West Bengal three IITs | বাংলায় তিন IIT-এর পরিকল্পনা, শিবপুরকে IIT করার প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা  ২৩ আগস্ট ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য সরকার। খড়গপুরের পর বাংলায় আরও দু’টি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা IIT গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, শিবপুরকে (IIEST Shibpur) IIT-এর মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি IIT প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে দেশের প্রথম রাজ্য, যেখানে তিনটি IIT থাকবে।

আরও পড়ুন : BRICS Summit 2026 India, Modi Pezeshkian meeting | সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে পেজেশকিয়ান, BRICS সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা! নজরে চবাহার-সহ ভারত-ইরান সম্পর্ক

 

বর্তমানে রাজ্যে IIT খড়গপুর (IIT Kharagpur) রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে IIT খড়গপুর দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার উচ্চশিক্ষার অন্যতম বড় পরিচয়। তার সঙ্গে শিবপুরের IIEST-কে IIT -এর মর্যাদা দেওয়া হলে কলকাতা ও হাওড়া অঞ্চলে প্রযুক্তি শিক্ষার পরিসর আরও বাড়বে। উত্তরবঙ্গে নতুন IIT প্রতিষ্ঠিত হলে রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগের ব্যবধানও অনেকটা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একটি বৈঠকের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার IIEST শিবপুরকে IIT-তে উন্নীত করার প্রস্তাব পাঠাতে আগ্রহী। কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব এলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে বলেও কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে বহু বছর ধরে দেশের প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা শিবপুরের প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ মর্যাদা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

IIEST শিবপুরের ইতিহাসও এই প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান একসময় বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তী সময়ে সেটি বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি বা BESU-তে পরিণত হয়। দীর্ঘ ঐতিহ্য, বিস্তৃত পরিকাঠামো, শিক্ষক-গবেষকদের কাজ এবং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তনীদের নেটওয়ার্কের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই প্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা জায়গা ধরে রেখেছে। উল্লেখ্য, আনন্দকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশের পর ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে IIEST হিসেবে উন্নীত করা হয়। এরপর ২০১৪ সালের মার্চে এটি ‘ইনস্টিটিউট অফ ন্যাশনাল ইমপর্ট্যান্স’ বা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পায়। IIT-র সমতুল্য কিছু বৈশিষ্ট্য থাকলেও IIEST হিসেবে তার নিজস্ব কাঠামো রয়েছে। এবার রাজ্য সরকার সেই প্রতিষ্ঠানকেই IIT-এর মর্যাদায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিতে চাইছে।

রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay) জানিয়েছেন, IIEST শিবপুরের পরিকাঠামো ও ক্যাম্পাসের বিস্তার অনেক নতুন IIT -এর সঙ্গে তুলনীয়। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানটি IIT হলে কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকায় প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য আরও একটি বড় কেন্দ্র তৈরি হবে। এর ফলে দেশ-বিদেশের মেধাবী পড়ুয়াদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুধু শিবপুর নয়, পরিকল্পনার দ্বিতীয় অংশটি উত্তরবঙ্গকে ঘিরে। শিলিগুড়ি (Siliguri) ও তার আশপাশের এলাকায় নতুন IIT স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ নিয়েও আলোচনা চলছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গে IIT এবং IIM প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাজ্যের অনুরোধ তারা পেয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গে উচ্চশিক্ষার নতুন পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা কেবল রাজনৈতিক ঘোষণা হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসনিক আলোচনার পর্যায়েও রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে IIT তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু শিলিগুড়ি বা দার্জিলিং জেলার পড়ুয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার পড়ুয়ারা বাড়ির কাছাকাছি বিশ্বমানের প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ পেতে পারেন। বর্তমানে IIT বা এই ধরনের জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য অনেক পড়ুয়াকেই রাজ্যের বাইরে যেতে হয়। উত্তরবঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে সেই নির্ভরতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা এবং শিল্পক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একটি IIT-কে ঘিরে গবেষণাগার, প্রযুক্তি সংস্থা, স্টার্টআপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ প্রকল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। উত্তরবঙ্গের মতো অঞ্চলে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও প্রযুক্তির যোগাযোগ বাড়লে তরুণ প্রজন্মের জন্য রাজ্যের মধ্যেই নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

IIEST শিবপুরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ ইতিহাস এবং প্রাক্তনীদের বিস্তৃত পরিসর IIT মর্যাদা পেলে আরও শক্তিশালী হতে পারে। ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। সম্প্রতি নতুন ছাত্রাবাসও চালু হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের আবাসন সংক্রান্ত চাপ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বেশি পড়ুয়া ও গবেষককে জায়গা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই ধরনের পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষার পরিসর অবশ্য এখনই ছোট নয়। IIT খড়গপুরের পাশাপাশি কলকাতায় IIM কলকাতা (IIM Calcutta), দুর্গাপুরে NIT দুর্গাপুর (NIT Durgapur), শিবপুরে IIEST এবং কল্যাণীতে IIIT কল্যাণীর (IIIT Kalyani) মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু IIT-এর সংখ্যা বাড়লে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার পরিকাঠামোয় তার আলাদা গুরুত্ব থাকবে। বিশেষ করে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দরজা খুলতে পারে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Seychelles, India Seychelles relations | সেশেলসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত, স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদী, ভারত-সেশেলস সম্পর্কে নতুন গতি

তবে শিবপুরকে IIT-তে উন্নীত করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনুমোদনই বড় বিষয়। রাজ্যের প্রস্তাব পাওয়ার পর কেন্দ্রকে প্রতিষ্ঠানটির পরিকাঠামো, প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক প্রয়োজন, শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর-সহ একাধিক দিক পর্যালোচনা করতে হবে। একইভাবে উত্তরবঙ্গে নতুন IIT তৈরির ক্ষেত্রেও জমি, অর্থ, পরিকাঠামো এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিচালনার বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা সফল হলে বাংলার উচ্চশিক্ষায় একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। খড়গপুর, শিবপুর ও উত্তরবঙ্গ এই তিন ভৌগোলিক অঞ্চলে IIT গড়ে উঠলে প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। কলকাতা-কেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও জাতীয় স্তরের প্রযুক্তি শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে মেধাবী অথচ আর্থিক বা ভৌগোলিক কারণে রাজ্যের বাইরে যেতে না-পারা পড়ুয়াদের জন্য এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনটি IIT-কে ঘিরে গবেষণা ও শিল্পের নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রযুক্তি-ভিত্তিক অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। শিবপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নতুন পরিচয় পেতে পারে, আর উত্তরবঙ্গে তৈরি হতে পারে নতুন প্রযুক্তি শিক্ষার কেন্দ্র। এখন নজর থাকবে রাজ্য সরকারের প্রস্তাব কবে কেন্দ্রের কাছে পৌঁছয় ও তার পর কেন্দ্রীয় স্তরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে IIT খড়গপুরের পাশাপাশি শিবপুর ও উত্তরবঙ্গ এই দুই নতুন কেন্দ্র বাংলার উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে বড় সংযোজন হয়ে উঠতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajnath Singh West Bengal, Suvendu Adhikari defence project | ৩৪০০ কোটির প্রকল্পে বাংলায় তৈরি হবে যুদ্ধজাহাজ! কী পরিকল্পনা রাজনাথ ও শুভেন্দুর?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন