Delhi building collapse, Gandhi Nagar Delhi building | দিল্লিতে আচমকা হেলে পড়ল পাঁচতলা বাড়ি, চওড়া ফাটলে আতঙ্ক : খালি করা হল গোটা ভবন

SHARE:

পূর্ব দিল্লির গান্ধীনগরে আচমকা হেলে পড়ল পাঁচতলা বাড়ি। একাধিক ফাটল দেখা দেওয়ায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দুপুরে আচমকাই এক দিকে হেলে পড়ল পাঁচতলা বাড়ি। দেওয়াল ও কাঠামোর একাধিক জায়গায় দেখা গেল চওড়া ফাটল। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়াল দিল্লির (Delhi) পূর্ব প্রান্তে। বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি ভবনের বাসিন্দাদের বাইরে বার করে আনল প্রশাসন। বাড়িটির আশপাশের এলাকাও ঘিরে ফেলা হয়েছে। আপাতত সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার পূর্ব দিল্লির গাঁধীনগর (Gandhi Nagar) এলাকার চাঁদ মহল্লায়। দমকল সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ ওই বাড়ি হেলে পড়ার খবর আসে তাদের কন্ট্রোল রুমে। সৎসঙ্গ মার্গের কাছে একটি পাঁচতলা বাড়ি আচমকা এক দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে জানানো হয়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলকর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় থানার পুলিশ এবং দিল্লি পুরসভার কর্মীরাও। বাড়িটির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনও ভাবেই বাসিন্দাদের ভিতরে রাখা নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন : Satya Niketan Building Collapse, Delhi PG Accident News | ১৮ হাজার টাকা শয্যার ভাড়া, তবু দায় নেবে না মালিক! দিল্লির ভেঙে পড়া PG -এর মুচলেকা ঘিরে চাঞ্চল্য

ঘটনাস্থলে গিয়ে পুর আধিকারিকেরা বাড়িটির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন। তাঁদের নজরে আসে একাধিক জায়গায় ফাটল। বাড়িটির কাঠামোগত পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সেটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাড়ির ভিতরে থাকা মানুষজনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত ভবনটিতে কাউকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক তদন্তে উল্লেখ, পাঁচতলা ওই বাড়িটির একতলায় একটি গুদামঘর রয়েছে। দ্বিতীয় তলা খালি ছিল। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দু’টি পরিবার ভাড়ায় থাকত। বাড়িটি হেলে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দুই ভাড়াটিয়া পরিবারকেও দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে তাঁরা ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান। কোনও হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।

বাড়িটির পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুর কর্তৃপক্ষ মালিককেও কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা ভবনটি ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের তরফেও বাড়িটির মালিককে নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, বাড়িটির কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে গেলে যে কোনও সময় বড় অংশ ভেঙে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই ভবনটি খালি করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার আরপি মীনা জানিয়েছেন, সোমবার বাড়িটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার আগে হেলে পড়া কাঠামোটি যাতে আচমকা ভেঙে না পড়ে, তার জন্য অস্থায়ীভাবে একটি জ্যাক বসানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বাড়িটির পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত ভবনটির চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাড়িটির আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বিপজ্জনক ভবনের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে। বাড়িটি ভেঙে পড়লে আশপাশের বাড়ি বা রাস্তায় থাকা মানুষের বিপদ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবারের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক দিন আগেই দিল্লির সত্যনিকেতন (Satya Niketan) এলাকায় একটি হস্টেলবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছিল। ওই ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়। পর পর ভবন বিপর্যয়ের ঘটনায় রাজধানীতে পুর প্রশাসনের নজরদারি ও পুরনো বা ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দিল্লিতে বহু এলাকায় পুরনো বাড়ি রয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কোনও বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ার পরেও যদি সেটিতে মানুষ বসবাস করতে থাকেন, তা হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ে। গাঁধীনগরের ঘটনাতেও প্রশাসন তাই ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, বাড়িটি হেলে পড়ার বিষয়টি আচমকা নজরে আসায় আতঙ্ক তৈরি হয়। ভবনের কাঠামোয় একাধিক ফাটল দেখা যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। খবর পাওয়ার পর দমকল, পুলিশ এবং পুরসভার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোয় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভবনটির কী কারণে এই পরিস্থিতি হল, তা এখনও জানা যায়নি। বাড়িটি নির্মাণের সময়, কাঠামোর বয়স, রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থা এবং হেলে পড়ার সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাটির পরিস্থিতি বা ভবনের কাঠামোগত কোনও ত্রুটি এর পিছনে রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত হতে পারে। প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।

এই ঘটনার পরে আশপাশের ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি পাঁচতলা বাড়ি আচমকা হেলে পড়ার ঘটনায় অন্য পুরনো বাড়িগুলির বাসিন্দারাও সতর্ক হয়েছেন। দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটির সঙ্গে আর একটি বাড়ি লাগোয়া থাকায় কোনও ভবন ধসে পড়লে তার প্রভাব পাশের কাঠামোয় পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিপজ্জনক বাড়িটির চারপাশে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এখন মূল লক্ষ্য, সোমবার নির্ধারিত সময়ে নিরাপদে ভবনটি ভেঙে ফেলা ও তার আগে পর্যন্ত কোনও ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো। অস্থায়ী জ্যাক বসিয়ে বাড়িটিকে ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ এলাকা ঘিরে রেখেছে। স্থানীয় মানুষকেও ওই বাড়ির কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সত্যনিকেতনের সাম্প্রতিক ভবনধসের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই গাঁধীনগরে পাঁচতলা বাড়ি হেলে পড়ার ঘটনা রাজধানীর পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলির নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল। আপাতত কোনও প্রাণহানি না হলেও বিপজ্জনক কাঠামোটি দ্রুত সরিয়ে না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। তাই প্রশাসনের নজর এখন সোমবারের ভাঙার কাজ ও তার আগে ভবনটির নিরাপত্তার দিকেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BRICS Summit | Modi Xi Jinping meeting, Xi Jinping India visit : গালওয়ানের পর প্রথম দিল্লিতে শি জিনপিং, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত-বাণিজ্য থেকে ব্রহ্মপুত্র, নজরে একাধিক বড় ইস্যু

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন