সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : এশিয়ান গেমসে (Asian Games) ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা শেষ পর্যন্ত কিছুটা কাটতে চলেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) -সহ এশিয়ার একাধিক ক্রিকেট বোর্ড আবাসন এবং মাঠের পরিকাঠামো নিয়ে আপত্তি জানানোর পর এ বার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলল জাপানের ক্রিকেট প্রশাসন। জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (Japan Cricket Association) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রিকেট দলগুলি চাইলে আয়োজকদের নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী হোটেলেও থাকতে পারবে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনা চলছে। ক্রিকেটারদের থাকার ব্যবস্থা গেমস ভিলেজের কাছাকাছি না হওয়া, অস্থায়ী আবাসন ও সাজঘরের পরিকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর। এমনকি ভারতীয় দলকে দ্বিতীয় সারির ক্রিকেটারদের নিয়ে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী নাওকি অ্যালেক্স মিয়াজি (Naoki Alex Miyaji) বিষয়টি নিয়ে অবস্থান জানিয়ে বলেছেন, ক্রিকেট দলগুলির জন্য হোটেলে থাকার বিকল্প রাখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘ক্রিকেট দলগুলি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী হোটেলের ব্যবস্থা করতে পারে। আয়োজক কমিটির সঙ্গে থাকার বিষয়টি নিয়ে এসিসির আলোচনা বেশ কিছু দিন ধরে চলছে। ক্রিকেট দলগুলির জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ জাপানের বক্তব্য অনুযায়ী, এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া সমস্ত দলের জন্য একই ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। কিছু দলের জন্য তাঁবু ও নোঙর করা জাহাজে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার ক্রিকেট দলগুলির মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি দলের ক্ষেত্রে হোটেলে থাকার বিকল্প রাখা হচ্ছে। ফলে আবাসন নিয়ে যে আপত্তি উঠেছিল, তার কিছুটা সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আয়োজকদের সামনে অবশ্য বড় আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জাপানের তরফে জানানো হয়েছিল, গেমসের বাজেট নতুন করে বাড়ানো সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থেকেই বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার আবাসনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। এই কারণেই গেমস ভিলেজের বাইরে অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। নাওকি মিয়াজি আরও জানিয়েছেন, গেমস ভিলেজে স্থায়ী ও অস্থায়ী, দুই ধরনের আবাসন রয়েছে। খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত এলাকায় প্রয়োজনীয় শৌচালয় এবং অন্যান্য মৌলিক সুবিধা রাখা হয়েছে। মাঠ ও অনুশীলন পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও অস্থায়ী ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘সময় এবং পরিকাঠামোর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মধ্যেই খেলোয়াড়দের জন্য যতটা সম্ভব ভাল ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।’
ক্রিকেট দলের সাজঘর নিয়েও আপত্তি উঠেছিল। বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, অস্থায়ী সাজঘর আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। জাপানের ক্রিকেট প্রশাসন অবশ্য সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। মিয়াজির দাবি, সাজঘর অস্থায়ী হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থাকবে। তাঁর কথায়, ‘সাজঘরগুলি অস্থায়ী হলেও ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকবে। এগুলি আরামদায়ক করে তৈরি করা হয়েছে। মাঠের পাশের স্থায়ী পরিকাঠামোও ব্যবহার করা যাবে।’ এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট যে মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, সেই নিশিনের কারোগি স্পোর্টস পার্ক (Nishin Karogi Sports Park) নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থার দাবি, মাত্র ১৭ মাসের মধ্যে মাঠটি তৈরি করা হয়েছে। আইচি অঞ্চলে আগে ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় বড় পরিকাঠামো না থাকায় কার্যত শূন্য থেকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। মিয়াজি জানিয়েছেন, সময় ও অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ আয়তনের ক্রিকেট মাঠ তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের পিচ তৈরির জন্য অভিজ্ঞ পিচ প্রস্তুতকারককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্য জায়গায় পিচ তৈরি করে পরে সেটি মাঠে স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই কাজে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছেন জাপানের ক্রিকেট প্রশাসনের প্রধান।
জাপানের ক্রিকেট সংস্থার বক্তব্য, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের জন্য মাঠ প্রস্তুত। একই মাঠে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচও আয়োজন করা হবে। ফলে মাঠটি শুধু এশিয়ান গেমসের জন্য তৈরি করা হয়নি, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের কথাও মাথায় রাখা হয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। এদিকে আবাসন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া (OCA) পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। সংস্থার দাবি, এশিয়ান গেমসের অনুমোদিত অংশগ্রহণকারীদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। আয়োজকদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ১৭ হাজারেরও বেশি নথিভুক্ত খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার জন্য গেমস উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওসিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়েছে, তাঁদের জন্য থাকার ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া নতুন করে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও থাকছে না। আয়োজকদের দাবি, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।
ক্রিকেট নিয়ে সমস্যাটি অন্য খেলাগুলির তুলনায় বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রধান দেশগুলি তাদের প্রথম সারির খেলোয়াড়দের পাঠালে প্রতিযোগিতাটির আকর্ষণ অনেকটাই বাড়বে। উল্টো দিকে আবাসন ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শীর্ষ ক্রিকেটারদের না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলে ক্রিকেট ইভেন্টের মান ও দর্শক আগ্রহে প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেট দলগুলির জন্য আলাদা হোটেল বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আপাতত একটি সমাধানের পথ দেখিয়েছে। তবে দলগুলি নিজেদের খরচে হোটেল নেবে কি না, থাকার ব্যবস্থা কী ভাবে হবে এবং গেমস আয়োজকদের সঙ্গে সেই সমন্বয় কী ভাবে করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। তবে জাপানের ক্রিকেট প্রশাসনের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে, ক্রিকেট দলগুলির থাকার ক্ষেত্রে আয়োজকেরা বিকল্প ব্যবস্থা রাখছেন। ফলে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া আবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন লক্ষ্য থাকবে ভারত-সহ অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড এই প্রস্তাব কী ভাবে গ্রহণ করে তার দিকে। শীর্ষ ক্রিকেটারদের এশিয়ান গেমসে পাঠানো হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটকে ঘিরে ভারতীয় দলের অবস্থান বদলালে গোটা প্রতিযোগিতার ক্রিকেট ইভেন্টেই তার প্রভাব পড়তে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs Sri Lanka Test, Shubman Gill WTC final | গলের দুর্গ জয় করে শুভমনের বার্তা, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ভারতের আসল লক্ষ্য’




