সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ২ সেপ্টেম্বরে : টানা বৃষ্টির পর বুধবার সকালেই কলকাতার আকাশে দেখা মেলে রোদের। কয়েক ঘণ্টার জন্য মেঘের ঘনঘটা কিছুটা কমতেই স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছিল শহর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে সরে গেলেও তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain) সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জলাধার ও ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ায় দামোদর অববাহিকার জেলাগুলিতে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। আলিপুরে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় জল জমে নাগরিক দুর্ভোগ বাড়ে। বুধবার সকাল থেকে কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির পর্ব এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি হতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির দাপট বেশি থাকতে পারে। পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বীরভূমে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। নিম্নচাপের অবস্থান পরিবর্তনের কারণেই বৃষ্টির প্রভাবের ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আসে। উত্তর ওড়িশা ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ক্রমশ পশ্চিম ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও মধ্য অংশে সকালের দিকে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হতে শুরু করে। নিম্নচাপের পশ্চিমমুখী গতিই এবার অন্য আশঙ্কা তৈরি করেছে। ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি হলে তার জল নেমে আসতে পারে বাংলার নদীগুলিতে। সেই পরিস্থিতিতে দামোদর অববাহিকায় জলস্তর বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসি (Damodar Valley Corporation) জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত ডিভিসি থেকে প্রায় ৭০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকেও প্রায় ৮৫,২০০ কিউসেক জল ছাড়ার খবর মিলেছে।
জল ছাড়ার এই পরিমাণ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমানে বৃষ্টির সঙ্গে দুর্গাপুর ব্যারাজে জলস্তরের চাপও বাড়ছে। দামোদরের তীরবর্তী হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। নদীতে জলের পরিমাণ আরও বাড়লে নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও জলযন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকছে। শুধু ডিভিসি নয়, ঝাড়খণ্ডের গালুডি জলাধার থেকেও বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার খবর সামনে এসেছে। প্রায় ১.৫ লক্ষ কিউসেক হারে জল ছাড়ার ফলে তার প্রভাব ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জল ঢুকে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদী ও জলাধারগুলির পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের নজর রয়েছে।
কলকাতার পরিস্থিতিতেও নজর রাখছে পুর প্রশাসন। কারণ অল্প সময়ের মধ্যে প্রবল বৃষ্টি হলে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়তে পারে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমার ছবি সামনে এসেছে। বুধবার সকালের রোদ দেখে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলাতেও বুধবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং-সহ পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়েছে দার্জিলিংয়ের পর্যটন ব্যবস্থাতেও। দার্জিলিং টয় ট্রেন স্টেশনে টিনের শেড ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে বুধবার সকালে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে রোদ উঠলেও স্বস্তির জায়গা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এক দিকে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা, অন্য দিকে ঝাড়খণ্ডের বৃষ্টির জল আর জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার পরিস্থিতি দুই দিকেই লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে প্রশাসনকে। নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ এবং নদীর জলস্তরের পরিবর্তনই ঠিক করবে দক্ষিণবঙ্গে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Indian GDP growth 7.8 percent, PM Narendra Modi GDP speech | ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পর মোদীর নিশানা রাহুলকে, বিদেশ ভ্রমণ-বিয়ে-সোনা নিয়ে দেশবাসীকে তিন পরামর্শ




