Rimbi village landslide, West Sikkim landslide today | পশ্চিম সিকিমে ফের ধস, পাহাড় থেকে নামছে কাদা-পাথরের স্রোত! রিম্বির দিকে এগোচ্ছে ধস, আতঙ্কে বাসিন্দারা

SHARE:

টানা বৃষ্টির মধ্যে ফের বড়সড় ধসের ঘটনা পশ্চিম সিকিমে। গ্যালশিং জেলার ইয়ুকসোম-তাশিডিং (Yuksom-Tashiding) বিধানসভা এলাকার রিম্বি (Rimbi) গ্রামে নতুন করে পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি, পাথর, কাদা এবং জল নেমে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ধসের গতিপথ ক্রমশ গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকার দিকে এগিয়ে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ফলে কয়েকটি বাড়ি এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গালশিং, সিকিম : টানা বৃষ্টির মধ্যে ফের বড়সড় ধসের ঘটনা পশ্চিম সিকিমে। গ্যালশিং জেলার ইয়ুকসোম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার রিম্বি (Rimbi) গ্রামে নতুন করে পাহাড়ের ঢাল থেকে মাটি, পাথর, কাদা এবং জল নেমে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ধসের গতিপথ ক্রমশ গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকার দিকে এগিয়ে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। ফলে কয়েকটি বাড়ি এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ধস ও মাটিধসের খবর সামনে এসেছে। রিম্বিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। রিম্বি এলাকায় ধসের সমস্যা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। চলতি সেপ্টেম্বরেই একাধিক বার ওই অঞ্চলে ধস নেমেছে। সিকিম সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিম্বি ও সিংলিটাম এলাকায় ধসের পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়েছিল যে ২৮টি বাড়ির ১২৮ জন বাসিন্দাকে নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের তরফে সক্রিয় ধসের জায়গাগুলি নিয়মিত পরিদর্শন করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলেছে। এবার নতুন করে পাহাড়ের ঢাল থেকে কাদা ও পাথরের স্রোত নিচের দিকে নেমে আসায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতেও (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা সাশ্রয় নিউজ যাচাই করেনি) রিম্বি এলাকায় ধসের মাটি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে গড়িয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে মাটি আরও নরম হয়ে গেলে ধসের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ধসের গতিপথ যদি বসতিপূর্ণ অংশের দিকে আরও এগিয়ে যায়, তা হলে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

আরও পড়ুন : Himachal Monsoon Deaths, Heavy Rainfall Himachal Pradesh | ৬৪ দিনে ২৫৯ প্রাণহানি! বৃষ্টি-ধস-হড়পা বানে ভয়াবহ হিমাচল, বন্ধ ১৫০ রাস্তা

রিম্বির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরও একটি কারণ হল, পাহাড়ি এলাকার মাটিতে এখনও অস্থিরতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে ঢালের মাটির ভিতরে জল ঢুকে মাটির বাঁধন দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তার উপর পাহাড়ের উপরের অংশ থেকে পাথর ও মাটি গড়িয়ে নামলে নিচের দিকে থাকা বসতি ও রাস্তার উপর চাপ তৈরি হয়। ফলে একটি জায়গায় ধস নামার পরে তার নীচের অংশেও নতুন করে মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রিম্বিতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর পিছনেও এই পরিস্থিতি অন্যতম কারণ। গত কয়েক সপ্তাহে রিম্বি-সিংলিটাম এলাকায় ধসের ধারাবাহিকতা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর রিম্বিতে বড় ধসের জেরে সিক্সা খোলা (Siksa Khola) থেকে আসা জল ও ধ্বংসাবশেষ রাস্তার উপর নেমে এসেছিল। এর ফলে গেইজিং-পেলিং-ইয়ুকসোম (Geyzing-Pelling-Yuksom) সড়কের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, পরে প্রশাসন ও বিভিন্ন দফতরের সমন্বিত উদ্যোগে রাস্তা মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল।

তার পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিম্বিতে ফের ভারী বৃষ্টি ও ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (Sikkim State Disaster Management Authority) জানিয়েছিল, ১৪ সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি ও জলস্রোতের পরে রিম্বিতে ২৮টি বাড়ির ১২৮ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ধসপ্রবণ এলাকার কাছাকাছি থাকা পরিবারগুলির জন্য ত্রাণশিবিরের ব্যবস্থাও করা হয়। প্রশাসনের তরফে স্থানীয়দের বার বার সক্রিয় ধসের এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সময় নদী, ঝোরা, নালা এবং ধ্বংসাবশেষ জমে থাকা জায়গার কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হলে আচমকা মাটির নড়াচড়া শুরু হতে পারে। তাই কোনও জায়গায় মাটিতে নতুন ফাটল, অস্বাভাবিক শব্দ, হঠাৎ জলের স্রোত বেড়ে যাওয়া কিংবা ঢালের মাটি সরে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি।

