সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ অযোধ্যা: রাম মন্দিরের (Ram Mandir) পরিচালন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন। এবার প্রথমবারের জন্য নিয়োগ করা হল চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার বা CEO, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্রকে (Jitendra Mishra) এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই আধিকারিক অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের দায়িত্বে ছিলেন। মন্দিরের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন এবং পরিচালন ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত করাই তাঁর দায়িত্বের অন্যতম অংশ হতে চলেছে। রাম মন্দির নির্মাণের পর থেকে মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব মূলত ট্রাস্টের হাতেই ছিল। কিন্তু সম্প্রতি অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগ ঘিরে তদন্ত শুরু হওয়ার পর প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতে CEO পদ তৈরি করে দায়িত্বশীল এক আধিকারিককে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মন্দিরের বিপুল পরিমাণ অনুদান, দৈনন্দিন প্রশাসন এবং বিভিন্ন পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে CEO -এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
জীতেন্দ্র মিশ্রকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াও ছিল দীর্ঘ। এই পদের জন্য মোট ৫৫৮৫টি আবেদন জমা পড়েছিল বলে সূত্রের খবর। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলির (Pramod Kohli) নেতৃত্বাধীন একটি প্যানেল প্রার্থীদের বাছাইয়ের দায়িত্বে ছিল। ৬০০ নম্বরের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হয়। সেই ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৬ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে থেকেই জীতেন্দ্র মিশ্রকে এই পদের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার ক্ষমতার মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে একটি বড় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় জীতেন্দ্র মিশ্র অন্যদের তুলনায় এগিয়ে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রাম মন্দিরের মতো বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনা এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেনের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কে এই জীতেন্দ্র মিশ্র? ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাইটার পাইলট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পুনের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (National Defence Academy) থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর এয়ার ফোর্স পাইলট স্কুলেও পড়াশোনা করেছেন। কর্মজীবনে দেশ-বিদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তাঁর শিক্ষাজীবনের যোগ রয়েছে। বায়ুসেনায় প্রায় ৩৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের মে মাসে অবসর নেন জীতেন্দ্র মিশ্র। দীর্ঘ সামরিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তাঁর কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা মেডেল (Sarvottam Yudh Seva Medal), অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল (Ati Vishisht Seva Medal) ও বিশিষ্ট সেবা মেডেল (Vishisht Seva Medal) পেয়েছেন। অপারেশন সিঁদুরের সময় ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের নেতৃত্বে তাঁর ভূমিকার কথাও সামনে এসেছে।
রাম মন্দির ট্রাস্টে শুধু CEO নিয়োগেই পরিবর্তন থেমে থাকছে না। জীতেন্দ্র মিশ্রের পাশাপাশি আরও তিনজনকে ট্রাস্টের কাজে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মদন মোহন পাণ্ডে (Madan Mohan Pandey), মহেশ বাগচন্দকা (Mahesh Bagchandka) ও নির্মলা যাদব (Nirmala Yadav)। নতুন নিয়োগের ফলে ট্রাস্টের প্রশাসনিক কাঠামো আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাম মন্দিরের অনুদানের অর্থ চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি পদ থেকে চম্পত রাই (Champat Rai) ইস্তফা দেন। এরপরই মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
নতুন CEO-র দায়িত্বের মধ্যে মন্দির পরিচালনার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের উপর নজর রাখা, প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় এবং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মতো বিষয় থাকতে পারে। রাম মন্দিরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ফলে নিরাপত্তা, দর্শনার্থী পরিষেবা, অনুদান ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন প্রশাসনের কাজ সামলাতে একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রয়োজন। সেই জায়গায় নতুন CEO-র দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জীতেন্দ্র মিশ্রের নিয়োগ তাই শুধু একটি প্রশাসনিক পদে নতুন মুখ আসা নয়, রাম মন্দির পরিচালন ব্যবস্থায় একটি সূচনা পর্ব হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সামরিক জীবনে অর্জিত নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবার কীভাবে মন্দির পরিচালনায় কাজে লাগে, সেদিকেই নজর থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal food safety raid, rotten meat in Madhyamgram food court | মধ্যমগ্রামের মলে কেজি কেজি পচা মাংস! বাদুড়িয়ার রেস্তোরাঁয়ও উদ্ধার, খাদ্য দফতরের অভিযানে চাঞ্চল্য




