও বিচারপ্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা জরুরি। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তার নাম, ছবি কিংবা পরিচয় প্রকাশ পেলে ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
শিশু ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের ঘটনায় শুধু আইনি পদক্ষেপই নয়, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সহায়তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানসিক পরিচর্যা কিশোরীর সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালীন গুজব ছড়ানো কিংবা ঘটনার বিষয়ে যাচাই না করা তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
তেলঙ্গানার এই ঘটনার পাশাপাশি কয়েক মাস আগে অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) পালানাড়ু জেলার মাচেরলা শহরেও এক সরকারি কর্মীর উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, জল খাওয়ার কথা বলে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকেছিলেন। ঘটনার সময় মহিলা বাড়িতে একাই ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মহিলা নিজেকে এইচআইভি আক্রান্ত বলে জানানোর পর অভিযুক্ত তাঁর যৌনাঙ্গে লোহার রড ঢুকিয়ে দেন। ওই অভিযোগ সামনে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দু’টি ঘটনাই আলাদা তদন্তের বিষয়। তবে বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় অপরাধের শিকার হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা, অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্রুত পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। কোনও অপরাধের দায় কখনও ভুক্তভোগীর উপর চাপানো যায় না। অপরাধের তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার।
তেলঙ্গানার ঘটনায় এখন পুলিশের তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই লক্ষ্য রয়েছে। সাত অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে তদন্তকারীরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জন নাবালক থাকায় তাঁদের বিষয়ে প্রযোজ্য আইনি বিধান মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে ও আদালতে অভিযোগের কী পরিণতি হয়, তা পরবর্তী সময়ে জানা যাবে। তার আগে কিশোরী ও তার পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Physical Abuse | উদয়পুরে আতিথেয়তার মুখোশে বর্বরতা, ফরাসি পর্যটকের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে চাঞ্চল্য