আরও পড়ুন : Snowfall in Himachal Pradesh : সিমলায় বরফ-বৃষ্টি, প্রায় ৭০০ টি রাস্তা বন্ধ

রিম্বির পাশাপাশি পশ্চিম সিকিমের অন্য এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর রাতের অতিবৃষ্টির পরে ইয়ুকসোমের মাংতাবং (Mangtabong) গ্রামে বড় ধস নামে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবাদি পশুরও ক্ষতি হয় এবং মোট ১২টি পরিবার প্রভাবিত হয়েছিল। একজন বাসিন্দা আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগে আগস্টেও রিম্বি-সিংলিটাম এলাকায় সক্রিয় ধসের কথা জানিয়েছিল সিকিম সরকার। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, রিম্বিতে ৩০টি এবং সিংলিটামে আটটি পরিবার, মোট ১৫০ -এর বেশি মানুষ ধসপ্রবণ এলাকার মধ্যে ছিলেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থা চালাতে হয়েছিল। ফলে সেপ্টেম্বরের একের পর এক বৃষ্টিতে সেই পুরনো ঝুঁকির জায়গাগুলিই ফের সামনে এসেছে।

রিম্বির ধসের প্রভাব শুধু বাড়িঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। পাহাড়ি রাস্তায় কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ জমলে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এর আগেও রিম্বি এলাকায় ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। পাহাড়ি গ্রামগুলির ক্ষেত্রে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে শুধু যাতায়াতে সমস্যা নয়, জরুরি পরিষেবা, খাদ্য সরবরাহ, চিকিৎসা এবং স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলেও সমস্যা তৈরি হওয়া। তাই ধসের গতিপথের পাশাপাশি রাস্তার পরিস্থিতিও নজরে রাখছে প্রশাসন। শুধু পশ্চিম সিকিম নয়, রাজ্যের উত্তরাংশেও সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ধসের ঘটনা ঘটেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মাঙ্গান (Mangan) জেলার থেং টানেলের বিপরীত দিকে নাগা-তোসা রোডের নতুন কাটিং এলাকায় বড় অংশের পাহাড় ধসে পড়ে। ওই ধস তিস্তা ও চেকুঙ নদীর সংযোগস্থলের কাছে নদীর জলপ্রবাহে সাময়িক বাধা তৈরি করেছিল। প্রশাসন নদীর জলস্তর এবং নিচের এলাকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টি কমার দিকেই তাকিয়ে প্রশাসন ও বাসিন্দারা। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে সক্রিয় ধসের জায়গাগুলিতে নতুন করে মাটি নড়লে বিপদের মাত্রা বাড়তে পারে। রিম্বিতে ধসের স্রোত যে দিকে এগোচ্ছে, তার কাছাকাছি বসতবাড়ি থাকায় স্থানীয়দের উদ্বেগও বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু বাসিন্দা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে রাখছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Pezeshkian Meeting | পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদীর বৈঠক, হরমুজ নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ প্রকাশ বিশকেকে

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সিকিম সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, রিম্বি-সিংলিটাম এলাকায় ধসপ্রবণ জায়গাগুলিতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং রাস্তা, জল সরবরাহ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি কাজ করছে। এই মুহূর্তে রিম্বির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বৃষ্টির দাপট কতটা কমে ও পাহাড়ের ঢালের নড়াচড়া কত দ্রুত থামে। কারণ ধসের জায়গায় মাটি এক বার আলগা হয়ে গেলে পরবর্তী বৃষ্টিতে নতুন করে মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই স্থানীয়দের জন্য আগামী কয়েক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। সক্রিয় ধসের কাছাকাছি না গিয়ে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই এখন প্রধান সতর্কতা। রিম্বির পরিস্থিতির উপর জেলা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের নজর রয়েছে। পশ্চিম সিকিমের এই পরিস্থিতি ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ে টানা বৃষ্টির সময় ধসের ঝুঁকি কত দ্রুত বদলে যেতে পারে। এক দিকে কাদামাটি ও পাথরের স্রোত নেমে আসছে, অন্য দিকে তার গতিপথের সামনে রয়েছে বসতি ও যোগাযোগের রাস্তা। ফলে বৃষ্টি থামার অপেক্ষার পাশাপাশি রিম্বির ধসপ্রবণ ঢালের উপর নজর রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান কাজ। আপাতত স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রধান ভরসা।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, West Bengal BJP Government | অগ্রাধিকারের তালিকা স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু বছর ঘুরলেই মূল্যায়নের ডাক, নতুন সরকারের এক মাসে কোন পথে এগোচ্ছে বাংলা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন