সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) রাজনৈতিক জীবনের ২৫ বছরের প্রশাসনিক পর্ব পূর্তিকে সামনে রেখে দেশজুড়ে কর্মসূচি সাজিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। আগামী ৭ অক্টোবর ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ নামে দেশব্যাপী পদযাত্রার আয়োজন করতে চলেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও এই কর্মসূচি হবে। রাজ্যের ২৩টি প্রশাসনিক জেলায় জেলা সদরে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)-এর ভাষণ শোনানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভাষণ পর্ব শেষ হওয়ার পর মশাল হাতে পদযাত্রায় অংশ নেবেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সেবা সঙ্কল্প অভিযান’-এর শেষ পর্ব হিসেবে ৭ অক্টোবর ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিন থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল এই কর্মসূচি। একাধিক সাংগঠনিক ও জনসংযোগমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলা এই অভিযান শেষ হবে ৭ অক্টোবর।
রাজ্য বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দিন পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রশাসনিক জেলার সদর এলাকায় কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। জেলার পরিস্থিতি ও জায়গার সুবিধা অনুযায়ী কোথাও প্রকাশ্য স্থানে, আবার কোথাও ইনডোর স্টেডিয়ামে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই স্ক্রিনে সরাসরি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভাষণ শোনানোর ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসূচির সূচনায় নিতিন নবীন এবং নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। ভাষণ শেষ হওয়ার পরেই শুরু হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। হাতে মশাল নিয়ে পথে হাঁটবেন বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকেও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র দলীয় কর্মসূচীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনসম্পৃক্ততার পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা থাকবে বিজেপির।
এই কর্মসূচীর পিছনে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ প্রশাসনিক পথচলার হিসাব। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেই পদে তিনি টানা প্রায় ১৩ বছর ছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে। সেই নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন মোদী। এর পর ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদে তাঁর ধারাবাহিক যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রায় ১৩ বছর এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছর, এই দুই পর্বের সময়কাল মিলিয়েই ৭ অক্টোবর তাঁর সরকারের প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে আনছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিসরে এত দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের শীর্ষ পদে থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেশব্যাপী এই কর্মসূচী আয়োজন করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে এই আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ২৩টি প্রশাসনিক জেলার সদরকে কেন্দ্র করে কর্মসূচির স্থান চিহ্নিত করা হবে। কোথাও বড় মাঠ বা প্রকাশ্য জায়গায় সাধারণ মানুষের জন্য জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হতে পারে। আবার জনসমাগম ও পরিকাঠামোর কথা মাথায় রেখে কোনও কোনও জেলায় ইনডোর স্টেডিয়ামও বেছে নেওয়া হতে পারে। মূল লক্ষ্য, একই সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া। জায়ান্ট স্ক্রিনে ভাষণ দেখানোর পরিকল্পনাটিও এই কর্মসূচীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জেলা সদরে জমায়েত হওয়া দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে সেই ভাষণ শুনবেন। এর পরে মশাল হাতে পদযাত্রা হবে। মশাল মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচিকে আরও দৃশ্যমান করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। দলের সাংগঠনিক পরিসরে এই ধরনের কর্মসূচী কর্মীদের এক জায়গায় আনার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করে।
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya | দুর্নীতির প্রমাণ মিললেই ব্যবস্থা! কর্মীদের কড়া নির্দেশ শমীক ভট্টাচার্যের
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রাকে সামনে রেখেই ‘সেবা সঙ্কল্প অভিযান’-এর আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির শেষ দিন হিসেবে ৭ অক্টোবরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হওয়া এই পর্ব শেষ হবে তাঁর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তির দিনেই। উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক জীবনের সময়রেখায় ৭ অক্টোবর তারিখটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ২০০১ সালের এই দিনেই তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর রাজ্যের প্রশাসনের দায়িত্ব সামলে ২০১৪ সালে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন। প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পরেও তাঁর প্রশাসনিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। বিজেপি সেই দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্বকেই এবার দলীয় কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরতে চাইছে।
পশ্চিমবঙ্গেও এই আয়োজনকে ঘিরে দলের নিচুতলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা সদরগুলিতে কর্মসূচির স্থান, জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর ব্যবস্থা এবং পদযাত্রার রুট নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বকে পরিকল্পনা করতে হবে। কর্মসূচীতে কত সংখ্যক মানুষ যোগ দেবেন, তা অবশ্য জেলা অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। বিজেপির তরফে দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচীর পাশাপাশি এই আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তিও প্রদর্শন করতে চাইছে। একই দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি প্রশাসনিক জেলায় কর্মসূচি আয়োজন করা হলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় দলের সক্রিয় উপস্থিতি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। তার সঙ্গে যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য এবং মশাল হাতে পদযাত্রা। ৭ অক্টোবরের কর্মসূচি ঘিরে তাই বিজেপির রাজ্য সংগঠনের সামনে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। জেলা স্তরে জমায়েত, জায়ান্ট স্ক্রিনে ভাষণ সম্প্রচার ও তার পরে মশাল মিছিল, তিনটি পর্বকে একসঙ্গে সফল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মোদীর প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা অবশ্য কর্মসূচির দিনেই আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত বিজেপির নজর ৭ অক্টোবরের দিকে, যেদিন একসঙ্গে রাজ্যের ২৩টি জেলা সদরে শোনা যাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য এবং তার পরেই পথে নামবেন দলের কর্মীরা।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : S Jaishankar, India US relations | আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান বুঝতে হবে বন্ধু দেশগুলিকেও, আমেরিকায় বার্তা জয়শঙ্করের




