সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি: কন্যাসন্তানকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরে কন্যা দিবসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma) রাজ্যের মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে সরকারের উদ্যোগের কথা জানালেন। রবিবার সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কন্যাসন্তানের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষেত্রে ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজুত মইনা’ প্রকল্পের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বপ্ন, সাহস ও সাফল্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান উঠে এসেছে।

কন্যা দিবস উপলক্ষ্যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যের মূল সুর ছিল মেয়েদের প্রতি পরিবারের দায়িত্ব আর তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটি কন্যাসন্তান পরিবারের কাছে দেবীর সমতুল্য। একটি পরিবারের জীবনে ভালবাসা, আনন্দ ও ভবিষ্যতের আশার আবহ তৈরি করার ক্ষেত্রে মেয়েদের ভূমিকা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাই কন্যা দিবসকে শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন, সাহস ও সাফল্যকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর কথায় ‘একটি কন্যাসন্তান একটি দেবীর সমান। প্রতিটি পরিবারে ভালবাসা, আনন্দ ও আশার সঞ্চার করার ক্ষেত্রে কন্যাসন্তানের ভূমিকার তুলনা হয় না। কন্যা দিবসের এই বিশেষ দিনে প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন, সাহস ও সাফল্যকে উদ্যাপন করা হোক।’ তাঁর এই বক্তব্যে কন্যাশিশুকে পরিবারের বোঝা নয়, ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার ভাবনাই উঠে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে মেয়েদের শিক্ষা। তিনি জানিয়েছেন, অসমের কন্যাশিশুদের শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি সূত্রে উল্লেখ, এই প্রকল্পের লক্ষ্য মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সহায়তা দেওয়া ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা কমানো। ২০২৬ সালেও প্রকল্পটির জন্য নতুন নির্দেশিকা ও সরকারি নথি প্রকাশ করেছে অসমের উচ্চশিক্ষা দফতর। উল্লেখ্য, ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্পটি অসম সরকারের মেয়েদের শিক্ষাকেন্দ্রিক অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিতে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে এই প্রকল্পে। প্রকল্পটির ভাবনা শুধু বিদ্যালয়ের গণ্ডিতে মেয়েদের ধরে রাখা নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত। অসম সরকারের একটি জেলা-স্তরের সরকারি পোর্টালেও প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হিসেবে মেয়েদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং বাল্যবিবাহের ঝুঁকি কমানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, মেয়েদের শিক্ষার পথে যে আর্থিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা থাকে, তা কমাতে এই প্রকল্প সহায়ক হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্প কন্যাশিশুদের পড়াশোনার পথে থাকা বাধা দূর করার পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করছে। মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় ধরে রাখার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সরকারের প্রকল্পের কাঠামোতেও তার প্রতিফলন রয়েছে। অসম সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতরের নথিতে ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্পের জন্য আর্থিক সহায়তাকে মেয়েদের শিক্ষায় ভর্তির উৎসাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৬ সালেও প্রকল্পটির জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ কন্যাশিক্ষাকে কেন্দ্র করে এই সরকারি কর্মসূচি এখনও রাজ্যের নীতিগত উদ্যোগের অংশ হয়ে রয়েছে।
কন্যা দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু মেয়েদের প্রতি শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি ছিল না। শিক্ষাকে মেয়েদের ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। একটি মেয়ের পড়াশোনা যত এগোয়, তার সামনে তত বেশি পেশাগত ও সামাজিক সুযোগ তৈরি হতে পারে, এই বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গেই সরকারি প্রকল্পের প্রসঙ্গটি যুক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, প্রতিটি কন্যার অগ্রগতির জন্য কাজ করে যেতে অসম সরকার সংকল্পবদ্ধ। বাংলায় তাঁর বক্তব্যের সারকথা, ‘প্রতিটি কন্যার উন্নতি ও উত্তরণের জন্য আমরা কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তাঁর এই বক্তব্যে কন্যাশিক্ষার পাশাপাশি মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের দীর্ঘ পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।
উল্লেখ্য, কন্যা দিবস প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার পালিত হয়। দিনটি মেয়েদের অধিকার, শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বপ্ন ও সমান সুযোগ নিয়ে আলোচনা করার একটি উপলক্ষ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্ব পায়। চলতি বছরেও অসমে এই দিনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা এসেছে মেয়েদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রসঙ্গ সামনে রেখে। অসমের রাজনীতিতে মেয়েদের শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে সরকারি প্রকল্পের প্রসঙ্গ নতুন নয়। ‘নিজুত মইনা’ সেই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সরকারি নথিতে উঠে এসেছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্যও এই প্রকল্পের পৃথক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল উচ্চশিক্ষা দফতর। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন নথি প্রকাশিত হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষার সঙ্গে বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গও অসম সরকারের নীতিগত আলোচনায় রয়েছে। সরকারি জেলা পোর্টালে ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হিসেবে মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া ও বাল্যবিবাহ কমানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কন্যা দিবসে প্রকল্পটির প্রসঙ্গ তুলে ধরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যে শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের দু’টি বিষয় পাশাপাশি এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে কন্যাসন্তানের প্রতি পরিবারের আবেগের পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যতের সুযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কন্যা দিবসের উপলক্ষে দেওয়া তাঁর পোস্টে একদিকে যেমন প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন ও সাফল্য উদ্যাপনের আহ্বান রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে শিক্ষার মাধ্যমে তাঁদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সরকারি উদ্যোগের উল্লেখ। ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্পকে সামনে রেখে অসম সরকার যে মেয়েদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পথে এগোচ্ছে, সেই দিকটিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সব শেষে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্যের মূল জায়গায় রয়েছে একটি বার্তা, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ গড়তে পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রেরও ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা, সুযোগ ও নিজের স্বপ্ন পূরণের পরিবেশ তৈরি হলে মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেন। কন্যা দিবসে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সেই জায়গাতেই জোর দিয়েছে। তাঁর ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি কন্যার শিক্ষার পথ সহজ করা এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখাই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mukhyamantri Mahila Udyamita Abhiyan, Himanta Biswa Sarma | বজালীতে নারীর ক্ষমতায়নের নতুন অধ্যায়, ২৮ হাজারের বেশি উপভোক্তাকে চেক প্রদান শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা




