সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিশ্ব অর্থনীতিতে নানা ধরনের অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হওয়ার পরেই বিরোধীদের নিশানা করেন তিনি। নাম না করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকেও (Rahul Gandhi) কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও (SCO) সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছেন মোদী। সেখান থেকেই মঙ্গলবার সকালে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করে দেশের অর্থনীতি নিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য জানান। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি আর্থিক বছর ২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এর আগে বৃদ্ধির হার নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তার তুলনায় এই পরিসংখ্যান অনেকটাই বেশি। প্রত্যাশিত বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৭.১ শতাংশ। ফলে সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের পর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের তরফে নতুন করে আশাবাদী বক্তব্য সামনে এসেছে।
এই পরিসংখ্যানের প্রসঙ্গ তুলেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার দেশের জন্য একটি শক্তিশালী সংখ্যা। এর ফলে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ছে।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতির কথাও। আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও অতিমারির পরবর্তী অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলেছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখন যুদ্ধ ও সঙ্কট চলছে। সরবরাহ শৃঙ্খলও নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোভিড অতিমারির পর থেকে অর্থনীতির সামনে একের পর এক চ্যালেঞ্জ এসেছে। তার মধ্যেও ভারত দ্রুত এগোচ্ছে।’ দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতির সাফল্যের কথাই তিনি তুলে ধরেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
জিডিপি বৃদ্ধির প্রসঙ্গ থেকে রাজনৈতিক বিরোধিতার দিকেও বক্তব্য ঘুরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের একটি অংশ হতাশা ছড়ানোর পাশাপাশি ভুল তথ্য প্রচার করছে। মোদী বলেন, ‘ভারত যখন ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাঁরা নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।’ এই বক্তব্যের পরেই রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক কর্মসূচীকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। রাহুলের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামের কর্মসূচীর উল্লেখ করে মোদী তার নাম বদলে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ বা ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ বলে কটাক্ষ করেন। যদিও নিজের বক্তব্যে রাহুল গাঁধীর নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মনির্ভরতার উপরেও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে দেশীয় উৎপাদন, স্বদেশি পণ্য এবং আত্মনির্ভরতার দিকে আরও মনোযোগ প্রয়োজন। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় একটি উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্য নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ‘স্বদেশি পণ্য ও আত্মনির্ভরতার উপর আরও গুরুত্ব দিলে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময়ে নতুন প্রজন্মের হাতে উন্নত ভারত তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।’ অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পছন্দেরও ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সেই প্রসঙ্গেই দেশবাসীর জন্য তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রথম পরামর্শ, শুধুমাত্র অবসর কাটাতে বিদেশে যাওয়ার বদলে দেশের পর্যটনস্থলগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে ও দেশীয় পর্যটন বাড়লে তার সুফল স্থানীয় অর্থনীতিতেও পৌঁছতে পারে বলে কেন্দ্রের তরফে বার বার বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় পরামর্শটি বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিদেশে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বড় ধরনের অনুষ্ঠান দেশের মধ্যেই আয়োজন করা হলে সেই অর্থ দেশের বিভিন্ন পরিষেবা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তৃতীয় পরামর্শ সোনার বাজার নিয়ে। প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়ার কথা বলেছেন মোদী। তাঁর মতে, অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনার পরিবর্তে সেই অর্থ অন্য কোনও উৎপাদনশীল ক্ষেত্রে ব্যবহার করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই এক দিকে উঠে এসেছে জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান, অন্য দিকে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সাধারণ মানুষের ভূমিকার কথা। আন্তর্জাতিক সঙ্কটের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সামনে রেখে সরকারের নীতির পক্ষে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি বিরোধীদের সমালোচনাও করেছেন তিনি।
বিশকেক থেকে প্রকাশিত ভিডিয়োবার্তায় মোদীর বক্তব্যে অর্থনীতি ও রাজনীতি পাশাপাশি জায়গা পেয়েছে। ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের সাফল্যের দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই বিরোধীদের তথ্য প্রচার নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে পর্যটন, দেশীয় বিয়ে ও সোনা কেনার মতো ব্যক্তিগত আর্থিক সিদ্ধান্তের সঙ্গেও দেশের অর্থনীতির সম্পর্ক তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কতটা বজায় থাকে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা তার উপর কী প্রভাব ফেলে ও দেশীয় চাহিদা ও উৎপাদন কতটা বাড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে। তবে আপাতত ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও নতুন করে জোর পেয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shreyas Iyer Backup, Gautam Gambhir World Cup Plan | শ্রেয়সের বিকল্প তৈরি করছে ভারত! বিশ্বকাপের আগে তিলককে নিয়ে বড় পরিকল্পনা গম্ভীর-আগরকরদের, নজরে অফ স্পিনও




